রংপুর, ১ মার্চ।। নিজ দলের বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকের হামলার শিকার হয়েছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী নাছিমা জামান ববি। হামলায় তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রংপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয় চত্বরে এ ঘটনা ঘটে।
উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের শেষে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষ থেকে বের হয়ে ফেরার পথে এই হামলার ঘটনাটি ঘটে। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বঞ্চিত বিদ্রোহী প্রার্থী ডা. দেলোয়ার হোসেনের সমর্থক একরামুল হক অতর্কিত হামলা চালান। এতে নাছিমা জামান ববির পরনে থাকা কাপড় ছিড়ে যায়। পরে নেতাকর্মীরা তাকে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে নিচে নামার সময় সিঁড়িতে হরিদেবপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতা একরামুল হক রোহিঙ্গা বহিরাগত বলে ববি চেয়ারম্যানকে কটাক্ষ করতে থাকেন। এক পর্যায়ে শেখ হাসিনাকে নিয়ে বিদ্রুপ মন্তব্য করে চন্দনপাট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মোশাররফ হোসেন ও উপজেলা চেয়ারম্যান নাছিমা জামান ববিকে ধাক্কা দেয়। এসময় জেলা প্রশাসক ভবনের নিচে এসে বাকবিতন্ডা থেকে ববির ওপর হামলা চালায় বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকরা। এতে একজন বাদাম বিক্রেতাসহ চেয়ারম্যান ববি আহত হন। হামলায় সময় নাছিমা জামান ববির পরনে থাকা ওড়না কে বা কারা ছিড়ে দেন।
এব্যাপারে রংপুর সদর উপজেলার বর্তমান চেয়ারম্যান নাছিমা জামান ববি বলেন, ‘দলের মনোনয়ন বঞ্চিতদের একটি অংশের ষড়যন্ত্রে এ ঘটনা ঘটেছে। হামলাকারি একরামুল হক ২নং হরিদেবপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি। সে কি কারণে এ ধরনের আচরণ করেছে, আমি জানি না। আমাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে আমার ওড়না ছিড়ে দিয়েছে একরামুল’। বিষয়টি তিনি জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দকে অবগত করেছেন বলে জানান।
অন্যদিকে একরামুল হক হামলার ঘটনাটি অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘আমি কারো ওপর হামলা করিনি। বরং আমাকেই লাঞ্ছিত করা হয়েছে। ববির সমর্থকরা অন্যায় করেছে’।
এদিকে বিকেলে নিজ বাসায় সংবাদ সম্মেলন করে হামলার ঘটনায় জড়িত একরামুল হক সহ ইন্ধনদাতাদের শাস্তির দাবি জানান নাছিমা জামান ববি।