• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১:২৬ অপরাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

নীলফামারীতে কলেজ ছাত্রের আত্মহত্যার ঘটনায় মামলা

সিসি নিউজ, ১১ জুলাই: নীলফামারীর রামনগর ইউনিয়নের বাহালিপাড়া গ্রামে গ্রাম্য সালিশে মিথ্যে অপবাদ দিয়ে কিশোরীর শ্লীলতা হানির অভিযোগ তুলে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করার ঘটনায় সবুজ চন্দ্র রায় (২০) নামের এক কলেজ ছাত্র বিষপানে আত্মহত্যা করেছে। এঘটনায় আত্মহত্যার প্ররোচনায় থানায় মামলা দায়ের করেছেন সবুজের কাকা নরেশ চন্দ্র রায়। গতকাল মঙ্গলবার (১০ জুলাই) সন্ধ্যায় আটজনকে আসামী করে ওই মামলাটি দায়ের করেন তিনি।
মামলার সূত্রমতে, ওই গ্রামের এক কলেজ ছাত্র রাজ্জাকুল ইসলাম প্রেমের সম্পর্ক ছিল একই গ্রামের এক কিশোরীর। গত ৬ জুলাই দুপুর দেড়টার দিকে গ্রামের একটি পাট ক্ষেতে ওই দুই প্রেমিক প্রেমিকাকে একসাথে দেখতে পেয়ে বিষয়টি মেয়ের দাদু অফিজ উদ্দিনকে (৬০) জানায় সবুজ। এসময় অফিজ উদ্দিনসহ তার পরিবারের লোকজন সবুজকে আটকিয়ে রেখে তার বিরুদ্ধে ওই কিশোরীর শ্লীলতা হানির প্রচারণা চালায়। পরে বিষয়টি নিয়ে গ্রাম্য সালিসে সবুজের পরিবারের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করে ৭ জুলাই ভোর ৪টার দিকে ছেড়ে দেওয়া হয় তাকে। সেখান থেকে ছাড়া পেয়ে মিথ্যা ওই অপবাদের গ্লানি সইতে না পারায় দুপুর দেড়টার দিকে আত্মহত্যার চেষ্টায় কীটনাশক পান করে সবুজ। পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে নীলফামারী আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করায়। অবস্থার অবনতি হলে সেখান থেকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থান্তর করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৯ জুলাই সন্ধ্যায় তার মৃত্যু হয়।
মামলার বাদি সবুজের কাকা নরেশ চন্দ্র রায় বলেন, মিথ্যা ওই অপবাদের গ্লানি সইতে না পেরে সবুজ আত্মহত্যা করছে। কীটনাশক পানের আগে সে তার ডায়েরীর পাতায় মিথ্যা অপবাদ, গ্লানির কথা লিখে সালিসকারীদের বিচার দাবি করেছে। সবুজকে আত্মহত্যার দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে, আমি তাদের বিচার দাবি করছি।
নরেশ চন্দ্র রায় জানান, সবুজ চাঁদের হাট ডিগ্রি কলেজের এইচএসসি মানবিক বিভাগে প্রথম বর্ষের ছাত্র। প্রায় ৫ বছর আগে তার বাবা-মায়ের মৃত্যু হয়। বাবা-মায়ের অবর্তমানে তার অভিভাবক হিসাবে দায়িত্ব পালন করছিলেন তিনি।
এবিষয়ে নীলফামারী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বাবুল আকতার বলেন, সবুজের সুইসাইড নোটটি উদ্ধার করা হয়েছে। আত্মহত্যার প্ররোচনার অবিযোগে ৮ জনের নামে একটি মামলা দায়ের করেছেন সবুজের কাকা নরেশ চন্দ্র রায়। আসামী গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।
এদিকে আজ বুধবার (১১ জুলাই) বিকেলে ঘটনাস্থল পরিদর্শণ করেছেন জেলা হিন্দু-বৈধ-খ্রীষ্টান ঐক্য পরিষদ সভাপতি খোকারাম রায়, সাধারণ সম্পাদক মৃণাল কান্তি রায় ও জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. রমেন্দ্র নাথ বর্ধনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
ঘটনাস্থল পরিদর্শণ শেষে জেলা হিন্দু-বৈধ-খ্রীষ্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মৃণাল কান্তি রায় বলেন, মিথ্যা অপবাদে সবুজকে ফাঁসানো হয়েছে। সালিসকারীরা তাকে আত্মহত্যার দিকে ঠেলে দিয়েছেন। আমরা এর সঠিক বিচার দাবি করছি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ