সিসি ডেস্ক: সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য হতে ব্যাপক দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন সম্ভাব্য মহিলা প্রার্থীরা। সংরক্ষিত আসনে পরিবর্তনের ইচ্ছার কথা এরই মধ্যে অনেকের সামনে ব্যক্ত করেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এজন্য নতুনদের পাশাপাশি ছিটকে পড়া পুরনো এমপিও ছুটে বেড়াচ্ছেন প্রভাবশালীদের দরজায়। গণভবন থেকে শুরু করে আওয়ামী লীগের পার্লামেন্টারি বোর্ডের প্রভাবশালী সদস্যদের বাড়ি ও কার্যালয়ে গিয়ে লবিং করছেন এদের অনেকেই। পরিবর্তনের আভাস জোরালোভাবে প্রচার হওয়ায় অন্য যে কোনো বারের তুলনায় এবার দলীয় মনোনয়ন ফরম তুলেছেন অনেক বেশিসংখ্যক প্রত্যাশী। সর্বশেষ ৩৮টি পদের জন্য ফরম নিয়েছেন ৮২২ জন। আওয়ামী লীগ, সহযোগী সংগঠনের নারী নেত্রীদের পাশাপাশি এবার মনোনয়ন ফরম সংগ্রহের তালিকায় রয়েছেন চলচ্চিত্র ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের তারকারাও।শুক্রবার শেষ হয়েছে দলীয় ফরম বিক্রি ও জমা নেয়ার কাজ। রোববার বিকাল ৩টায় গণভবনে প্রধানমন্ত্রী মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নেবেন। জাতীয় সংসদের প্রাপ্ত আসন হিসেবে এবার এ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সংরক্ষিত মহিলা আসন ৩৮টি পাবে। বুধবার থেকে মহিলা আসনের ফরম বিক্রি কার্যক্রম শুরু করে আওয়ামী লীগ। ধানমন্ডিতে দলীয় সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয় থেকে এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করার সঙ্গে সঙ্গে নিজ উদ্যোগে সাংবাদিকদের জানিয়ে দেয়ার পাশাপাশি গণমাধ্যমে নাম প্রচারের অনুরোধ করেন নতুন-পুরনোর অনেকেই। একই সঙ্গে সকাল-বিকাল ধানমন্ডি কার্যালয়সহ নেতাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে দখা করছেন অনেকে। সচিবালয়েও যাচ্ছেন কেউ কেউ। মনোনয়ন সংগ্রহের দিন বুধবার রাত থেকেই অনেকেই আবার দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার গ্রিন সিগনাল লাভের জন্য হাজির হচ্ছেন সরাসরি গণভবনে। বৃহস্পতিবারও বিভিন্ন জেলা থেকে আসা সংরক্ষিত মহিলা আসনের সাবেক এমপিসহ সহযোগী সংগঠনের অনেকেই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গণভবনে গেছেন বলে একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে। অধিকাংশ এ প্রচেষ্টায় ব্যর্থ হলেও কয়েকজন শেখ হাসিনার কাক্সিক্ষত সাক্ষাৎ পেতে সক্ষম হয়েছেন। আবার অনেকেই আশাহত হয়ে ফিরে এসেছেন। বিশ্বস্ত একটি সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে যারা সফল হয়েছেন, তাদের অধিকাংশকে শেখ হাসিনা বলেছেন পরিবর্তনের কথা। গত সংসদে যারা মহিলা এমপি ছিলেন তাদের মধ্যে পরিবর্তন আসতে পারে এমনটা আভাস দিয়েছেন শেখ হাসিনা। তরুণ নেতৃত্ব তৈরি করার পাশাপাশি এলাকায় গ্রহণযোগ্যতা আছে এমন প্রার্থীকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেয়া হবে বলেও অনেকের কাছে আভাস দিয়েছেন তিনি। বিষয়টি প্রচার হয়ে গেলে বাদ পড়া আতঙ্কে ভুগতে শুরু করেন সংরক্ষিত আসনের পুরনো এমপিরা। এরপর থেকেই আওয়ামী লীগের পার্লামেন্টারি বোর্ডের অন্য সদস্যদের দ্বারস্থ হতে শুরু করেন মনোনয়ন প্রত্যাশীরা। বৃহস্পতিবার পার্লামেন্টারি বোর্ড ও দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য ওবায়দুল কাদেরকে ধানমন্ডি অফিসে পেয়ে অনেক প্রার্থীই তার আস্থা অর্জনের চেষ্টা করেন। নিজের ত্যাগ, গুণগান বয়ান করে সময় পার করেন অনেকেই। একইভাবে পার্লামেন্টারি বোর্ডের প্রভাবশালী সদস্য আমির হোসেন আমুর ইস্কাটনের বাড়িতে গিয়েও দেখা করেছেন নতুন-পুরনো অনেক মনোনয়ন প্রত্যাশী। যারা সরাসরি যেতে পারছেন না তারা আবার অন্য নেতাদের সঙ্গে নিয়ে এসব নেতার সঙ্গে দেখা করছেন।এবার উল্লেখযোগ্যদের মধ্যে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ফজিলাতুন্নেছা ইন্দিরা, মহিলা লীগের সভানেত্রী আশরাফুন্নেসা মোশাররফ, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক পিনু খান, যুব মহিলা লীগের সভানেত্রী নাজমা আক্তার, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপিকা অপু উকিল, মহানগর মহিলা লীগের নেত্রী সাহিদা তারেক দীপ্তি, অধ্যাপিকা জিন্নাতুন নেসা তালুকদার, আসমা জেরীন ঝুমু, অধ্যক্ষা খাদিজা খাতুন শেফালী, শেফালী আক্তার, বানি ইয়াসমিন হাসি, শিরীন রুখসানা। এছাড়া সাংস্কৃতিক কর্মী সারা বেগম কবরী, সুজাতা, সুলতানা শাফী, রোকেয়া প্রাচী, ফেরদৌসি প্রিয়ভাষিনী, অ্যাডভোকেট তারানা হালিম, ফাল্গুনি হামিদ, চিত্রনায়িকা রতœা, আওয়ামী লীগের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমা দিয়েছেন। এ বিষয়ে মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী আশরাফুন্নেসা মোশাররফ আলোকিত বাংলাদেশকে বলেন, সংগঠনকে গতিশীলভাবে পরিচালনা করার পাশাপাশি জনগণের জন্য যথাযথ দায়িত্ব পালন করেছি। ভবিষ্যতেও করব। এখন নেত্রী যদি যোগ্য মনে করেন তবে আবারও আমাকে মনোনয়ন দেবেন। মনোনয়ন প্রত্যাশীদের দৌড়ঝাঁপ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, শুনেছি অনেকেই গণভবনে গিয়ে নেত্রীর সঙ্গে দেখা করে মনোনয়ন চেয়ে এসেছেন। অনেকে প্রভাবশালী মহলের সঙ্গেও নানাভাবে যোগাযোগ করছেন। উল্লেখ্য, গত সংসদে সংরক্ষিত মহিলা আসনে নির্বাচিত হয়ে অনেকে রাতারাতি কোটিপতি বনে গেছেন। অনেকে এলাকার খোঁজখবর নেয়া ছাড়া সচিবালয়ে নানাবিধ তদবির করে সময় পার করেছেন। মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের বাসভবনে বেলা-অবেলায় নানা কাজ নিয়ে ঢুঁ মেরেছেন। এসব দুর্নীতিগ্রস্তকে বাদ দিয়ে জেলা পর্যায়ে পরিক্ষীত অথচ বঞ্চিত নেত্রীদের এবার মূল্যায়ন করা হচ্ছে বলে চাউর রয়েছে। এ প্রক্রিয়ায় সংরক্ষিত মহিলা আসনে অনেক নতুন মুখ দেখা যেতে পারে চূড়ান্ত পর্যায়ে।
নির্বাচন কমিশন থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, নির্ধারিত সংরক্ষিত মহিলা আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ ৩৮টি, জাতীয় পার্টি ৬, ওয়ার্কার্স পার্টি ১, জাসদ ১ ও স্বতন্ত্র ১টি আসন পাবে। জাতীয় পার্টি শুক্রবার থেকে মহিলা আসনের মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু করেছেন। অন্যরাও দু-একদিনের মধ্যে শুরু করবেন বলে জানা গেছে।