• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:০৮ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

দিনাজপুরে ২৫ কেজি আলুর দামে ১ কেজি চাল

Aluদিনাজপুর প্রতিনিধি: দিনাজপুরে ২৫ কেজি আলু বিক্রি করে ১ কেজি চাল কিনতে হচ্ছে কৃষককে। এবার জেলায় বিপুল পরিমাণ আলুর আবাদ হলেও বাজারে দাম না থাকায় উৎপাদিত আলু নিয়ে চাষীরা অনিশ্চয়তায় পড়েছেন।
শস্যভান্ডার খ্যাত দিনাজপুরে এবার আগাম আলুর বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে আলু তুলে বিক্রি করে শ্রমিকের খরচও না ওঠায় ক্ষেতেই নষ্ট হচ্ছে আলু। উৎপাদিত আগাম জাতের আলু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন কৃষক। অন্যদিকে ঋণের দায় আর পাওনাদারদের ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন অনেক আলু চাষীরা।
দিনাজপুরে প্রতি কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে দেড় থেকে ২ টাকা দরে। ২০-২৫ কেজি আলু বিক্রি করে এক কেজি মোটা চাল কিনতে হচ্ছে কৃষককে।
বিরল উপজেলার সারঙ্গাই পলাশবাড়ী গ্রামের আলু চাষী মমতাজ মিয়া জানান, অনেক আশা নিয়ে ব্যাংক থেকে ঋণ করে ৫ বিঘা জমিতে আলুর আবাদ করেছিলাম। সার, বীজ, কীটনাশক ও শ্রমিকদের মজুরি, কৃষি উপকরণসহ সর্বমোট খরচ হয়েছে ১ লাখ ৫ হাজার টাকা। আর এই ৫ বিঘা জমির আলু বিক্রি করে পেয়েছি মাত্র ৭৫ হাজার ৫৫০ টাকা। একই এলাকার আবুল কাসেম জানান, আড়াই বিঘা জমিতে আলু আবাদ করে তার খরচ হয়েছে ৫২ হাজার টাকা। আর ওই আলু বিক্রি করে তিনি পেয়েছেন মাত্র ৪০ হাজার টাকা। শুধু মমতাজ মিয়া ও আবুল কামেস নয় জেলার অনেক আলুচাষীর একই অবস্থা। ক্ষুদ্র চাষীরা এবার আলুর আবাদ করে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন।
দিনাজপুর কৃষি সম্প্রাসারন অধিদপ্তরের অফিস জানায়, জেলায় এবার ৩৫ হাজার ৪৭৪ হেক্টর জমিতে  আলু আবাদ করে ৬ লাখ ৯৭ হাজার ৩৮৭ মে.টন আলু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা করা হয়েছিল। কিন্তু লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশী পরিমান জমিতে আলুর চাষ হয়েছে। আবাদ হয়েছে ৪২ হাজার ৯২০ হেক্টর জমিতে। ফলনও ভাল হয়েছে।
সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মতলুবুর রহমান জানান, সদর উপজেলায় ৬ হাজার ২৫০ হেক্টর আলু আবাব করে ১ লাখ ১২ হাজার ৫শ’ মে.টন উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল। কিন্তু আবাদ হয়েছে ৬ হাজার ৬৭০ হেক্টর জমিতে আলুর আবাদ হয়েছে। আলুর বাম্বার ফলন ও লক্ষ্যমাত্রার অধিক জমিতে আলু আবাদ হওয়ায় উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে।
কৃষি বিভাগ জানায়, দেশের চলমান পরিস্থিতির কারণে চলতি মৌসুমে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন আলু চাষীরা। রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে জেলার বাইরে আলু পাঠাতে না পারায় এখন হাটে-বাজারে আলুর স্তুপ জমা পড়েছে। সাধারণ মানুষ অল্পদামে আলু কিনে খুশি হতে পারলেও আলু চাষীরা দুশ্চিন্তায় সময় কাটাচ্ছেন। তাদের মাথায় হাত পড়েছে। কিভাবে এই ক্ষতি পুষিয়ে নিবেন সে নিয়ে তারা ভাবনায় রয়েছেন।
দিনাজপুর সদর উপজেলার মহবতপুর গ্রামের কৃষক আব্দুর রাজ্জাক জানান, গত বছর ভালো দাম পাওয়ায় এবার দ্বিগুণ পরিমাণ জমিতে আলু চাষ করেছিলাম এবং ফলনও ভালো হয়েছিল। কিন্তু রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে আলু বিক্রি করতে না পারায় তার অনেক আলু ক্ষেতেই নষ্ট হয়েছে। আব্দুর রাজ্জাকের মত অবস্থা দিনাজপুরের অনেক আলুচাষীর।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ