সিসি নিউজ, ২৫ সেপ্টেম্বর॥ আকাশপথে বিপ্লব এখন সময়ের ব্যাপার। প্রধানমন্ত্রী সুদৃষ্টি দেয়ায় এগুলো এখন আর স্বপ্ন নয়-সত্যি সত্যিই ঘটতে যাচ্ছে। ২২ হাজার কোটি টাকার একগুচ্ছ প্রকল্প হাতে নিয়েছে সিভিল এভিয়েশন। এগুলোর মধ্যে এ মাসেই ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের অপেক্ষায় রয়েছে এক হাজার কোটি টাকার কাজ। ইতোমধ্যে এসব প্রকল্পের জন্য তৈরি করা হয়েছে প্রধান প্রকৌশলী সুধেন্দু বিকাশ গোস্বামীর নেতৃত্বে এক ঝাঁক তরুণ ও মেধাবী প্রকৌশলীর বিষেশায়িত পুল। সিভিল এভিয়েশন চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল নাইম হাসান জানিয়েছেন, এই বিশাল অংকের মেগা প্রকল্পগুলোর কিছু কাজ এ মাসেই শুরু হবে। আগামী ২ থেকে তিন বছরের মধ্যে এসব প্রকল্প শেষ হলে বদলে যাবে দেশের এভিয়েশন খাত।
বর্তমান সরকারের আমলে আবারও চালু করা হয় উত্তরাঞ্চলের সৈয়দপুর বিমানবন্দর। প্রতিদিন এখানে বাড়ছে অভ্যন্তরীণ যাত্রীর সংখ্যা। বর্তমানে প্রায় তিন শ’ একর জমির ওপর এ বিমানবন্দর। সিভিল এভিয়েশন এ বিমানবন্দরকে আরও উন্নত করে আঞ্চলিক হাব হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। যাতে এখান থেকে কলকাতা, আসাম, ভুটান ও নেপালের ফ্লাইট পরিচালনা করা যায়।
বর্তমানে এখানে একশ কোটি ব্যয়ে টার্মিনাল শেড, পার্কিং বেসহ অন্য আধুনিকায়নের কাজ চলছে। এ ছাড়া প্রস্তাবিত প্রকল্পে রয়েছে রানওয়ে শক্তিশালী (এসফল্ট হেচিং) কাজ। এ অঞ্চলের সঙ্গে আশপাশের দেশগুলোর আকাশপথের যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। ব্যবসা বাণিজ্য আরও জোরদার হবে বলে মিডিয়াকে জানান, প্রধান প্রকৌশলী সুধেন্দু বিকাশ গোস্বামী।
সিভিল এভিয়েশনের পরিকল্পনা বিভাগ সূত্রে জানা গেছে- সৈয়দপুর বিমানবন্দর এখন যতটুকু আছে তার দ্বিগুণ সম্প্রসারণ করতে হবে। এ জন্য আরও প্রায় নয় শ’ একর জমি অধিগ্রহণ করতে হবে। রানওয়ে আরও দ্বিগুণ সম্প্রসারণ করতে হবে। যাতে ৭৩৭ মতো মাঝারি ধরনের এয়ারক্রাফট ওঠানামা করতে পারে।
এদিকে, সৈয়দপুর বিমানবন্দর আঞ্চলিক হাব-এ উন্নীত হওয়ার প্রক্রিয়ার খবর শুনে বেজায় খুশি এলাকাবাসী। বিমানবন্দরকে কেন্দ্র করেই এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক অবস্থার পরিবর্তন হবে বলে মনে করছেন সুধিজন।
উল্লেখ্য যে, চৌদ্দ হাজার কোটি টাকার থার্ড টার্মিনাল। তিন হাজার কোটি টাকার কক্সবাজার দ্বিতীয় প্রকল্পে রানওয়ে নির্মাণ। আড়াই হাজার কোটি টাকার সিলেট ওসমানী বিমানবন্দরের জন্য নতুন টার্মিনাল ভবন। দুই হাজার কোটি টাকায় যশোর, রাজশাহী ও সৈয়দপুর এয়ারপোর্টের রানওয়ে ও ভবন সংস্কার। পৌনে তিন শ’ কোটি টাকায় কক্সবাজার বিমানবন্দরের টার্মিনাল ভবন তৈরি। সাড়ে চার শ’ কোটি টাকায় শাহজালাল বিমানবন্দরের হ্যাঙ্গার প্রতিস্থাপন। দেড় শ’ কোটি টাকায় শাহজালালে এ্যাপ্রোন তৈরি। রয়েছে ৮শ’ কোটি টাকার রাডার প্রকল্প। এ ধরনের ২২ হাজার কোটি টাকার একগুচ্ছ প্রকল্প হাতে নিয়েছে সিভিল এভিয়েশন। এগুলোর মধ্যে এ মাসেই ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের অপেক্ষায় রয়েছে এক হাজার কোটি টাকার কাজ। বহুল প্রতীক্ষিত থার্ড টার্মিনালের দরপত্র ডাকা হয়েছে গত পরশু। ডিপিপি অনুমোদিত হয়েছে তিনটের। আগামী সপ্তাহে পরিকল্পনা কমিশনে চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হবে এগুলো। অর্থাৎ আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেই এর দরপত্র প্রক্রিয়া শেষ করে কার্যাদেশ দিয়ে কাজ শুরুর তোড়জোড় চালাচ্ছে সিভিল এভিয়েশন।