বিশেষ প্রতিনিধি: নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার বাঙ্গালীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রণোবেশ চন্দ্র বাগচী ইউনিয়নের বিভিন্ন সড়কের সরকারী প্রায় লক্ষাধিক টাকার ১৫টি গাছ কেটে আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।অপরদিকে সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যান জানান, স্থানীয় মাদ্রাসা, হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুষ্ঠান অষ্টপ্রহরসহ বিভিন্ন সামাজিক কাজে দেয়ার কথা বলে তিনি এসব গাছ প্রশাসনের কোন রকম অনুমতি না নিয়েই কেটেছেন।
সরেজমিনে মঙ্গলবার (১ মে) গিয়ে দেখা যায়, ইউনিয়নের বাদিয়ার মোড় এলাকায় ডালিয়া ক্যানেল সংলগ্ন রাস্তার দু’টি ইউক্যালিপটাস গাছের কাটা গোড়া অংশ রয়েছে।। এছাড়া পীরপাড়ার ৪টি গাছ, চৌমুহনী থেকে লক্ষণপুর স্কুলগামী সড়কের ৫টি এবং শাইল্যার মোড় এলাকার ৪টি গাছ কাটা হয়েছে। এগুলোর মধ্যে ইউক্যালিপটাস, মেহগনি, কড়াই ও ঘোড়া নিম গাছ ছিল। যার মধ্যে মাত্র ২টি গাছ ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে পাওয়া গেছে।
এ ব্যাপারে গ্রাম পুলিশ মতিউলের সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি জানান, চেয়ারম্যানের নির্দেশে অন্য ৫ জন গ্রাম পুলিশসহ মোট ১৪টি গাছ কাটা হয়েছে। গাছগুলো মরা ও ঝড়ে ভাঙ্গা ছিল।
কিন্তু এলাকাবাসীর অভিযোগ গাছগুলো সতেজ ও অক্ষত ছিল। কিন্তু চেয়ারম্যান শুকনা গাছের অজুহাতে সবগুলো গাছ কেটে আত্মসাৎ করেছেন। গাছের ডালপালাগুলো গ্রাম পুলিশ মতিউল, জাহাঙ্গীর, আমজাদ, নিখিল, জলিল ও কছি নিয়েছে।
এলাকাবাসী গাছ কাটতে বাধা দিলে গ্রাম পুলিশেরা তা মানেনি। বরং তাদেরকে শাসিয়েছে। গাছ কাটতে বাধা দিলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও হুমকি দিয়েছে। এ ঘটনায় এলাকাবাসী সঠিক তদন্ত পূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।
বাঙ্গালীপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান প্রণোবেশ চন্দ্র বাগচী ০১৯১৩২৩৬৭৫৫ নম্বরের মুঠোফোনে জানান, গাছগুলো শুকনো ছিল তাই এ ব্যাপারে উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হলেও তারা কোন ভ্রুক্ষেপ না করায় আমি নিজ উদ্যোগে গাছগুলো কেটেছি।
সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: বজলুর রশিদকে মুঠোফোনে বিষয়টি অবগত করা হলে তিনি জানান, এ ব্যাপারে খোজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।