রংপুর প্রতিনিধি: নানা অজুহাতে তৃতীয় দফা কাজের মেয়াদ শেষ হলেও দ্বিতীয় তিস্তা সড়ক সেতু চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে করে রংপুর ও লালমণিরহাট জেলার কয়েক লাখ মানুষের দুর্ভোগ আর ভোগান্তিও আপাতত কাটছে না। আর এই সুযোগটি কাজে লাগিয়ে মহিপুর ঘাটে পারপারে পথচারীদের কাছে ইচ্ছেমত টোল আদায় করছে ইজারাদার। এতে করে স্থানীয় স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোয়াতে হচ্ছে।
এদিকে তিস্তা সেতুটি চলাচলের জন্য খুলে দেয়ার দাবি জানিয়েছে স্থানীয় মহিপুর ও কাকিনাসহ এই দুই জেলার হাজারো মানুষ।
এলাকাবাসীর অভিযোগ বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এবং নির্মাণ তদারকি সংস্থার খাম-খেয়ালির কারণেই এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। কয়েক দফা মেয়াদ বাড়ানোর পর ২০১৭ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও দ্বিতীয় তিস্তা সড়ক সেতু চালু করা হচ্ছে না। ফলে মহিপুর ও কাকিনার দুইপাড়ের হাজারো স্থানীয় জনগণ ও শিক্ষার্থীকে চরম দুর্ভোগ পোয়াতে হচ্ছে। আর এই সুযোগটি কাজে লাগিয়ে মহিপুর ঘাট ইজারাদার আওয়ামীলীগ নেতা মমিনুর ইসলাম রাব্বানী ও জাতীয় পার্টির নেতা দুলাল মিয়া ঘাট পারাপারে পথচারীসহ যাত্রীদের কাছ থেকে জনপ্রতি ২০ টাকা করে। আবার মটর সাইকেল প্রতি ৫০ টাকা, মাইক্রো ৩০০ টাকা, রিকসা-ভ্যান ১০০টাকা করে পারাপারে নিচ্ছেন। এছাড়াও স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে জোর করে প্রতিবার ঘাট পার হওয়ার জন্য টাকা নিচ্ছেন। অথচ নিয়ম অনুযায়ী পথচারীরা দিনে একবার টাকা দিবেন ঘাট পারাপারের জন্য। অথচ ইজারাদার নিয়মকে বৃদ্ধাগুলি দেখিয়ে নিজেদের ইচ্ছামতো ঘাট পারাপারে টাকা নিচ্ছেন। এতে করে স্থানীয় এলাকাবাসীসহ সাধারণ মানুষজনের মাঝে ক্ষোভ দেয়া দিয়েছে।
একটি সুত্র জানায়, প্রতি বছর বৈশাখে মহিপুর ঘাট ইজারা হয়। যা এক বছরের জন্য। অথচ এবার বৈশাখ যাচ্ছে ইজারা দেয়া কোন নাম গন্ধ পর্যন্তও নেই। ইজারাদার স্থানীয় প্রশাসন ও আওয়ামীলীগ-জাতীয় পার্টির নেতাদের ম্যানেজ করে এই অবৈধ টোল আদায় করছে বলেও সুত্রটি দাবি করে।
লালমনিরহাট এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, দ্বিতীয় তিস্তা সেতুটির মূল অংশের ৯৯ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। শিগগিরই এটি চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হবে। সেতুটি চালু হলে লালমনিরহাট সদরসহ আদিতমারী, কালীগঞ্জ ও হাতীবান্ধার সঙ্গে গংগাচড়াসহ বিভাগীয় শহর রংপুরের দূরত্ব ৩০-৫০ কিলোমিটার কমে আসবে। সহজতর হবে পাটগ্রামের বুড়িমারী স্থলবন্দর থেকে পণ্য পরিবহনও। একই সঙ্গে এসব এলাকার মানুষের যাতায়াত-সংক্রান্ত ভোগান্তিও বহুলাংশে কমে যাবে। ভৌগোলিক কারণে লালমনিরহাটের উল্লিখিত উপজেলাগুলোর অবস্থান রংপুর বিভাগীয় শহরের খুব কাছে। কিন্তু এখানে তিস্তা নদীতে সেতু না থাকায় এসব অঞ্চলের মানুষকে রংপুর যেতে দীর্ঘপথ অতিক্রম করতে হচ্ছে।
কাকিনা ইশোরকুল গ্রামের আবু তালেব ও আরিফুল ইসলাম বলেন, সেতুর শেষ হয়েছে কত দিনে। কিন্তু চালু না হওয়ায় আমারা স্থানীয়রাও মহিপুর ও কাকিনার মানুষ চরম দুর্ভোগে আছি। নৌকা পারাপারে ইজারাদার ও তার লোকজন ই”েচ্ছমত টাকা আদায় করছে। তাছাড়াও সময় লাগছে নৌকা পারাপারে। তাই তিনি খুব দ্রুত তিস্তা সেতু জনগণের জন্য উম্মুক্ত করে দেয়ার দাবি জানান।
অন্যদিকে নাজমুল হাসান, আশরাফুল ও জাহিদুলসহ কয়েকজন এলাকাবাসী জানান, ইজারাদার যোগসাগোজ করে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে স্থানীয় প্রশাসন ও ক্ষমতাশীনদের ম্যানেজ করে সেতু চালু না করে অবৈধভাবে টোল আদায় করছে। এতে করে আমারা এলাকাবাসীসহ মহিপুর এলাকার মানুষ চরম ক্ষুদ্ধ। আমারা আমাদের প্রাণে তিস্তা সেতু চালুর দাবি করছি।
শাহিনুর বেগম নামে এক পথচারী জানান, মহিপুর ঘাটে পারাপারে খুব সমস্যায় পড়তে হয়। এখানে ইজারাদারের লোকজন খুবই উচ্ছিংখল। তারা টাকা ছাড়া কিছুই বোঝে না। তাছাড়া যাত্রী পারা পারে অনেক সময় লাগে । এতে করে রোগীসহ পথচারিরা দুর্ভোগে পড়ে।
সেতু নির্মাণ কাজের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নাভানা কনস্ট্রাকশন লিমিটেডের এক প্রকৌশলী বলেন, সেতু প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছে। ৮৫০ মিটার দৈর্ঘ্য এবং ৯ দশমিক ৬ মিটার প্রস্থের এই সেতুটি নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ১২১ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। খুব দ্রতই চালু করা হবে।