• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৪৬ অপরাহ্ন |
শিরোনাম :
চলন্ত ট্রাকে আড়াই ঘন্টা ঝুলে ৩২ লাখ টাকার ইয়াবা জব্দ করলেন সিপাহি জয়পুরহাট রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে দুই দিনব্যাপী কর্মশালা শুরু দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে বাসের ধাক্কা, নিহত বেড়ে ৪ ড্রাম ট্রাকের পেছনে যাত্রীবাহি বাসের ধাক্কা, নিহত ৩ সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

সৈয়দপুরে মুক্তিযুদ্ধের ট্রেন ট্র্যাজেডি দিবস আজ

সিসি নিউজ: আজ ১৩ জুন মঙ্গলবার। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় এই দিনে নীলফামারীর সৈয়দপুরের গোলাহাটে পাকসেনা ও তাদের দোসররা ট্রেন থামিয়ে ৪৪৮ জন হিন্দু মাড়োয়ারিকে হত্যা করেছিল। এই হত্যাযজ্ঞ এলাকায় ট্রেন ট্র্যাজেডি বলে পরিচিতি পেয়েছে। তবে ঘটনার নায়ক পাক সেনাদের দোসরা ওই হত্যাকান্ডের নাম দিয়েছিল ‘অপারেশন খরচাখাতা”।

সৈয়দপুর গোলাহাট এই ট্রেন ট্র্যাজেডির দিবসটি স্মরনে আজ বুধবার বেলা ১১ টায় শহরে একটি শোক র্যালী বের করা হবে। এটি আয়োজন করেছে মুক্তিযুদ্ধের শহীদ সন্তান প্রজন্ম-৭১।

মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের সন্তান প্রজন্ম-৭১ এর সাধারণ সম্পাদক মহসিনুল হক জানান, এই হত্যাযজ্ঞের পাক সেনাদের অনেক দোসর আজও সৈয়দপুরে রয়েছে। আমরা তাদের বিচার দাবি করি। স্মরনিকা পরিষদের সভাপতি অমিত কুমার আগরওয়ালা বলেন, পাকিসেনাদের সেই দোসরদের যখন দেখি তখন মাথায় খুন চেপে যায়। আমরা কি সেই বিচার পাবো না।

ওই হত্যাযজ্ঞে ভাগ্যক্রমে বেঁচে যাওয়া অনেকে আজ বেঁচে আছেন। তাদের মধ্যে শ্যামলাল আগরওয়ালা। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় এ শহরে বাঙালিদের মতো মাড়োয়ারিরাও অত্যন্ত ভয়ের মধ্যে দিন কাটাচ্ছিল। এ পরিস্থিতিতে সৈয়দপুর ক্যান্টনমেন্ট থেকে বারবার মাইকে ঘোষণা দেওয়া হচ্ছিল, মাড়োয়ারিদের ভয় নেই। তাদের নিরাপদে ভারতে পৌঁছে দেওয়া হবে। ১৯৭১ সালের ১৩ জুন সৈয়দপুর রেলওয়ে স্টেশনে একটি বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করা হয়। এর আগে হিন্দু মাড়োয়ারিদের তালিকা তৈরি করে পাকিস্তানি বাহিনী। শ্যামলাল বলেন, প্রাণ বাঁচাতে আমরা হুড়মুড় করে ট্রেনটিতে উঠে পড়ি। কিন্তু হানাদার বাহিনী খুঁজে খুঁজে কমপক্ষে ২০ জন তরুণীকে নামিয়ে ক্যান্টনমেন্টে নিয়ে যায়। তাদের ভাগ্যে কী জুটেছিল তা আজও জানা যায়নি বলে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।

আরেক প্রত্যক্ষদর্শী তপন কুমার দাস বলেন, তিনিও ওই ট্রেনের যাত্রী ছিলেন। ট্রেনে ৫০০ নারী-পুরুষ, শিশু-বৃদ্ধকে তোলা হয়। সকাল ১০টায় শিলিগুড়ির উদ্দেশে ছেড়ে যায় ট্রেনটি। কিন্তু কিছুদূর গিয়ে গোলাহাট নামক স্থানে থামে ট্রেনটি। উঠে পড়ে বিহারিরা। তাদের হাতে ছিল তলোয়ার, রামদা। তিনি একটি জানালা ফাঁক করে দেখেন, বাইরে পাকিস্তানি বাহিনী ঘিরে আছে ট্রেনটি। এরপর যাত্রীদের ট্রেন থেকে নামিয়ে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে ৪৪৮ জনকে হত্যা করা হয়। ওই হত্যাযজ্ঞ থেকে তিনিসহ কয়েকজন যুবক কোনোমতে পালিয়ে জীবন রক্ষা করেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ