সিসি নিউজ: চাল সংকটে পড়ে দেশ যখন বেসামাল, ঠিক তখনই বাংলাদেশ সরকারের কাছ থেকে চাল ধার করে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে খাওয়ানো হচ্ছে। এমন তথ্য জানিয়ে খাদ্য বিভাগের মহাপরিচালক বদরুল হাসান জানান, তাৎক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি সামলাতে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর ও বিশ্ব খাদ্য কমসূচি (ডব্লিউএফপি) আমাদের কাছে চাল সহায়তা চেয়েছেন। মানবিক বিপর্যয়ের এই সময় আমরা সহানুভূতিশীল। তাই সাড়ে ৫ হাজার টন চাল তাদের কাছে সরবরাহ করেছি। তাদের যত চাল প্রয়োজন, খাদ্য অধিদপ্তর সরবরাহ করতে সক্ষম বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এই চাল সরবরাহকে কেন ‘ধার’ বলছেন, জানতে চাইলে মহাপরিচালক বলেন, তারা (ইউএনএইচসিআর ও ডব্লিউএফপি) চালের জন্য কোনো টাকা দেবে না। চালের পরিবর্তে চালই দেবে বলে কথা রয়েছে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া এ প্রসঙ্গে বলেন, সরকার রোহিঙ্গাদের সাময়িক আশ্রয়দান সম্পূর্ণ মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করছে। এত বিপুলসংখ্যক বিদেশি নাগরিকের আশ্রয়দান বাংলাদেশের জন্য কষ্টকর হলেও এ মানবিক সংকটে রোহিঙ্গাদের সাময়িক সময়ের জন্য সীমান্তবর্তী একটি এলাকায় আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তাদের জন্য বাংলাদেশের পক্ষে সম্ভব সব ধরনের মানবিক সহায়তা নিশ্চিতের চেষ্টা করা হচ্ছে।
মন্ত্রী বলেন, ২৫ আগস্টের পর থেকে নতুন করে বিপুলসংখ্যক মিয়ানমার নাগরিক জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদী ও সাগরপথে বাংলাদেশে আসছে। ২৫ আগস্টের পর থেকে আজ পর্যন্ত অনানুষ্ঠানিকভাবে ৩ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে তাদের আসার হার অনেক বেশি। এরা যেন কোনোভাবেই অন্ন, বস্ত্র, চিকিৎসা ও বাসস্থানের কষ্টে না ভোগে, সে জন্য সব ব্যবস্থাই নেওয়া হয়েছে।