• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:০৯ অপরাহ্ন |
শিরোনাম :
চলন্ত ট্রাকে আড়াই ঘন্টা ঝুলে ৩২ লাখ টাকার ইয়াবা জব্দ করলেন সিপাহি জয়পুরহাট রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে দুই দিনব্যাপী কর্মশালা শুরু দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে বাসের ধাক্কা, নিহত বেড়ে ৪ ড্রাম ট্রাকের পেছনে যাত্রীবাহি বাসের ধাক্কা, নিহত ৩ সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

যৌতুকের দাবিতে শিক্ষক স্বামীর হাতে শিক্ষক স্ত্রী নির্যাতনের শিকার

।। এম আর মহসিন ।। যৌতুকের দাবিতে মঞ্জু আরা বেগম (৪৫) নামে প্রধান শিক্ষককে মারপিট করেছে যৌতুকলোভী শিক্ষক স্বামী। মারপিটের শিকার ওই সন্তানের জননী ও গৃহবধু বর্তমানে সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। সম্প্রতি উপজেলার অদুরে হাসিমপুর মুন্সিপাড়ায় এ ঘটনাটি ঘটেছে।

জানা যায়, মঞ্জু আরা বেগম চিরিরবন্দর উপজেলার হাসিমপুর এলাকায় সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন প্রধান শিক্ষিক। তার স্বামী ইয়াকুব আলীও পেশায় শিক্ষক। তিনি বাড়ির পাশে উত্তর দগরবাড়ী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদে রয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, ইয়াকুব আলী তার স্ত্রীর বেতনের টাকা কোন দিনই তাকে (মঞ্জু) স্পর্শ করতে দিতেন না। প্রতিবাদ করলেই চলত মারধর। দিন রাত স্কুলে শ্রম দিয়েই মনের কোন সাধ পুরণ করতে পারতেন না মঞ্জু আরা। এভাবে কেটে যায় বিবাহিত জীবনের ১৮ বছর। তবে এখন আব্দুল্লাহ আলী মনির (১৪) ও তুবা সাবেরিন (৯) নামে দুই ছেলে মেয়ে রয়েছে তাদের। তাদের কথা ভেবে মঞ্জু বেগম স্বামীর হাতে তার বেতনের টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। মাসিক বেতনের চেক না পেয়ে সম্প্রতি রাত দেড়টায় ঘুম থেকে স্কুল শিক্ষিকাকে ডেকে অকথ্য ভাষায় গালাগালের পর কিল ঘুষি, লাখি, রড দিয়ে বেধড়ক পেটান। শেষে চাকু দিয়ে আঘাত করেন। এতে আঙ্গুল কেটে যায় ও পুরো শরীর রডের দগদগে ক্ষতে কালো হয়।

এ সময় প্রতিবেশিরা প্রথমে চিরিরবন্দর স্বাস্থ‌্য কমপ্লেক্সে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করেন।
মঞ্জু বেগম জানায়, বাবা-মা বড় আশা করে শিক্ষক জামাইয়ের হাতে তুলে দেন। কিন্তু বিয়ের পরের মাস হতে বেতনের চেকটি তার হাতে দিত হত। না হলে গালমন্দ করত। কয়েক বছর এভাবে চলার পর দফায়-দফায় গ্রাম্য শালিস হয়। উচ্চ পর্যাায়ে অভিযোগ দিলেও সে হাজির হননা। এখন আমার সন্তান বড় হয়েছে। তাদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে আর টাকা দিতে চাই না। এতে সে প্রতিনিয়ত শারিরিক ও মানসিন নির্যাতন চালায়। এখন সে ১০ লক্ষ টাকা যৌতুক দাবি করে। এখন কোথায় যাবেন কি করবেন? কোন কুল কিনারা পাচ্ছেন না এ স্কুল প্রধান। তাই ন্যায় ন্যায় বিচার পেতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে আইনী সহায়তার দাবি জানান এ স্কুল শিক্ষক।

এ ঘটনায় চিরিরবন্দর থানায় একটি মামলা হয়েছে।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ