• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:২২ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

সোনা চোরাচালানের দায়ে বিমানকে ২০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড

সিসি ডেস্ক, ০৯ জানুয়ারি : সোনা চোরাচালানের দায়ে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে ২০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড করেছে ঢাকা কাস্টম হাউস। একই সঙ্গে চোরাচালানকৃত পণ্য বহনের দায়ে বিমানের বোয়িং ৭৩৭ উড়োজাহাজ (এস২-এএইচভি) ময়ূরপঙ্খীকে বাজেয়াপ্ত করেছে কাস্টম। তবে ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দিয়ে উড়োজাহাজটি অবমুক্তির সুযোগ দিয়েছে কাস্টম হাউস।

বিমান ও কাস্টম সূত্রে জানা জানায়, ২০১৭ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর ঢাকা কাস্টম হাউসের কমিশনার প্রকাশ দেওয়ান স্বাক্ষরিত এক বিচার আদেশে (বিচার আদেশ নম্বর ১৭১/কাস/২০১৭) বিমানকে এ দণ্ড দেওয়া হয়। ২০১৬ সালের ১২ মে সন্ধ্যা ৬ টা ৩০ মিনিটে হজরত শাহাজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যাংকক থেকে আসা বিজি ০৮৯ ফ্লাইট থেকে ১০ কেজি ৩০০ গ্রাম ওজনের সোনা চোরাচালানের ঘটনায় এ দণ্ড দেওয়া হয়। সেই ফ্লাইটে উড়োজাহাজের টয়লেটের বিভিন্ন অংশ থেকে ১০ কেজি ৩০০ গ্রাম সোনা জব্দ করা হয় । এগুলোর মধ্যে ৯৯৮ গ্রাম ওজনের ৮টি ও ১১৬ গ্রাম ওজনের ২০টি স্বর্ণের বার রয়েছে। জব্দকৃত সোনার মূল্য ৫ কোটি ১৫ লাখ টাকা। এ ঘটনায় ২০১৬ সালের ১৫ মে মামলা করা হয় (মামলা নম্বর ১২৩/২০১৬)। এ চোরাচালানের ঘটনায় বিমানকে কারণ দর্শানোর নোটিশের পাশাপাশি ৪ দফা শুনানিতে অংশ নিতে চিঠি দেয় ঢাকা কাস্টম হাউস।

সূত্র জানায়, বিমান পক্ষ থেকে নোটিশের জবাব ও একটি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়। তবে কোনও শুনানিতে অংশ নেয়নি বিমান। ঘটনার একটি তদন্ত প্রতিবেদন কাস্টম হাউসে জমা দেয় বিমান। বিমানের সূত্রে জানা গেছে, সেই ফ্লাইটে দু’জন ককপিট ক্রু এবং ৪ জন কেবিন ক্রু ছিলেন। তারা হলেন,পাইলট তাসমিন দোজা, ফার্স্ট অফিসার মুনজেরিন রায়ান, জুনিয়র পার্সার ফ্লোরা নাসরিন, শফিকা নাসিম নিম্মি, ফ্লাইট স্টুয়ার্ড সালাউদ্দিন চৌধুরী, শামিমা নাসরিন মৌ।

এ ঘটনায়  মহাব্যবস্থাপক (সিএমআইএস) হাসান আহমেদ চৌধুরীকে আহ্বায়ক ও প্রিন্সিপাল ইঞ্জিনিয়ার কোয়ালিটি অ্যাস্যুরেন্স মো. শফিকুল আলমকে সদস্য করে দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে বিমান। সেই তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, একক কোনও যাত্রীর মাধ্যমে এ চোরাচালানের চেষ্টা হয়নি। একটি চক্র এ সোনা পাচারের চেষ্টা করতে পারে। এ পাচারের সহায়তাকারী হিসেবে কোনও ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা না হলে বিমানের ক্যাটারিং সার্ভিস ও প্রকৌশল বিভাগের কেউ জড়িত বলে উল্লেখ করা হয়।

কাস্টম হাউসের বিচার আদেশের পর্যালোচনায় বলা হয়, বিমানের তদন্ত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, কোনও যাত্রী উড়োজাহাজে ১০ কেজির বেশি মালামাল নিয়ে উড়োজাহাজে উঠতে পারবেন না। তারপরও যাত্রী শুধু ১০ কেজি ৩০০ গ্রাম সোনার বার ও হাত ব্যাগ নিয়ে কিভাবে উঠলেন তার ব্যাখ্যা নেই। ঘটনার দিন বিমানের টয়লেট খোলার জন্য প্রথমে যে টেকনিশিয়ান আসেন তিনি টয়লেট না খুলে জানান যে, এ টয়লেট বিমান ক্রয়ের পর থেকে কেউ খুলেনি। পরবর্তীতে চিফ ইঞ্জিনিয়ারের অনুমতি সাপেক্ষে ইঞ্জিনিয়াররা টয়লেট খোলেন ও সোনা উদ্ধার করেন। ফলে প্রথম টেকনিশিয়ানের বক্তব্য মিথ্যা, অথচ তদন্ত প্রতিবেদনে তাকেও সন্দেহ করা হয়নি। তদন্ত প্রতিবেদনের ৬ নম্বর অনুচ্ছেদে সন্দেহ করা হয় দুবাই, মাস্কট থেকে সোনাগুলো বিমানে ওঠানো হতে পারে। এজন্য বিমানের প্রকৌশল বিভাগ ও বিএফসিসিকে প্রাথমিকভাবে দায়ী করা হয়। বিমানের প্রকৌশল বিভাগের লাইন মেইন্টেনেন্স এবং বেস মেইন্টেনেন্সকেও সন্দেহ করা হয়।

মামলার বিবরণী থেকে জানা গেছে, ২০১৬ সালের ১৫ মে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ব্যাংকক থেকে আগত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি ০৮৯ ফ্লাইট অবতরণ করে। সোনা চোরাচালানের গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঢাকা কাস্টম হাউসের প্রিভেন্টিভ দল সেদিন এই ফ্লাইট অবতরণ করলে বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নেয়। ফ্লাইটের যাত্রীদের ওপর নজরদারি রাখা হয়। যাত্রীরা উড়োজাহাজ থেকে নেমে যাওয়ার পর উড়োজাহাজে বিভিন্ন সংস্থার উপস্থিতিতে তল্লাশি চালায় প্রিভেন্টিভ দল। তল্লাশির এক পর্যায়ে উড়োজাহাজের পেছনের টয়লেট থেকে বাদামি রঙয়ের একটি প্যাকেট উদ্ধার করা হয়। এরপর উড়োজাহাজের টয়লেটগুলোতে আরও নিখুঁতভাবে তল্লাশির জন্য বিমানের প্রকৌশল বিভাগে টেকনিশিয়ান পাঠাতে অনুরোধ জানায় ঢাকা কাস্টম হাউসের প্রিভেন্টিভ দল। প্রায় ৩ ঘণ্টা পর একজন টেকনিশিয়ান প্রিভেন্টিভ দলকে জানান, উড়োজাহাজটি ক্রয়ের পর টয়লেটগুলোর বিভিন্ন অংশ কখনও খোলা হয়নি এবং খোলার জন্য কোনও যন্ত্রপাতি তাদের কাছে নেই। পরবর্তীতে বিমানের চিফ ইঞ্জিনিয়ারের (তৎকালীন) অনুমতি নিয়ে বিশেষ ব্যবস্থায় টয়লেটগুলোর বিভিন্ন অংশ খোলা হয়। উড়োজাহাজের সামনের অংশে ককপিট ক্রুদের পাশের টয়লেটের সারাউন্ড কভার খোলা হলে ভেতরে কালো রঙয়ের কাপড়ের একটি ছোট ব্যাগের মধ্যে অফ হোয়াইট রংয়ের স্কচটেপ দিয়ে মোড়ানো ৪টি প্যাকেট পাওয়া যায়। পরবর্তীতে ৪টি প্যাকেট কাস্টমস আগমনী হলের ব্যাগেজ কাউন্টারি নিয়ে খোলা হলে ৯৯৮ গ্রাম ওজনের ৮টি স্বর্ণের বার এবং ১১৬ গ্রাম ওজনের ২০টি স্বর্ণের বার পাওয়া যায়।

মামলার বিবরণীতে বলা হয়, উড়োজাহাজ একটি স্পর্শকাতর যানবাহন। উড়োমামলার বিবরণী থেকে জানা গেছে, ২০১৬ সালের ১৫ মে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ব্যাংকক থেকে আগত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি ০৮৯ ফ্লাইট অবতরণ করে। সোনা চোরাচালানের গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঢাকা কাস্টম হাউসের প্রিভেন্টিভ দল সেদিন এই ফ্লাইট অবতরণ করলে বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নেয়। ফ্লাইটের যাত্রীদের ওপর নজরদারি রাখা হয়। যাত্রীরা উড়োজাহাজ থেকে নেমে যাওয়ার পর উড়োজাহাজে বিভিন্ন সংস্থার উপস্থিতিতে তল্লাশি চালায় প্রিভেন্টিভ দল। তল্লাশির এক পর্যায়ে উড়োজাহাজের পেছনের টয়লেট থেকে বাদামি রঙয়ের একটি প্যাকেট উদ্ধার করা হয়। এরপর উড়োজাহাজের টয়লেটগুলোতে আরও নিখুঁতভাবে তল্লাশির জন্য বিমানের প্রকৌশল বিভাগে টেকনিশিয়ান পাঠাতে অনুরোধ জানায় ঢাকা কাস্টম হাউসের প্রিভেন্টিভ দল। প্রায় ৩ ঘণ্টা পর একজন টেকনিশিয়ান প্রিভেন্টিভ দলকে জানান, উড়োজাহাজটি ক্রয়ের পর টয়লেটগুলোর বিভিন্ন অংশ কখনও খোলা হয়নি এবং খোলার জন্য কোনও যন্ত্রপাতি তাদের কাছে নেই। পরবর্তীতে বিমানের চিফ ইঞ্জিনিয়ারের (তৎকালীন) অনুমতি নিয়ে বিশেষ ব্যবস্থায় টয়লেটগুলোর বিভিন্ন অংশ খোলা হয়। উড়োজাহাজের সামনের অংশে ককপিট ক্রুদের পাশের টয়লেটের সারাউন্ড কভার খোলা হলে ভেতরে কালো রঙয়ের কাপড়ের একটি ছোট ব্যাগের মধ্যে অফ হোয়াইট রংয়ের স্কচটেপ দিয়ে মোড়ানো ৪টি প্যাকেট পাওয়া যায়। পরবর্তীতে ৪টি প্যাকেট কাস্টমস আগমনী হলের ব্যাগেজ কাউন্টারি নিয়ে খোলা হলে ৯৯৮ গ্রাম ওজনের ৮টি স্বর্ণের বার এবং ১১৬ গ্রাম ওজনের ২০টি স্বর্ণের বার পাওয়া যায়।

মামলার বিবরণীতে বলা হয়, উড়োজাহাজ একটি স্পর্শকাতর যানবাহন। উড়োজাহাজ পরিচালনা, ব্যবহার, যাত্রী ওঠানো ও নামানোর নিয়মনীতি রয়েছে। যাত্রী উড়োজাহাজে ওঠানোর আগে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সের অনুমোদিত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ফ্লাইটে ওঠেন। উড়োজাহাজের যাত্রী ওঠানোর দরজা খোলা হলে নির্ধারিত সময়ে বোর্ডিংপাসপ্রাপ্ত যাত্রীরা লাইন ধরে উড়োজাহাজে ওঠেন। এয়ারলাইন্সের ক্রুরা যাত্রীদের বোর্ডিং পাস অনুসারে সিটে বসার ব্যবস্থা করেন। ফলে ১০ কেজি ৩০০ গ্রাম সোনার বার এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অজ্ঞাতসারে কোনও যাত্রীর পক্ষে টয়লেটে গিয়ে স্ক্রু খুলে সেখানে রেখে ফের স্ক্রু লাগানো সম্ভব নয়। একইসঙ্গে কোনও যাত্রী সোনাগুলোর মালিক হলে উড়োজাহাজ থেকে নামার সময় সেগুলো নিয়ে নেমে যেতেন। কারণ, উড়োজাহাজের টয়লেটে সোনা ফেলে রেখে গেলে যাত্রীর পক্ষে সে সোনা পাওয়ার কোনও উপায় নেই।জাহাজ পরিচালনা, ব্যবহার, যাত্রী ওঠানো ও নামানোর নিয়মনীতি রয়েছে। যাত্রী উড়োজাহাজে ওঠানোর আগে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সের অনুমোদিত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ফ্লাইটে ওঠেন। উড়োজাহাজের যাত্রী ওঠানোর দরজা খোলা হলে নির্ধারিত সময়ে বোর্ডিংপাসপ্রাপ্ত যাত্রীরা লাইন ধরে উড়োজাহাজে ওঠেন। এয়ারলাইন্সের ক্রুরা যাত্রীদের বোর্ডিং পাস অনুসারে সিটে বসার ব্যবস্থা করেন। ফলে ১০ কেজি ৩০০ গ্রাম সোনার বার এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অজ্ঞাতসারে কোনও যাত্রীর পক্ষে টয়লেটে গিয়ে স্ক্রু খুলে সেখানে রেখে ফের স্ক্রু লাগানো সম্ভব নয়। একইসঙ্গে কোনও যাত্রী সোনাগুলোর মালিক হলে উড়োজাহাজ থেকে নামার সময় সেগুলো নিয়ে নেমে যেতেন। কারণ, উড়োজাহাজের টয়লেটে সোনা ফেলে রেখে গেলে যাত্রীর পক্ষে সে সোনা পাওয়ার কোনও উপায় নেই।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ