• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:০১ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

গরীবের জ্বালানি ঘষি আর লাকড়ি

আজমল হক আদিল, বদরগঞ্জ (রংপুর): সুরবালা রায় (৪৯)। বাড়ি বদরগঞ্জ উপজেলার দামোদরপুর ইউপির চম্পাতলি সংলগ্ন হিন্দুপাড়া গ্রামে। ছেলের বিধবা স্ত্রী ও তার ২ সন্তান নিয়ে কোন রকমে চলে ৪ সদস্যের সংসার। এমনিতেই সংসার চালানো দায় তার উপর প্রতিনিয়ত জ¦ালানি সমস্যা,তখন তিনি সিন্ধান্ত নিলেন গরুর গোবর দিয়ে ঘষি আর তার সাথে পাটকাঠি দিয়ে লাকড়ি বানাবেন এবং প্রতিদিনের রান্নার কাজে ব্যবহৃত জ¦ালানি সমস্যার সমাধান করবেন।
গত শুক্রবার ছুটির দিনে (২ফেব্রুয়ারি) সকালে সরেজমিনে গোবরের লাকড়ি ও ঘষি নিয়ে সংবাদ সংগ্রহের উদেশ্যে বদরগঞ্জ পৌরশহরের জুগিপাড়া ফেসকিপাড়া সহ উপজেলার দামোদরপুর ইউপির চম্পাতলি সংলগ্ন হিন্দুপাড়ায় গিয়ে ঘষি ও লাকড়ি তৈরি সহ শুকানোর দৃশ্যই চোখে পড়ে।
দেখা যায়,নিজের ব্যহৃত অব্যবহৃত ঘর সহ অন্যের ঘর,বাউন্ডারি প্রাচীরের গাত্র অনেক সময় জায়গা সংকুলান না হওয়ার কারনে রাস্তার ধারের গাছগুলোকেও ঘষি ও লাকড়ি শুকানোর স্থান হিসেবে বেছে নেয়া হচ্ছে।
এই কাজটি করছে মুলতঃ বাড়ির নারীরা ও তাদের স্কুল পড়–য়া সন্তানরা। স্কুল ছুটির পর লাকড়ি,ঘষি তৈরিতে ও শুকানোর কাজে মাকে সহায়তা করাই তাদের কাজ।
আরও দেখা যায়, হিন্দুপাড়া গ্রামের শুধু সুরবালা রায়ই নয় এই গ্রামের কমবেশি সকল নারী সদস্যরাই ব্যস্ত লাকড়ি আর গোবর দিয়ে ঘষি তৈরির কাজে।
কথা হয়,হিন্দুপাড়া গ্রামের বৃদ্ধা সম্পা রায় (৬৭)এর সাথে,তিনি জানান,হামরা গরীব মানুষ। দিন আনি দিন খাই। এমনিতেই কষ্ট করি সংসার চলে টাকা দিয়্যা কি হামার খড়ি কেনা সম্ভব ? কম বেশি যেহেতু হামার সবার বাড়িত গরু আছে এ জন্যে হারা গোবর দিয়্যা লাকড়ি বানাওছি।
তিনি আরও জানান,বাইরশ্যাত(বর্ষা)খুব কষ্ট হয় খড়ি(জ¦ালানি) না থাকলে, এই জন্যে এই সময়টাত হারা বেশি করি লাকড়ি ঘষি বানেয়া মজুদ করোচি।
সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে এগিয়ে আসেন যমুনা বালা(৩৫)তিনি জানান,
বাড়িওয়ালা (স্বামি) বদরগঞ্জের একটা মিষ্টির দোকানোত কাম করে। ৫ জনের হামার সংসার। সউক জিনিষের যেংকা দাম তাতে একজনের টাকা দিয়্যা কি সংসার চলে,তার উপর খড়ির(জ¦ালানি)সমস্যা। এ জন্যে গোবর দিয়া ঘষি আর লাকড়ি বানাওছি।
তিনি আরও জানান,অনেক বছর ধরি হামরা লাকড়ি বানাই। যদি এই লাকড়ি দিয়্যা রান্নার কাম না করনো হয়, তাইলে প্রত্যেক দিনের রান্না করতে কত টাকা নাগিল হয়,এটা কি ভাবি দেখছেন।
পৌরশহরের জুগিপাড়া মহল্লার স্বরস্বতি রানি জানান,খড়ির যে দাম তাই আমি বাড়িতে গোবর দিয়ে ঘষি আর লাকড়ি তৈরি করি। যা দিয়ে আমার প্রতিদিনের রান্না হয়। জ¦ালানির টেনশন আর করতে হয় না।
বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের জীববিজ্ঞান বিভাগের সহকারি অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম জানান,গোবর দিয়ে তৈরি ঘষি ও লাকড়ি জ¦ালানি হিসেবে যেমন সহজলভ্য তেমনি সাশ্রয়ি। জ¦ালানি সমস্যা সমাধানে এই জ¦ালানি বিশেষ ভুমিকা রাখছে।
তিনি আরও বলেন,বনায়ন কর্মসুচি তথা নির্বিচারে গাছ কাটা প্রতিরোধেও লাকড়ি ও ঘষি গুরুত্বপুর্ন ভুমিকা রাখছে। সর্বোপরি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এটি কাজ করছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ