• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৩৫ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

সাংবাদিক নির্যাতনকারী নাজিম কক্সবাজারেও ছিলেন বেপরোয়া

সিসি ডেস্ক, ১৬ মার্চ ।্ কুড়িগ্রাম জেলার সাংবাদিক নির্যাতনকারী রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর (আরডিসি) মো. নাজিম উদ্দিনকে নিয়ে কক্সবাজারেও রয়েছে অনেক বিতর্ক। যশোরের বাসিন্দা বিসিএস- ৩৩ ব্যাচের এই কর্মকর্তা কক্সবাজারে যোগ দিয়েছিলেন সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার, ভূমি (এসিল্যান্ড) হিসাবে।

২০১৭ সালের অক্টোবর মাসে কক্সবাজারে দায়িত্ব নিয়েই তিনি জড়িয়েছিলেন একের পর এক বিতর্কিত কাজে। এমনকি কক্সবাজারে দায়িত্ব পালনকালে বহু নানা কর্মকাণ্ডের জন্ম দিয়ে পুরো সময়জুড়ে ছিলেন বিতর্কের শীর্ষে!

কক্সবাজার সদরের সাবেক এসিল্যান্ড নাজিম উদ্দিনকে শাস্তিমূলকভাবে বদলি করা হয়েছিল পার্বত্য রাঙ্গামাটি জেলার লংগদু উপজেলায়। সেখান থেকে তিনি বদলি হয়ে যোগ দেন কুড়িগ্রাম জেলায়। কুড়িগ্রামে সাংবাদিক নির্যাতনে নেতৃত্ব দিয়ে এবার তিনি দেশজুড়ে আলোচনায় এসেছেন।

নির্যাতনের শিকার আরিফুল ইসলাম রিগান জামিন পেয়ে গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেছেন, তাকে নির্যাতনে নেতৃত্ব দিয়েছেন কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের আরডিসি নাজিম উদ্দিন। শুধু তাই নয়, সাংবাদিক রিগানকে একমাত্র নাজিম উদ্দিনই মারধর করেছেন। এছাড়াও অকথ্য গালাগালও করেছেন।

কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক (ডিসি) সুলতানা পারভীনের নির্দেশে বাংলাট্রিবিউনের সাংবাদিক আরিফুল ইসলাম রিগানকে নির্মম নির্যাতন ও আইনের ‘অপব্যবহার’ করে এক বছরের জেল দেওয়া ঘটনায় দেশজুড়ে তোলপাড় চলছে। সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনার সঙ্গে কক্সবাজারের সাবেক এসিল্যান্ড নাজিম উদ্দিন অগ্রভাগের থাকার খবর চাওর হলে কক্সবাজারে এখন তাকে নিয়েই বেশ সমালোচনা চলছে।

এর পর থেকেই কক্সবাজারে ফেসবুক ব্যবহারকারীদের যেন লেখালেখির এক দারুণ খোরাক হয়ে পড়েছে। ফেসবুক-সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক সুলতানা পারভীনের চেয়েও আরডিসি নাজিম উদ্দিনের নানা কূকীর্তিই সবচেয়ে বেশি ভাইরাল হয়ে পড়েছে।

এমনকি কক্সবাজারে সেই এসিল্যান্ড নাজিম উদ্দিন কর্তৃক এক বৃদ্ধকে জামার কলার ধরে টেনে-হিঁচড়ে আনার সেই ছবি ফেসবুকসহ সামাজিক মাধ্যমে আবার পোস্ট করেছে স্থানীয় সচেতন লোকজন। বিশেষ করে নাজিম উদ্দিনের হাতে লাঞ্ছিত, ক্ষতিগ্রস্ত এবং তার ‌ওপর সংক্ষুব্ধ লোকজন নিন্দা জানিয়ে পোস্ট করছেন। একই সঙ্গে তাকে ধিক্কার জানানো হচ্ছে। ফেসবুক ব্যবহারকারীদের অনেকে বলছেন-‘কয়লা ধুইলেও ময়লা যায় না।’

কক্সবাজারের সচেতন লোকজন বলছেন, সরকারি চাকরিতে প্রবেশের আগে শুদ্ধাচারসহ সব ধরনের প্রশিক্ষণ দিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মস্থলে পদায়ন করা হয়। কিন্তু নাজিম উদ্দিনের মধ্যে সেই প্রশিক্ষণলব্ধ শুদ্ধাচার (ভদ্রতা) ছিল না। তিনি সব সময় নিজেকে মাস্তানের ভূমিকায় রাখতেন। অভিযানে গিয়ে এক বৃদ্ধকে জামার কলার ধরে টেনে-হিঁচড়ে নির্যাতনের একটি ঘটনা ব্যাপক সমালোচনা জন্ম দিয়েছিল। তার এসব আচরণের কারণে খোদ জেলা প্রশাসকসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা বিব্রত ও ক্ষুব্ধ ছিলেন।

কক্সবাজারে দায়িত্ব পালনকালে ভূমি অফিসে অনিয়ম-দুর্নীতি, সেবাপ্রার্থী এবং সাধারণ মানুষকে মারধর, গালাগালসহ নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়েছিলেন তিনি। এক পর্যায়ের তা সীমা অতিক্রম করে। ফলে ভুক্তভোগীরা প্রকাশ্যে তার বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করেছিল। এসব অপকর্মের কারণে তৎকালীন এসিল্যান্ড নাজিম উদ্দিনকে স্ট্যান্ডরিলিজ করে রাঙামাটির দুর্গম উপজেলা লংগদুতে বদলি করা হয়েছিল।

অনেকের ধারণা কক্সবাজারের সাংবাদিকরা সাবেক এসিল্যান্ড নাজিম উদ্দিনের অপকর্মের বিরুদ্ধে ব্যাপক লেখালেখি করায় তিনি বরাবরই সাংবাদিকদের ওপর ক্ষীপ্ত ছিলেন। সেই ক্ষোভ থেকে আরডিসি নাজিম উদ্দিন কুড়িগ্রামের সাংবাদিক রিগানকে নির্যাতন করেছেন।

প্রসঙ্গত, শুক্রবার মধ্যরাতে বাড়িতে হানা দিয়ে মারধর করে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় আরিফুল ইসলামকে। তার বাসায় আধা বোতল মদ ও দেড় শ গ্রাম গাঁজা পাওয়া গেছে বলে অভিযোগ আনা হয়। এরপর গভীর রাতে জেলা প্রশাসকের অফিসে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে এক বছরের কারাদণ্ড দিয়ে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। কালেরকন্ঠ


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ