• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৪৭ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়ায় বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়েছে মিয়ানমার

সিসি ডেস্ক: রাখাইন রাজ্যে সেনা অভিযানে জীবন বাঁচাতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা যাতে পুনরায় ভিটেমাটিতে না ফিরতে পারে এবং নতুন করে যাতে কোনো রোহিঙ্গা পালিয়ে আসতে না পারে তার জন্য এবার কাঁটাতারের বেড়ার সঙ্গে বৈদ্যুতিক সংযোগ দিতে শুরু করেছে মিয়ানমার সরকার। দেশটির বিদ্যুৎ প্রকৌশল বিভাগের কর্মীরা সীমান্তের ৩০টি পয়েন্টে বৈদ্যুতিক শকসিস্টেমের জন্য সমপরিমাণ জেনারেটর বসিয়ে রোহিঙ্গাদের ফাঁদে ফেলে মারতে উদ্যত হয়েছে। পাশাপাশি এ তারের আশপাশে দ্বিতীয় দফায় স্থলমাইনও পুঁতে রেখেছে অপর একটি দল। এক কথায় বর্তমানে ৩ স্তরের সীমান্ত বেড়ার আদলে বলয় সৃষ্টি করে রোহিঙ্গা পারাপার ঠেকাতে এ কৌশল নিয়েছে মিয়ানমার সরকার। ফলে সীমান্তে নতুন করে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে রোহিঙ্গা ও স্থানীয়দের মাঝে। গত বুধবার থেকে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার লেবুছড়ি, ফুলতলী, আশারতলী, চাকঢালা, ঘুমধুম, তমব্রু ও জলপাইতলী সীমান্তে মিয়ানমারের বর্ডার গার্ড পুলিশ ও সে দেশের সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে এ অপতৎপরতা চলছে বলে নিশ্চিত করেছেন সীমান্ত থেকে আসা একদল রোহিঙ্গা। তারা এখন কুতুপালং ক্যাম্পে অবস্থান করছে।

এ দলের একজন আবদুস সালাম (৩৫)। তার বাড়ি মিয়ানমারের রাশিদং এলাকায়। প্রত্যক্ষদর্শী এ রোহিঙ্গা বলেন, এবারে নতুন ফাঁদে আটকে পড়ে অনেক রোহিঙ্গা মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়তে পারে। কেননা কেউ তো জানে না ওখানে বিদ্যুৎ দেয়া হয়েছে। তাই তিনি গণমাধ্যমে বিষয়টি সবাইকে অবহিত করছেন। ঘুমধুম সীমান্তের জিরো পয়েন্টে আটকে থাকা আরেক রোহিঙ্গা আবু বকর জানান, তিন ধরনের কৌশল করে তাদের মারতে চেষ্টা করছে মিয়ানমার। প্রধম দফায় কাঁটাতার দ্বিতীয়ত মাইন আর শেষতক কাঁটাতারে বিদ্যুৎ সংযোগ।

স্থানীয়দের ধারণা, আর কোনো রোহিঙ্গা যাতে মিয়ানমারে প্রবেশ করতে না পারে বা মিয়ানমারে থেকে বাংলাদেশে চলে যেতে না পারে সে জন্য ক্ষতিগ্রন্ত কাঁটাতারের বেড়ার সঙ্গে এভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ এবং পুনরায় মাইন স্থাপন করা হচ্ছে। বর্তমানে সীমান্তের আট পয়েন্টে একযোগে স্থলমাইন এবং বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য কাজ চলছে বলে নিশ্চিত করেছেন রোহিঙ্গা নেতারা।

সীমানা ঘেঁষে তাঁবু তৈরি করে শ্রমিক দিয়ে কাঁটাতারের বেড়া মেরামত করছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। পাশাপাশি গত কয়েকদিন ধরে নতুন করে বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে জেনারেটরে কাঁটাতারের সঙ্গে বিদ্যুৎ সংযোগ দিচ্ছে। সীমান্তের যেসব পয়েন্টে কাঁটাতারের বেড়া ক্ষতিগ্রস্ত করে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করছে মূলত সেসব পয়েন্টগুলোই মেরামত করা হচ্ছে। একইসঙ্গে কাঁটাতারের বেড়ার অদূরে মাইনও বসানো হচ্ছে।

এ বিষয়ে ৩১ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল আনোয়ারুল আজিম জানান, মিয়ানমার কাঁটাতারের বেড়া মেরামত করছে শুনেছি। এ ছাড়া জেনারেটরের বিষয়টিও শুনেছি, এখনো নিশ্চিত হইনি। তবে আজকালের মধ্যে নিশ্চিত হওয়া যাবে। বিষয়টি মিয়ানমার সরকারের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, এ নিয়ে ভাবনার দরকার নেই। তবে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা যেন কোনো কারণে আবার সেখানে না যায় সে জন্য তাদের সতর্ক করা হচ্ছে নানাভাবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ