ঢাকা, ৩০ নভেম্বর: বাংলাদেশ সফরে এসেও ‘রোহিঙ্গা’ শব্দটি উচ্চারণ করেননি ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের প্রধান ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিস। সফরের প্রথম দিন আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে বঙ্গভবনে একান্ত বৈঠক শেষে দেওয়া বক্তব্যে তিনি একবারের জন্যও রোহিঙ্গা শব্দ উচ্চারণ করেননি। তবে প্রতিবেশী মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আসা বিপুলসংখ্যক মুসলিম শরণার্থী সংকট মোকাবেলায় বিশ্ব সম্প্রদায়কে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান পোপ।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পোপ বাংলাদেশে আসার আগে মিয়ানমার সফর করেন। সেখানেও তিনি দেশটির সরকার এবং সেনাবাহিনীর আপত্তির কারণে ‘রোহিঙ্গা’ শব্দটি উচ্চারণ করেননি।
বাংলাদেশে এসে রোহিঙ্গা শব্দের স্থলে পোপ ‘রাখাইন রাজ্য থেকে আসা শরণার্থী’ বলে বক্তব্যে উল্লেখ করেন। তিনি এসব শরণার্থীদের মানবিক সহায়তা এবং সংকট নিরসনে সবাইকে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।
গত ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের সেনাবাহিনী রাখাইনে অভিযান চালানোর পর থেকে নির্যাতনের মুখে প্রাণ বাঁচাতে প্রায় ৭ লাখ রোহিঙ্গা মুসলিম বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।
জাতিসংঘ অভিযোগ করেছে, রাখাইনে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ‘জাতিগত নিধন’ ও গণহত্যা চালিয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও মিয়ানমারের কড়া সমালোচনা করেছে। তাদের সুরে সুর মিলিয়ে মিয়ানমার সফরের আগে পোপ বলেছিলেন, ‘আমাদের রোহিঙ্গা ভাই-বোনের সংকটে আমি ব্যথিত।’ অথচ গত মঙ্গলবার মিয়ানমার এসে সেই পোপের মুখে ‘রোহিঙ্গা’ শব্দটা একবারও উচ্চারিত হলো না।