আজমল হক আদিল, বদরগঞ্জ (রংপুর): রংপুরের বদরগঞ্জ বাজারে ২০ টাকায় ২০ টি কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে। দাম বেশি হবার কারনে ভোক্তরা পড়েছেন বিপাকে। প্রতিদিনের রান্নায় অত্যাবশ্যকীয় উপাদান এই কাঁচা মরিচ। ফলে না কিনেও উপায় নেই ভোক্তাদের। দাম চড়া হবার কারনে প্রয়োজনের তুলনায় কম কিনছেন ক্রেতারা। এ দিকে দাম বেশি হবার কারনে কৃষকরা রয়েছেন ফুরফুরে মেজাজে।
সরেজমিনে বাজার ও কৃষকদের মরিচ ক্ষেত ঘুরে দেখা গেছে, এ বছর ভয়াবহ বন্যায় মরিচ ক্ষেতের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। শুধুমাত্র উঁচু জমি যেখানে পানি জমেনি সেখানকার জমিতেই বর্তমানে মরিচ রয়েছে। এ কারনে বাজার অত্যন্ত চড়া।
কথা হয় বদরগঞ্জ উপজেলার রামনাথপুর ইউপির ঝাকুয়াপাড়া গ্রামের মরিচ চাষি বদন আলির(৭৫)সাথে তিনি জানান; আমার তিন বিঘা জমিতে মরিচ ছিল। ২ বিঘার মরিচ বন্যায় সম্পুর্ন রুপে নষ্ট হয়ে গেছে। বাকি ১ বিঘার মরিচ দিয়েই চলছে আমার সংসার।
তিনি আরও জানান; পাইকাড়ি বাজারে প্রতি কেজি মরিচ ১৫০ টাকা দরে বিক্রি করছি। খুচরা বাজারে মরিচ ২শত টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
একই গ্রামের মরিচ চাষি এমারুল হক(৫৯)জানান; বদরগঞ্জের ৮০ভাগ মাটি পলি ও উর্বর দো-আঁশ হওয়ায় মরিচ জাতীয় ফসল এখানে বেশ ভাল হয়। আমিও এবছর ৩বিঘা জমিতে মরিচ চাষ করেছিলাম। আড়াই বিঘার জমির কাঁচা মরিচ বন্যায় নষ্ট হয়ে গেছে। বাকি ১০ কাঠার মরিচ বিক্রি করেই ক্ষতি পোষানোর চেষ্টা করছি।
তিনি আরও জানান,মরিচের দাম বেশি হবার কারনে আল্লাহ্র অশেষ রহমতে ক্ষতি অনেকটা কাটিয়ে উঠতে পেরেছি।
কথা হয় কাঁচামাল ব্যবসায়ি শাহিন মিয়ার সাথে,তিনি জানান; গত কয়েকদিন ধরে কাঁচা মরিচের দাম কেজি প্রতি ২শত টাকায় বিক্রি করছি। এ ছাড়া বেগুন করলা পটোল,শশা,লাউ এগুলোর দামও বাড়তির দিকে।
বদরগঞ্জ উপজেলা উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা কনক চন্দ্র রায় জানান; গোটা উপজেলা বন্যার কারনে সব্জি ক্ষেত নষ্ট হয়ে গিয়েছিলো। যার প্রভাব পড়েছে সব্জি বাজারে।
তিনি আরও জানান; আর কয়েকদিন পরেই সব্জি বাজারের স্বাভাবিকতা ফিরে আসবে।