আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পাকিস্তানে আইন ও বিচারমন্ত্রী জাহিদ হামিদের পদত্যাগের দাবিতে সহিংস বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে শনিবার থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ছয়জন নিহত ও ২১৭ জন আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বহুসংখ্যক সদস্যও রয়েছে। খবর দৈনিক ডন।
ধর্মঘটকারীদের উচ্ছেদের জন্য পুলিশ অভিযান শুরু করলেও তা সফল না হওয়ায় সরকার সেনা তলব করে। তবে সেনাদেরকে সেভাবে রাস্তায় দেখা যায়নি বরং বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে করাচি, লাহোর, পেশোয়ারসহ পাকিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ সব শহরে। অবস্থান ধর্মঘটকারীদের উচ্ছেদের জন্য আদালত তিনদিনের সময়সীমা বেধে দিয়েছে সরকারকে।
এদিকে, পরিস্থিতি মোকাবেলায় রবিবার পাক প্রধানমন্ত্রী শাহীদ খাকান আব্বাসির নেতৃত্বে জরুরি বৈঠক হয়েছে। এতে উপস্থিত ছিলেন সেনাপ্রধান জেনারেল কামার জাভেদ বাজওয়া, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এহসান ইকবাল, পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ ও সেনা গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইর মহাপরিচালক নাভিদ মুখতার। এর আগে সেনাপ্রধান বাজওয়া সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর সংক্ষেপ করে দেশে ফিরে যান।
অবস্থান ধর্মঘটকারীরা জাহিদ হামিদকে মন্ত্রিসভা থেকে বরখাস্তের দাবি জানাচ্ছে। তাদের অভিযোগ, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথবাক্য পড়ানোর সময় থেকে রাসূলুল্লাহ (সা.) এর উপাধি খাতামুল আম্বিয়া বা শেষ নবী কথাটি বাদ দিয়ে মন্ত্রী ইসলাম অবমাননা করেছেন।
উল্লেখ্য, মন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে পাকিস্তানে বিক্ষোভকারীরা তেহরিকে লাব্বাইক ইয়া রাসূলুল্লাহ পার্টি গঠন করে গত ৮ নভেম্বর থেকে ইসলামাবাদে অবস্থান ধর্মঘট করে আসছে। তারা ওই দিন থেকে নগরীর ফয়জাবাদ মহাসড়ক বন্ধ করে দিয়ে মন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি জানাতে থাকে। ফয়জাবাদ হচ্ছে ইসলামাবাদে প্রবেশের প্রধান রুট। মন্ত্রী নিজের ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চাওয়ার পরও বিক্ষোভকারীরা তা মানতে নারাজ।
পাকিস্তানে ইসলামপন্থীদের বিক্ষোভ ঠেকাতে সেনাবাহিনী তলব
পাকিস্তানে ইসলামপন্থীদের বিক্ষোভে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার পর রাজধানী ইসলামাবাদে সেনাবাহিনী তলব করা হয়েছে। শনিবার বিকেলে সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছে দেশটির সরকার।
আইনমন্ত্রী জাহিদ হামিদের বিরুদ্ধে ব্লাসফেমি বা ধর্ম অবমাননার অভিযোগ এনে কয়েক সপ্তাহ আগে থেকে বিক্ষোভ শুরু করে ইসলামপন্থীরা। তার অপসারণের দাবিতে তখন থেকেই তারা ফইজাবাদ হাইওয়ের মোড়ে অবস্থান নেয়।
সেখান থেকে তাদের সরানোর অভিযান শুরু হলে তাদের সাথে পুলিশের সংঘর্ষ শুরু হয়। পুলিশ বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে টিয়ারগ্যাস ও রাবার বুলেট ছুড়লে তারা ইটপাটকেল ছুড়ে জবাব দেয়। এতে আহত হয় অন্তত ২০০ জন। পরে করাচিসহ আরো কয়েকটি শহরে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
এ সময় আইনমন্ত্রীর বাড়ির একাংশে ভাঙ্গচুর করে বিক্ষোভকারীরা। যদিও সে সময় আইনমন্ত্রী বা তার পরিবারের কেউ বাড়িতে ছিলেন না। এরপরই শহর কর্তৃপক্ষের অনুরোধে ইসলামাবাদে সেনাবাহিনী তলব করা হয়। যদিও সেনা দপ্তর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোন বিবৃতি দেয়া হয়নি।
নির্বাচনী শপথের একটি অংশে ইসলামের নবী মোহাম্মদের উল্লেখ বাদ পড়ার পর আইনমন্ত্রী জাহিদ হামিদ অপসারণ চেয়ে বিক্ষোভ শুরু করে ইসলামপন্থীরা। যদিও এ ঘটনা একজন ক্লার্কের ভুলে হয়েছে জানিয়ে ক্ষমা প্রার্থনাও করেছিলেন হামিদ।