• বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০১:০০ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
“ভালো থেকো আমার না হওয়া মহারানী” চলন্ত ট্রাকে আড়াই ঘন্টা ঝুলে ৩২ লাখ টাকার ইয়াবা জব্দ করলেন সিপাহি জয়পুরহাট রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে দুই দিনব্যাপী কর্মশালা শুরু দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে বাসের ধাক্কা, নিহত বেড়ে ৪ ড্রাম ট্রাকের পেছনে যাত্রীবাহি বাসের ধাক্কা, নিহত ৩ সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার

নওগাঁয় ইউপি চেয়ারম্যান ও সচিবের বিরুদ্ধে মামলা

আশরাফুল নয়ন, নওগাঁ ।। নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলার আকবরপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও সচিবের বিরুদ্ধে বিকাশ প্রতারনার অভিযোগ এনে মামলা করেছেন সংরক্ষিত মেম্বার নিলুফা ইয়াসমিন। গত ২১ জুন ইউপি চেয়ারম্যান কামাল হোসেন এবং ইউপি সচিব সাজ্জাদ হোসেনকে অভিযুক্ত করে থানায় মামলা করেছেন। গত ১৮ জুন এ প্রতারনার ঘটনা ঘটে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ জুন সন্ধ্যা ৭টার দিকে সচিব সাজ্জাদ হোসেন ইউপি মেম্বার আলিম, মোত্তালেব, মাজহারুল ইসলাম, মোহাম্মদ আলী এবং সংরক্ষিত মেম্বার নিলুফ ইয়াসমিন ও সামসুন নাহারকে ফোন দিয়ে নজিপুর পল্লী বিদ্যুতের জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) আখ্যায়িত করে একটি মোবাইল নাম্বার দেন। এরপর মেম্বাররা ওই মোবাইল নাম্বারে ফোন দিলে তিনি নিজেকে নজিপুর পল্লী বিদ্যুতের জিএম পরিচয় দেন। তার সাথে (জিএম) চেয়ারম্যান কামাল হোসেনের কথা হয়েছে। আপনারা এলাকার গরীব দুখী মানুষের উপকার করতে চাইলে কিছু টাকা খরচের জন্য বিকাশ করে পাঠাতে বলেন।

এরপর মেম্বাররা- চেয়ারম্যান কামাল হোসেনের মোবাইলে ফোনে দিলে তা বন্ধ পাওয়া যায়। পরদিন ১৮ জুন জিএম পরিচয় দেয়া নাম্বার থেকে ৬ জন মেম্বারকে ফোন দিয়ে নওগাঁর ডিজিএম নাম্বারে ফোন দিয়ে কথা বলতে বলা হয়। পরবর্তীতে মেম্বাররা ওই নাম্বারে কথা হলে পল্লী বিদ্যুৎ এর পক্ষ থেকে ইউনিয়নের হতদরিদ্র এর অনুদান স্বরুপ ১শ জনের অধিককে ৬ হাজার ১শ টাকা করে দেয়া হবে। যার জন্য জন প্রতি ৬শ টাকা করে উত্তোলন করে ২ ঘন্টার মধ্যে বিকাশ করতে বলা হয় এবং তিনটি বিকাশ নাম্বার দেয়া হয়। সেই মুর্হুতে কারো কাছ থেকে টাকা উত্তোলন করা সম্ভব নয় মনে করে, মেম্বাররা নিজেদের পকেট থেকে নওগাঁর ডিজিএম পরিচয় দানকারীর দেয়া ৩টি বিকাশ নাম্বারে টাকা পাঠানো হয়।
এরমধ্যে আলিম মেম্বার ১২ হাজার ৮৪০ টাকা, সামসুন নাহার ৬ হাজার টাকা, মোত্তালেব মেম্বার ১২ হাজার ৪শ টাকা, মাজহারুল ইসলাম ৬ হাজার টাকা, মোহাম্মদ আলী ১৩ হাজার টাকা, নিলুফ ইয়াসমিন ১২ হাজার ৬শ টাকাসহ মোট ৬২ হাজার ৮৪০শ টাকা বিকাশ করেন। ১৮ জুন দুপুরে ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যানসহ সকল মেম্বারদের নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা থাকলেও নজিপুর পল্লী বিদ্যুৎ অফিস থেকে কেউ আসেনি। এরপর অজ্ঞাতনামা ডিজিএম পরিচয় দানকারী ব্যক্তিকে ফোন করা হলে ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। এরপর থেকে জিএম পরিচয় দেয়া এবং বিকাশের তিনটি নাম্বার বন্ধ আছে।

ভুক্তভোগী ও মামলার বাদী মেম্বার নিলুফা ইয়াসমিন বলেন, আমার ভাগে ২১ জনকে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে মর্মে ৬শ টাকা হিসেবে ১২ হাজার ৬শ টাকা বিকাশ করেছি। ঘটনার সাথে চেয়ারম্যান সম্পৃক্ত আছে বলে তিনি দাবী করেন। আর মেম্বারদের পক্ষ থেকে আমি থানায় মামলাটি করেছি।

এ ব্যাপারে ইউপি সচিব সাজ্জাদ হোসেন বলেন, চেয়ারম্যান আমাকে নজিপুর পল্লী বিদ্যুতের জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) এর একটি মোবাইল নাম্বার দিয়ে বলেছিলেন ইউপি মেম্বারদের দিতে। সে অনুযায়ী নাম্বারটি ইউপি মেম্বারদের দিয়েছি।
আকবরপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান কামাল হোসেন বলেন, ‘এলাকার অসহায় ও দরীদ্রদের অনুদান দিবে মর্মে জিএম পরিচয় দিয়ে আমার ইউনিয়নের মেম্বারদের নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদে আলোচনা (মিটিং) করার কথা ছিল। এরপর ওই নাম্বারটা আমি মেম্বারদের দিতে বলেছি। কিন্ত জিএম এর সাথে মেম্বারদের কি কথা হয়েছে তা আমাকে জানানো হয়নি। মেম্বারদের কাছ থেকে বিকাশ চেয়েছে সেটাও আমাকে বলেনি। এ ইউনিয়নের ১২ জন মেম্বারের মধ্যে ৬জন বিকাশ করেছে। বাকী যে ৬ জন মেম্বার আছে তারা তো প্রতারিত হয়নি। এ প্রতারনা সঙে তিনি সম্পৃক্ত নয় বলে দাবী করেন।’
পত্নীতলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পরিমল কুমার চক্রবর্তী বলেন, ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। যেহেতু এটি টেকনোলজি বিষয়। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ