নীলফামারী, ১৭ জুন।। নীলফামারীর সৈয়দপুরে উপজেলা সহকারি কমিশনারের (ভূমি) হস্তক্ষেপে বাল্য বিয়ে থেকে রক্ষা পেয়েছে পঞ্চম শ্রেণীর এক স্কুল ছাত্রী।
উপজেলার বোতলাগাড়ী ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় সংলগ্ন হাজীপাড়ায় শনিবার (১৫ জুন) রাতে ওই বাল্য বিয়ের আয়োজন করা হয়েছিল। খবর পেয়ে এসিল্যান্ড পরিমল কুমার সরকার তৎক্ষণাৎ ওই বিয়ের বাড়িতে হাজির হয়ে বাল্য বন্ধ করে দেন। এ সময় ওই বিয়ের বাড়ি থেকে মেয়ের বাবা, মাসহ কয়েক নিকটাত্মীয়কে আটক করা হয়। পরে মেয়ের বাবা মো. ফারুক (৩৬) ও সম্পর্কে নানা মো. আমির আলীকে (২৮) ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে ১৫ দিন করে বিনাসশ্রম কারাদন্ড দেওয়া হয়। দন্ডপ্রাপ্তদের রবিবার নীলফামারী কারাগারে পাঠানো হয়।
জানা গেছে, সৈয়দপুর উপজেলার বোতলাগাড়ী ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় সংলগ্ন হাজীপাড়ার মো. ফারুকের মেয়ে মোছা. জান্নাতুন ফেরদৌসী আক্তার ফারহানা (১৩)। সে বোতলাগাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৫ম শ্রেণীর ছাত্রী। বিয়ের বয়স না হলেও ওই স্কুল ছাত্রীর দরিদ্র বাবা-মা তাঁর বিয়ে ঠিক করেন। বর ছিল পাশের নীলফামারীর সদর উপজেলার সংগলশী ইউনিয়নের শিমুলতলীর জনৈক বাবু। এ অবস্থায় ওই ছাত্রীর এক সহপাঠি বাল্য বিয়ের বিষয়টি মুঠোফোনের খবর পেয়ে উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) পরিমল কুমার সরকার সৈয়দপুর থানা পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা সুভার সদস্যদের নিয়ে ওই বিয়ের বাড়িতে হাজির হন। কিন্তু তার আগেই বর ও কণের পক্ষের লোকজন বিয়ে বাড়ি থেকে দ্রুত সটকে পড়েন। পরে পাশের একটি বাড়িতে তল্লাশি করে আত্মগোপনে থাকা মেয়ে, তাঁর বাবা-মা ও আত্মীয়দের সেখান থেকে আটক করা হয়। এরপর ভ্রাম্যমান আদালতে বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন- ২০১৭ এর ৮ ধারায় মেয়ের বাবা মো. ফারুক ও সম্পর্কে নানা মো. আমির আলীকে ১৫ দিন করে বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করা হয়েছে।
এছাড়াও ১৮ বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত মেয়ের বিয়ে দিবে না মর্মে তাঁর বাবা-মায়ের কাছে থেকে একটি লিখিত অঙ্গীকার নেওয়া হয়েছে। এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সৈয়দপুর ইউনাইটেড ভলান্টিয়ার এসোসিয়েশনের (সুভা) সদস্য মো. আহসান হাবিব জনি,তাবাস্সুম, জিনাত আরা জিতু, মো. আমির হোসেন, নওশাদ আনসারী, সোহাগ আন নাফিস, শাহিন, সোহেল রানা ও সুজন প্রমুখ।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) পরিমল কুমার সরকার জানান, বাল্যবিবাহ একটি অপরাধ। এর নিরোধে উপজেলা প্রশাসন কাজ করে যাচ্ছে। এক্ষেত্রে সুভার সদস্যরা প্রশাসনকে সার্বিক সহযোগিতা করছে।