সিসি ডেস্ক, ২০ মার্চ ।। লক্ষ্মীপুরে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে ৩১ মার্চ পর্যন্ত ১১ দিন শহরের জামা-কাপড়, জুতা ও কসমেটিকস’র দোকানগুলো বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আজ শুক্রবার বিকেলে সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও লক্ষ্মীপুর বণিক সমিতির সভাপতি একেএম সালাহ উদ্দিন টিপু দোকানে দোকানে গিয়ে এ নির্দেশনা দেয়।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, এখনো পর্যন্ত এ জেলায় করোনা আক্রান্ত কেউ শনাক্ত হয়নি। দোকানপাট বন্ধ কিংবা লকডাউন করার মত পরিস্থিতিও সৃষ্টি হয়নি।
এদিকে বিকাল থেকেই প্রায় দোকানই বন্ধ দেখা গেছে। শহরে লোকজনের উপস্থিতিও কম লক্ষ্য করা গেছে। এছাড়া নিত্যপন্যের বাজার দর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় প্রশাসন সার্বক্ষণিক বাজার মনিটরিংয়ে রয়েছে। বিকালে পৌর শহরের বিভিন্ন দোকানে অভিযান চালিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে একাধিক ব্যবসাযীকে অর্থদণ্ড করা হয়েছে বলে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাইদুল ইসলাম জানান।
জেলা সিভিল সার্জন সূত্র জানায়, এ জেলায় ৪৬০ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। এরমধ্যে ৪৫৮ জন প্রবাসী ও দুইজন ঢাকার একটি কারখানার শ্রমিক। এরমধ্যে সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৪ জন, সদর উপজেলায় ৬৯, রায়পুরে ১৭৪, রামগঞ্জে ৮৫, কমলনগর ২৫ ও রামগতিতে ১০৩ জন হোম কোয়ারেন্টাইনে আছে। স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মীদের দিয়ে তাদের নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
কিন্তু চলতি মাসে ৩ হাজার ৬৬২ জন প্রবাসী লক্ষ্মীপুরে এসেছেন। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ৩ হাজার ২১৪ জন প্রবাসীর খোঁজ পাওয়া যায়নি। তবে হোম কোয়ারেন্টাইন বিধি লঙ্গন করায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সদরে একজনের ৫ হাজার, রামগঞ্জে দুইজনের ২০ হাজার ও রামগতিতে একজনের ৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। চারজনই বিদেশ ফেরত।
লক্ষ্মীপুর বণিক সমিতির সভাপতি একেএম সালাহ উদ্দিন টিপু বলেন, করোনা প্রতিরোধে বণিক সমিতির পক্ষ থেকে জামা-কাপড়, জুতা ও কসমেটিকসের দোকানগুলো আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। তবে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দোকানগুলো খোলা রাখার নির্দেশনা দেয়া হয়।
লক্ষ্মীপুর জেলা সিভিল সার্জন ড. আবদুল গাফ্ফার বলেন, এ জেলায় এখনো পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত কেউ নেই। করোনা সন্দেহে ৪৬০ জন হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। তবে দোকানপাট বন্ধ কিংবা জেলা লকডাউন করার মত পরিস্থিতি এখনো সৃষ্টি হয়নি।