সিসি নিউজ, ৪ এপ্রিল: নিখোঁজের পাঁচ দিন পর রংপুরের বিশেষ জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ও আওয়ামী লীগ নেতা রথীশ চন্দ্র ভৌমিক বাবু সোনার (৫৮) লাশ উদ্ধার করেছে র্যাব। মঙ্গলবার রাত ২টার দিকে নগরীর মাহিগঞ্জ মোল্লাপাড়া এলাকার একটি নির্মাণাধীন বাড়ির মাটির নিচ থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। তবে রথীশ চন্দ্র হত্যাকাণ্ডে সাথে জড়িত রয়েছেন তার স্ত্রী স্নিগ্ধা সরকার দিপা। র্যাবের অনুসন্ধানে এমন তথ্য বেরিয়ে এসেছে।
র্যাব জানায়, ৩০ মার্চ থেকে রথীশ চন্দ্র নিখোঁজ হন। এ ঘটনার পর ১ এপ্রিল রংপুর কোতয়ালী থানায় একটি সাধারণ ডায়রি করেন রথীশ চন্দ্রের ছোট ভাই সুশান্ত ভৌমিক। পরবর্তীতে র্যাব এ ঘটনার তদন্তে নামে এবং গত রাতে রথীশের লাশ উদ্ধার করে।
র্যাব আরো জানায়, তদন্তের এক পর্যায়ে গতকাল রাত ১১টার দিকে রথীশের স্ত্রী স্নিগ্ধাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে সে হত্যাকাণ্ডের সাথে তার সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে এবং মৃতদেহের অবস্থান সম্পর্কে র্যাবকে জানায়।
র্যাব জানায়, দুই মাস আগে হত্যা পরিকল্পনা করা হয়েছে। পারিবারিক কলহ, সন্দেহ, পরকীয়া প্রেমে লিপ্ত হয়ে সেই মূলত স্বামীকে হত্যার পরিকল্পনা করে স্নিগ্ধা। আর এ কাজে তাকে সহায়তা করে তার কথিত প্রেমিক কামরুল মাস্টার। কামরুল মাস্টার ও স্নিগ্ধা উভয়ই তাজহাট উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করে।
এদিকে এ ঘটনার বিস্তারিত জানাতে বুধবার বেলা ১২টায় র্যাব-১৩’র কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের আযোজন করে র্যাব। এ সময় র্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ জানান, ২৯ মার্চ বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে রথীশকে শয়ন কক্ষে ভাত ও দুধের সাথে ১০টি ঘুমের বড়ি খাওয়ানো হয়। ঘুমের বড়ি খাওয়ানোর পর অচেতন হয়ে গেলে গলায় ওড়না পেচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। হত্যার পর রাতে লাশ শয়ন কক্ষেই রেখে দেয় তারা।
তিনি জানান, পরদিন শুক্রবার ভোর ৫টায় কামরুল ওই বাসা থেকে বের হয়ে যায়। পরবর্তীতে সকাল ৯টায় কামরুল একটা ভ্যান নিয়ে আসে। লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে স্নিগ্ধা তার প্রেমিকের সহায়তায় আলমারি পরিবর্তনের নাম করে সেটিতে লাশ ভরে নিয়ে রংপুর তাজহাটের মোল্লাপাড়ার নির্মাণাধীন বাড়িতে বালু খুড়ে পুতে রাখে। আলমারি বহন করে ভ্যানে তোলার কাজে তিনজন ব্যক্তি নিয়োজিত ছিল। তাদের কামরুল ঠিক করেছিল।
র্যাব প্রধান আরো জানান, গতকাল রাত ১১ টায় র্যাব রংপুর তাজহাট এলাকার মোল্লাপাড়ার নির্মানাধীন ওই ভবনের ভেতর থেকে মাটি খুড়ে একটি লাশ উদ্ধার করে। পরবর্তীতে লাশ শনাক্ত করার জন্য রথীশের ছোট ভাই সুশান্তকে ঘটনাস্থলে নেয়া হলে সে তার ভাইয়ের লাশ শনাক্ত করে।
এদিকে বালু খোড়াখুড়ি ও লাশ লুকানোর সাথে সম্পৃক্ত দুইজনকেও আটক করেছে র্যাব। তাদের নাম মোঃ সবুজ ইসলাম ও মোঃ রোকনুজ্জামান। তারা কামরুলের নির্দেশে ৩শ’ টাকা বিনিময়ে নির্মানাধীন ভবনের নিচে বালু খুড়ে রাখে। পরে ওই বালু দিয়ে শুক্রবার সকাল ১১টায় গর্ত ঢেকে রাখে তারা। কামরুল তাদের শিক্ষক হওয়ায় তারা আদেশ পালন করে।
রথীশ চন্দ্র রংপুর বিশেষ জজ আদালতের পিপি ছিলেন। এছাড়াও জাপানী নাগরিক হোশিও কুনিও এবং মাজারের খাদেম হত্যা মামলার সরকারি কৌশলী, যুদ্ধপরাধী এটিএম আজহারুল ইসলামের মামলার সাক্ষী ছিলেন তিনি।
এছাড়াও তিনি রংপুর জেলা আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক, রংপুর জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি, রংপুর জেলা পূজা উদ্যাপন কমিটির সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন।