• বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:০৮ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
“ভালো থেকো আমার না হওয়া মহারানী” চলন্ত ট্রাকে আড়াই ঘন্টা ঝুলে ৩২ লাখ টাকার ইয়াবা জব্দ করলেন সিপাহি জয়পুরহাট রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে দুই দিনব্যাপী কর্মশালা শুরু দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে বাসের ধাক্কা, নিহত বেড়ে ৪ ড্রাম ট্রাকের পেছনে যাত্রীবাহি বাসের ধাক্কা, নিহত ৩ সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার

মাঠে যদি থাকে গহীন গর্ত …

।। মাহ্ফুজা আন্জুম মিতু ।।

এককালে সন্তানের পড়ালেখার জন্য ব্যয় করতো খুব কম লোক। এখন ব্যয় করে না এমন লোক খুব কম। প্রতিটি ঘরে শিক্ষা ব্যয় ক্রমে বেড়েই চলছে। সন্তানের ভালো রেজাল্টের জন্য মানুষ আর খরচের দিকে তাকায় না । গরীব ধনী যার যার সর্বোচ্চ সাধ্যানুযায়ী চেষ্টা করেন। এমনকি অনেক পরিবারের সাংসারিক খরচের চেয়ে সন্তানদের পড়ালেখার খরচ বেশি ।
আগে পরীক্ষায় সন্তান ভালো না খারাপ করেছে কিংবা পাশ না ফেল করেছে- এ পর্যন্ত সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু এখন সবাই চায় তার সন্তান ভালো ফলাফল করুক। সবাই প্লাস চায়। মাইনাস যেন না হয়। মাইনাস হলে পিতা মাতার লজ্জা, মুখ দেখাতে পারেন না, বাঁচা মরা সমান। এজন্য মাইনাস হলেও শরম রক্ষার জন্য সন্তানের রেজাল্ট প্লাস বলতে হবে। প্লাস মাইনাস যাচাই করে কে আর দেখতে যায়। একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে হবে বলে কথা। এরকম চ্যালেঞ্জ প্রতিযোগিতামূলক যখন একটা অবস্থা, তখন আর হিতাহিত জ্ঞান থাকে কিভাবে? দৌঁড়াও আর দৌঁড়াও। নীতি নৈতিকতার আর দরকার কি। ভালো স্কুল চাই, ভালো কোচার চাই, তার সাথে ভালো রেজাল্ট চাই। ভালো রেজাল্টের জন্য খাতায় ভালো উত্তর লিখা চাই। ভালো উত্তর লিখতে হলে হুবহু প্রশ্ন চাই। কোথায় আছে প্রশ্ন, টাকা লাগলে ওটা কোন বিষয় না, যতো লাগে লাগুক, ভালো রেজাল্ট হলে ভালো চাকুরী, কাড়ি কাড়ি টাকা গাড়ি বাড়ি। যেভাবেই হোক ভালো পরীক্ষার জন্য প্রশ্ন চাই। ওদিকে টাকা হলে বাঘের চোখও মেলে। সুতরাং সুন্দরবনের বনরক্ষীরা আর কতো সুন্দর করে পাহারা দেবে। প্রশ্নকেও শেষ পর্যন্ত এক ফাঁকে ফুশ করে ফাঁস করে দেয়। ফাঁস হয়ে ভাইরাল হয়ে উলঙ্গ হয়ে যায়। যা বাবারা, এবার আর নিরুত্তর থাকিস না, উত্তমরূপে খাতা ভরে উত্তর দে। এই হলো অতি-অভিভাবকদের অতি-ভাবকতা । এইরকম ভাবুক অভিভাবকদের রাজ্যে সন্তানরাও অসহায় । ফাগুনের এই শুকনো দিনে মাঠের মধ্যখানে যদি প্রকান্ড গহীন গভীর এক গর্ত-পুকুর খুঁড়া হয়, সেখানে মাঠের ফসলের জমির পানি ধরে রাখবে এমন সাধ্য কার ? পানির অভাবে চাষীদের চাষবাস হোক আর না হোক, মাঠে পানি যেখানেই থাকুক না কেন, গভীরতার টানে পানি গর্তে এসে পড়তে বাধ্য ।

লেখক: শিক্ষার্থী, ঈস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি, ঢাকা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ