আন্তর্জাতিক ডেস্ক: চীনে শীত আসার সঙ্গে সঙ্গে ছড়িয়ে পড়েছে বার্ড ফ্লু। সে কারণে কিভাবে এর সংক্রমণ রোধ করা যায় তাই নিয়ে উঠে পড়ে লেগেছে চীনা কর্তৃপক্ষ।
চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য এবং পরিবার পরিকল্পনা কমিশন জানিয়েছে, ২০১৪ সালের চিকিৎসা প্রটোকল অনুযায়ী এবারের ইনফ্লুয়েঞ্জাকে (কমিউনিকেবল রেসপিরেটরি ডিজিজ) বলে বর্ণনা করা হয়েছে৷ অর্থাৎ অন্যান্য বার্ড ফ্লু-র মতো এটি এতটা শক্তিশালী নয়। কেননা ২০১৩ সালের রিপোর্টে তখনকার বার্ড ফ্লুকে ইনফেকসাস বা সংক্রামক ব্যধি হিসেবে বর্ণনা করা ছিল।
সোমবার চীনের দৈনিক পত্রিকা বেইজিং টাইমস-এ বেইজিং নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রোগ নিয়ন্ত্রণ একটি কেন্দ্রের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা এটিকে অতটা শক্তিশালী বলতে রাজি নয়। কেননা এক বছরের বিশ্লেষণ ও গবেষণার পর তারা এ সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন যে এইচসেভেন এননাইন ততটা সংক্রামক নয়।
জানুয়ারিতে এইচসেভেনএননাইন ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মেইনল্যান্ডে মারা গেছে সাতজন। ২০১৩ সালে ১৪৪ জনের দেহে এই ভাইরাস পাওয়া গেছে যাদের মধ্যে ৪৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে গত বছর জুনের পর সংক্রমণের হার দ্রুত কমে গেছে। কিন্তু শীত শুরুর সাথে সাথে আবারো দেখা দিয়েছে সংক্রমণ। কমিশন জানিয়েছে, বেশির ভাগ সংক্রমণ হচ্ছে পরিবারের সদস্যদের মাধ্যমে।
২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে চীনে এই ভাইরাসটি মানুষে সংক্রমিত হয়। তখন মানুষের মনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল অন্যান্য বার্ড ফ্লু-এর মতো এটি মানুষ থেকে মানুষে অতি দ্রুত ছড়িয়ে পড়বে এবং মহামারি আকার ধারণ করবে৷
স্থানীয় কর্তৃপক্ষের দেয়া তথ্যানুযায়ী, সংবাদ সংস্থা এএফপি একটি পরিসংখ্যান তৈরি করেছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে শীতকালীন ইনফ্লুয়েঞ্জায় আক্রান্ত চীনের অধিবাসীদের ৯৫ ভাগই বার্ড ফ্লু-তে আক্রান্ত৷ এদের মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি পূর্বাঞ্চলের প্রদেশ ঝেজিয়াং এবং ২৪ জন দক্ষিণের গুয়াংডং-এর অধিবাসী।
তবে এ বছর মানুষ থেকে মানুষে ভাইরাস সংক্রমণের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য কমিশন। তারা বলছে, ভাইরাসের সংক্রমণ থাকবে তিন থেকে চারদিন, সর্বোচ্চ সাতদিন।
বেইজিং টাইমস-এর রিপোর্টে বলা হয়েছে, যারা মুরগির খামারের সঙ্গে জড়িত তাদের মধ্যে এই ফ্লু ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে সতর্ক করে দিয়েছে স্বাস্থ্য কমিশন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অবশ্য এ বিষয়ে এখনও কোনো মন্তব্য করেনি।