• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৫৯ অপরাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

দুর্নীতিবাজদের ফের হুঁশিয়ারি দিলেন প্রধানমন্ত্রী

সিসি ডেস্ক, ৭ জানুয়ারী।। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর প্রাক্কালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীর উদযাপন জাতির জীবনে নতুন জীবনীশক্তি সঞ্চারিত করবে বলে আশা করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে টানা তৃতীয় মেয়াদে সরকার গঠনের বর্ষপূর্তিতে মঙ্গলবার জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে তিনি এই আশা প্রকাশ করেন।

ভাষণের শুরুতেই সবাইকে খ্রিষ্টীয় নতুন বছরের শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২০২০ খ্রিষ্টাব্দ আমাদের জাতীয় জীবনে এক বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বছর। এ বছর উদযাপিত হতে যাচ্ছে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী। আগামী ১৭ই মার্চ বর্ণাঢ্য উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে বছরব্যাপী অনুষ্ঠানমালার শুভ সূচনা হবে।’

সরকার যে আগেই ২০২০-২১ সালকে ‘মুজিববর্ষ’ হিসেবে ঘোষণা করেছে, সে কথা মনে করিয়ে দিয়ে বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা বলেন, ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী এবং জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনের অনুষ্ঠানমালা যুগপৎভাবে চলতে থাকবে।

‘এই উদযাপন শুধু আনুষ্ঠানিকতা-সর্বস্ব নয়, এই উদযাপনের লক্ষ্য জাতির জীবনে নতুন জীবনীশক্তি সঞ্চারিত করা; স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর প্রাক্কালে জাতিকে নতুন মন্ত্রে দীক্ষিত করে জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ বাস্তবায়নের পথে আরো একধাপ এগিয়ে যাওয়া।’

ভাষণের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুলভোটে বিজয়ী হয়ে গত বছর ৭ জানুয়ারি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ পঁচাত্তর-পরবর্তী সময়ে চতুর্থবারের মত সরকার গঠন করে।

‘প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমার চতুর্থবার শপথ নেয়ার এক বছর পূর্তি উপলক্ষে আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি আজ। আমি এই শুভক্ষণে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। স্মরণ করছি জাতীয় চার-নেতা এবং মুক্তিযুদ্ধের ৩০ লাখ শহীদ এবং দুই লাখ নির্যাতিত মা-বোনকে। মুক্তিযোদ্ধাদের আমি সালাম জানাচ্ছি।’

১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্ট হত্যাকাণ্ডের শিকার বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্যদের কথা ‘গভীর বেদনার সঙ্গে’ স্মরণ করেন জাতির পিতার কন্যা শেখ হাসিনা।

আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আব্দুল হামিদ খান ভাসানী, প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক ও হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর কথাও তিনি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।

২০০৪ সালে গ্রেনেড হামলাসহ বিভিন্ন সময়ে আওয়ামী লীগের যে নেতাকর্মীরা নিহত হয়েছেন, ২০১৩ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে ‘বিএনপি-জামায়াত জোটের ‘অগ্নি সন্ত্রাস এবং পেট্রোল বোমায়’ যাদের প্রাণ গেছে তাদের সবার কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী আহত ও স্বজনহারা পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান

শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় প্রধানমন্ত্রীর এ ভাষণ রাষ্ট্রীয় প্রচারমাধ্যমগুলোতে একযোগে সম্প্রচার করা হয়।

সরকার প্রধান বলেন, ‘২০২০ খ্রিষ্টাব্দ আমাদের জাতীয় জীবনে এক বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বছর। এ বছর উদযাপিত হতে যাচ্ছে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী। আগামী ১৭ মার্চ বর্ণাঢ্য উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে বছরব্যাপী অনুষ্ঠানমালার শুভ সূচনা হবে। আমরা ইতোমধ্যেই ২০২০-২১ সালকে মুজিববর্ষ হিসেবে ঘোষণা করেছি।’

‘বছরের শেষ দিকে পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি ছাড়া অন্য সব স্বাভাবিক ছিল। অর্থনীতির শীর্ষ প্রবৃদ্ধি পাঁচটি দেশের মধ্যে একটি বাংলাদেশ।’

‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপন করা হয়েছে।’

‘দশবছর আর আজকের বাংলাদেশের মধ্যে অনেক ব্যবধান রয়েছে। মানুষ আজ স্বপ্ন দেখে। উন্নতির জীবনে স্বপ্ন দেখে। পদ্মা সেতুর ওপর সেতু নির্মাণ হবে আর সে সেতু দিয়ে মানুষ চলাচল করবে এটা ছিল স্বপ্নের মতো। আমরা সে স্বপ্ন বাস্তবায়ন করছি। মেট্রোরেলের কাজ চলমান।’

নতুন রেলপথ নির্মাণ হচ্ছে, নতুন ট্রেন চালু হয়েছে, নতুন ইঞ্জিন সরবারহ করা হয়েছে। এ বছর ১২২টি নতুন ট্রেন আনা হয়েছে।’

‘পদ্মা চালুর প্রথম দিন থেকেই সেতুর ওপর দিয়ে ট্রেন চলবে।’

‘বিমান বাংলাদেশে এ বছর নতুন ৬টি উড়োজাহাজ সংযুক্ত হয়েছে।’

‘কিশোর ও যুব সম্পদায় এর জন্য মাঠ নির্মাণ করা হয়েছে।’

‘হাসপাতালে বাড়ানো হয়েছে সুযোগ-সুবিধা। নার্সের চাহিদা মেটাতে নার্সিং ইউনিট তৈরি করা হবে। প্রতি জেলায় অন্তত একটি করে মেডিকেল কলেজ বানানো হবে ‘

‘বাংলাদেশে মাছ ও সবজি উৎপাদনে বর্তমানে চতুর্থ।’

‘প্রাথমিক থেকে উচ্চ মাধ্যমিক ২ কোটি তিন লাখ বৃত্তি ও উপবৃত্তি দেয়া হচ্ছে। বিনামূলে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ করা হচ্ছে শিক্ষা প্রতিষ্টানগুলোতে। ২০০৯ থেকে এ পর্যন্ত শিক্ষাখাতে অনেক পরিবর্তন এসেছে। শিক্ষার হার বেড়ে দাড়িয়েছে ৭৩ শতাংশে ‘

‘বহিঃশত্রুর যে কোনো আক্রমন প্রতিরোধে সাময়িক বাহিনীকে প্রস্তুত করা হচ্ছে।’

‘প্রতিবেশিদের সাথে সু-সম্পর্ক বজায় রাখতে বাংলাদেশ অগ্রগতি ভূমিকা পালন করে। আমরা মিয়ানমারের বিষয়ে তেমন কোনো ব্যবস্থা নেইনি। আমরা আন্তর্জাতিক আদালতের দারস্ত হয়েছি।’

‘এ বছর জাতিসংঘে বাংলাদেশ রোহিঙ্গা বিষয়ক বেশ কয়েকটি প্রস্তাব তুলে ধরেছে।’

দুর্নীতিবাজদের আইনের আওতায় এনে সাধারণ মানুষের ‘হক’ নিশ্চিত করতে দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধামন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, ‘যেই অবৈধ সম্পদ অর্জনের সঙ্গে জড়িত থাকুক, তাকে আইনের আওতায় নিয়ে আসুন। সাধারণ মানুষের ‘হক’ যাতে কেউ কেড়ে নিতে না পারে তা নিশ্চিত করতে হবে। তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তির সম্প্রসারণের মাধ্যমে বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুর্নীতির নির্মুল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দুর্নীতি বন্ধে জনগণের অংশগ্রহণ জরুরি। মানুষ সচেতন হলে, দুর্নীতি আপনা-আপনি কমে যাবে।’

দুর্নীতি বিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আপনাদের স্মরণ আছে, গত বছর সরকার গঠনের পর জাতির উদ্দেশে ভাষণে আমি দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের শোধরানোর আহ্বান জানিয়েছিলাম। আমি সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করি। মানুষের কল্যাণের জন্য আমি যে কোন পদক্ষেপ করতে দ্বিধা করবো না।

তিনি বলেন, দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে চলমান অভিযান অব্যাহত থাকবে। আমি আবারও সবাইকে সতর্ক করে দিতে চাই – দুর্নীতিবাজ যে-ই হোক, যত শক্তিশালীই হোক না কেন – তাদের ছাড় দেওয়া হবে না।

ধর্মীয় নেতাদের প্রশিক্ষণের ওপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস, মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। পবিত্র ইসলাম ধর্মের অপব্যাখ্যা করে কেউ যাতে তরুণদের বিপথে পরিচালিত করতে না পারে, সেজন্য মসজিদের ইমামসহ ধর্মীয় নেতাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। সারা দেশে ৬৫০টি মসজিদ নির্মাণ করা হচ্ছে। একটি শান্তিপূর্ণ সমাজ আমরা প্রতিষ্ঠা করতে চাই। যেখানে হিংসা-বিদ্বেষ হানাহানি থাকবে না। সকল ধর্ম-বর্ণ এবং সম্প্রদায়ের মানুষ শান্তিতে বসবাস করতে পারবেন। সকলে নিজ নিজ ধর্ম যথাযথ মর্যাদার সঙ্গে পালন করতে সক্ষম হচ্ছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এমন এক দেশ চাই যেখানে কোনো হিংসা বিদ্বেষ থাকবে না। আমরা চাই সকল ধর্মের মানুষ যেন শান্তিপূর্ণভাবে থাকতে পারে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ