• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৪৭ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

চিত্রা সেতুর নাম হচ্ছে শেখ রাসেল সেতু

সিসি ডেস্ক: নড়াইল জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, শেখ রাসেলের নামে চিত্রা সেতুটির নামকরণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সেতুটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হলেও পরবর্তীতে আনুষ্ঠানিক ভাবে এটি উদ্বোধন করা হবে। তবে এখনও উদ্বোধনের তারিখ নির্ধারিত হয়নি।

জানা গেছে, জেলার পুরাতন ফেরিঘাটে নির্মিত চিত্রা সেতু যোগাযোগের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এ সেতুটিকে কেউ কেউ নড়াইলবাসীর স্বপ্নের সেতু হিসেবে অভিহিত করেছে। সেতুটি নির্মাণের ফলে নড়াইল জেলা সদর থেকে লোহাগড়া, কালিয়া, ঢাকা, গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর, খুলনা ও যশোরের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজতর হয়েছে। এ সেতু নির্মাণের আগে নড়াইল থেকে রুপগঞ্জ, ভিক্টোরিয়া কলেজমোড়, ধোপাখোলা, আউড়িয়া ঘুরে লোহাগড়া, কালিয়াসহ অন্যান্য জায়গায় যেতে হতো। ৭ থেকে ৮ কিলোমিটার আঁকাবাকা পথ পাড়ি দিতে আধাঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টা সময় বেশি লাগতো।

এতে প্রশাসনের লোকজনসহ সাধারণ মানুষের জরুরি কাজকর্মে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটতো। দূরদূরান্ত থেকে আ্যম্বুলেন্সে বা অন্যান্য যানবাহনে নড়াইল সদর হাসপাতাল বা বেসরকারি ক্লিনিকে জরুরি রোগী আনার ক্ষেত্রে জীবন বিপন্নের আশঙ্কা দেখা দিতো। গত ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবসে এ সেতুটি যানবাহন চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়ায় সহজ ও নিরাপদে সকল শ্রেণী ও পেশার মানুষ জেলা সদর থেকে বিভিন্ন জায়গায় যাতায়াতের সুযোগ পাচ্ছেন।

নির্ধারিত সময়ের প্রায় এক মাস আগেই এ সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ করে যানবাহন ও জনসাধারণের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়েছে বলে জানান স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল অধিদপ্তর, নড়াইলের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আবু ছায়েদ।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা যায়, নড়াইল শহরের সাবেক ফেরিঘাট এলাকায় ২৯ কোটি ১১ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৪০ মিটার দীর্ঘ এ সেতুটি নির্মিত হয়েছে। এ সেতুর দু’পাশে ২৩৭ দশমিক ৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের ফ্লাইওভারের মতো দেখতে ভায়াডাক্ট নির্মিত হয়েছে। সেতুটির প্রস্থ ৫ দশমিক ৪৬ মিটার বা ১৮ ফুট। পানির স্তর থেকে সেতুর উচ্চতা ৭ মিটার। দুই পাশে অ্যাপ্রোচ সড়ক আছে ৪৩১ মিটার।

নড়াইল এলজিইডির উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম জানান, ২০১৫ সালের ৩০ এপ্রিল সেতুটির নির্মাণ কাজ শুরু হয় এবং নির্ধারিত সময়ের এক মাস আগে সেতুটির নির্মাণ কাজ শেষ হয়। বাস, ট্রাক, কার, মাইক্রোবাসসহ সব ধরনের যানবাহন চলাচলের উপযোগী করে এ সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছে এবং কোনো প্রকার টোল ছাড়াই এ সেতু দিয়ে যানবাহন চলাচল করছে বলে তিনি জানান।

নড়াইল জেলা আইনজীবী সমিতির সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুস ছালাম খান বলেন, পুরাতন ফেরিঘাটে চিত্রা সেতু চালুর ফলে জেলা শহরের সাথে গ্রামাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হয়েছে।এ সেতু চালুর আগে লোহাগড়া ও কালিয়ায় যেতে ৭ থেকে ৮ কিলোমিটার সড়ক বেশি পাড়ি দিতে হতো। এতে অতিরিক্ত ব্যয়সহ সময়ের অপচয় হতো। এখন অফিসগামী লোকজনসহ স্কুল, কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা সহজে যাতায়াত করতে পারছেন। কৃষিপণ্যসহ সবজি পরিবহনও সহজতর হয়েছে।

এলজিইডি সূত্রে আরো জানা যায়, ২০০৯-১০ অর্থবছরে লোহাগড়া উপজেলার লাহুড়িয়া-নলদী সড়কে ৪৮লাখ ১০হাজার টাকা ব্যয়ে ১৮মিটার দৈর্ঘ্যের ৪টি কালভার্ট, ২০১২-১৩ অর্থবছরে শিয়রবর-মিঠাপুর সড়কে ২৯লাখ ৭৮ হাজার টাকা ব্যয়ে ৮মিটার দৈর্য্যরে ২টি কালভার্ট, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে সদর উপজেলার শাহাবাদ-হবখালী সড়কে দুই কোটি টাকা ব্যয়ে ৩৬মিটার দৈর্য্যরে ১টি সেতু, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে সদর উপজেলার গাবতলা-মাইজপাড়া সড়কে ছয় কোটি ৩৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ৯০মিটার দৈর্য্যরে ১টি সেতু, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে সদর উপজেলার তুলারামপুর-শেখহাটি সড়কে ১ কোটি ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে ২০মিটার দৈর্য্যরে ১টি সেতু নির্মিত হয়েছে। এছাড়া লোহাগড়া উপজেলার এড়েন্দা-মানিকগঞ্জ বাজার সড়কে ১০ কোটি ১৯ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৭৫ মিটার দৈর্য্যরে ১টি সেতু নির্মাণাধীন রয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ