জয়পুরহাট প্রতিনিধি: জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে মওলানা ভাসানীর স্থাপন করা মহীপুর হাজী মহসীন সরকারি কলেজ এখন নানা সংকটে জর্জরিত। এক দিকে শিক্ষক-কর্মচারী এবং শ্রেণী কক্ষ সংকটের কারনে কলেজটির পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে অন্যদিকে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতসহ ব্যাপক অনিয়ম-দূর্নীতির অভিযোগে চলছে উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত। এতে কার্যত স্থবির হয়ে পরেছে শিক্ষাঙ্গনটির স্বাভাবিক কার্যক্রম ।
জানা গেছে, জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলা সদর থেকে তিন কিলোমিটার দুরে ১৯৬৯ সালে মহীপুর হাজী মহসীন সরকারী কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী। এরপর কলেজটি জাতীয়করণ হয় ১৯৮২ সালে। কলেজটিতে অনার্স কোর্স চালু থাকা ৬টি বিভাগ সহ উচ্চ মাধ্যমিক ও পাসকোর্সে এখন পড়ালেখা করছেন প্রায় চার হাজার শিক্ষার্থী। যাদের পাঠদানে ৫১ জন শিক্ষকের স্থলে কর্মরত আছেন মাত্র ২৪ জন। আবাসিক ব্যবস্থা না থাকায় একটি মাত্র বাসে কলেজে সময়মত যাতায়াতেও বিঘœ ঘটছে শিক্ষার্থীদের। দীর্ঘদিন সংস্কার অভাবে অন্য ভবনগুলোও জরাজীর্ণ। ফলে ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান। কলেজটির উপাধাক্ষ্য অধ্যাপক আমিনুল হক সরকার, সহকারী অধ্যাপক আনোয়ার হোসেনসহ অন্যান্য শিক্ষক কর্মচারীরাগন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সমস্যাগুলোর দ্রুত সমাধানের দাবী জানান।
একদিকে কলেজটির এমন দূরাবস্থা, অন্যদিকে অধ্যক্ষ বরজাহান আলীর বিরুদ্ধে উঠেছে অনিয়ম-দূর্নীতির নানা অভিযোগ। এর মধ্যে অধ্যক্ষকে ম্যানেজ করে হিসাব বিজ্ঞান বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক মোস্তাকুল আল সামস্ অষ্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত স্ত্রী-সন্তানদের সাথে বছরের অধিকাংশ সময় কাটান বলেও অভিযোগ উঠেছে। এতে নিয়মিত ক্লাস করতে না পারায় পরীক্ষার ফলাফলে অনিশ্চয়তার কারনে উৎকন্ঠায় রয়েছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। এ ছাড়া ভূয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অবিযোগ, তার এই অনিয়ম-দূনীর্তিতে সূযোগ-সুবিধা নিয়ে সহায়তা দিচ্ছেন কলেজের উচ্চমান সহকারী কাম ক্যাশিয়ার বাবুল আখতার, যিনি নানা অপরাধে একাধিক বার গেছেন জেল-হাজতে। এসব অভিযোগ করেন কলেজটির অনার্স কোর্সের ব্যাবস্থাপনা বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের মাহমুদ হোসেন মামুন, রাষ্ট্রবিজ্ঞান তৃতীয় বর্ষের বিল্লাল হোসেন, বিবিএ’র প্রথম বর্ষের লিটন হোসেন, স্থানীয় প্রতিবাদী যুবক সুশান্ত কুমার ঘোষসহ নাম প্রকাশে অনেচ্ছুক অনেক শিক্ষার্থীসহ এলাকাবাসী।
তারা অভিযোগে আরো জানান, প্রতি বছর প্রায় ৪ হাজার শিক্ষার্থীর প্রত্যেকের নিকট থেকে প্রতি বছর পরিবহন বাবদ ৫’শ টাকা তুললেও একটি মাত্র ভাঙ্গাচুরা বাস চলাচল করে। বিনোদনের কোন প্রতিযোগীতা বা খেলাধুলা না হলেও এ জন্য প্রতি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ফিস আদায় করা হয়। বিভিন্ন পরীক্ষার ফি বাবদ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, কলেজের পরিত্যাক্ত ভবন সংস্কারের নামে বরাদ্দকৃত অর্থ লুটপাট ও কলেজ ক্যাম্পাসের গাছ কেটে বিক্রি করে তা আত্মসাতের অভিযোগও করেছেন তারা।
তাদের লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে রাজশাহী অঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের পরিচালক অধ্যাপক ড. আব্দুল মান্নান সরকারের নেতৃত্বাধীন ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গত ১৫ অক্টোবর কলেজটিতে সরেজমিনে তদন্ত করে গেছেন। তিনি জানান, “বিষয়টি এখনো তদন্তাধীন রয়েছে, তাই বিস্তারিত কিছু বলা সমীচিন হবে না, যা সঠিক তাই হবে, এ টুকু আশ্বস্থ করতে পারি।”
এ ব্যাপারে জানতে উচ্চামান সহকারী বাবুল আখতারের অফিসে গেলে বলা হয় তিনি ছুটিতে রয়েছেন বলে প্রতিবেদককে বলা হয়। পরে কলেজটির এমন বেহাল অবস্থাসহ অভিযোগগুলির ব্যাপারে জানতে অধ্যক্ষ অধ্যাপক মোঃ বরজাহান আলী’র সাথে দেখা করতে তার অফিসে গেলেও তাকে না পাওয়ায় অভিযোগ ও তদন্তের সত্যতা স্বীকার করে উপধ্যাক্ষ আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘যেহেতু বিষয়টি তদন্তাধীন, তাই এ ব্যাপারে বিস্তারিত আর কিছু মন্তব্য করা ঠিক হবে না।’
এসব সংকট ও অনিয়ম দুর করে মওলানা ভাসানীর স্বপ্নের এই বিদ্যাপীঠে উন্নত শিক্ষা নিশ্চিত করতে আন্তরিক হবেন সংশ্লিষ্টরা, এমন প্রত্যাশা জেলাবাসীর।