• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৩২ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

নওগাঁয় করোনা উপসর্গ নিয়ে নিহতের লাশ দাফনে রোভার স্কাউট

আশরাফুল নয়ন, নওগাঁ ।। নওগাঁয় করোনা উপসর্গ নিয়ে ঢাকা ফেরত এক ব্যক্তি (৬০) মারা যাওয়ার পর রোভার স্কাউটের চার সদস্য লাশ দাফন করেছে। লাশ কবরে নামানোর সময় তাদের তেমন কোন নিরাপত্তার ব্যবস্থা ছিলনা। ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ফেসবুকে চলছে নানান সমালোচনা। করোনা উপসর্গ নিয়ে নিহতের দাফন-কাফনে উপজেলায় যে কমিটি আছে তারা যথাযথ দায়িত্ব পালন না করার প্রশ্ন উঠেছে। এদিকে, নিহতের রিপোর্ট পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে সিভিল সার্জন অফিস।

জানা গেছে, শুক্রবার বিকেল ৪টার দিকে নওগাঁ সরকারি কবর স্থানে নিহতের নামাযে জানাযা ও দাফন সম্পূর্ন হয়। এসময় নিহতের পরিবারের কেউ ছিলেন না। করোন ভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে মৃত ব্যক্তির দাফন-কাফনের জন্য সদর উপজেলার ইসলামিক ফাউন্ডেশন থেকে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটির পাঁচ সদস্য এবং রোভার-স্কাউটের চার সদস্য নিহতের নামাযে জানাযা ও দাফন করেন।

রোভার-স্কাউটের সদস্যরা হলেন- শহরের চকদেব জনকল্যাণ মহল্লার বাসিন্দা ফরিদ আলম, নিরব হোসেন, মারুফ হোসেন ও সোহাগ হোসেন। ফরিদ আলম সান্তাহার সরকারী কলেজে এবার উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী এবং বাকী সবাই জনকল্যান মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেনীর ছাত্র। তাদের পায়ে জুতা, হাতে গ্লোবস ও মুখে মাস্ক ছিল। তবে উপজেলার ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সদস্যদের ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম (পিপিই) পরিহিত অবস্থায় কবরের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। রোভার-স্কাউটের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতার মধ্য দিয়ে করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃত ব্যক্তির লাশ কবরে নামানোর ছবি নিয়ে ফেসবুকে চলছে নানান সমালোচনা।

ঘটনার পর থেকে রোভার-স্কাউটের পরিবারকে বাড়ি থেকে প্রতিবেশীরা বের হতে দিচ্ছেনা বলে অভিযোগ উঠেছে।

রোভার-স্কাউট ফরিদ আলম জানায়, শুক্রবার এলাকার এক বড় ভাইয়ের ফোন পেয়ে নিহতের বাড়িতে যায়। এরপর তার রোভার-স্কাউট সদস্যদের ডেকে নেয়। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পাঁচজন ব্যক্তি আসছিল তারা বয়স্ক হওয়ার হিতদের বাড়ি থেকে মরদেহ বের করতে কষ্টবোধ হচ্ছিল। এজন্য তারা নিজ থেকে মরদেহ বাড়ি বের করতে সহযোগীতা করে। তবে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের লোকজন গোসল ও জানাযা করাই। পরে আমরা দু’জন মিলে মরদেহ কবরে নামাই। ঘটনার পর থেকে রোভার-স্কাউটের চারজনে আমার বাড়িতে আছি। আমরা চারজন রান্না করে খাচ্ছি। তবে বাসার মালিক আমাকে বাসা ছেড়ে দিয়ে চলে যেতে বলেছেন।

নিরব হোসেন জানায়, তার পরিবারকে গতকাল থেকে বাড়ি থেকে প্রতিবেশীরা বের হতে দেয়নি। তার বাবা মিন্টু সকালে শহরের সরিষাহাটির মোড়ে চায়ের দোকানে গেলে স্থানীয়রা চা দোকান খুলতে দেয়নি এবং সেখান থেকে তাকে তাড়িয়ে দেয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়।

মনোয়ার লিটন ফেসবুকে তার আইডিতে লিখেছেন, ছেলে দুটি কে আমি জানি না, তোমাদের যে মা জন্ম দিয়েছে তার পা ধুয়ে পানি খাবার যোগ্যতাও আমার নেই, প্রশ্নটা হলো অবেগ দিয়ে তো যুদ্ধে জেতা যায় না। যারা জানায়া পরালো তারা পিপিই পেলো, যারা লাশ কবরে নামালো তারা পিপিই পেলো না, এটা কোন ধরনের দায়িত্বশীলতা, এখন আল্লাহর কাছে একটাই চাওয়া আল্লাহ কাল যেনো এই মরা ব্যক্তির মেডিকাল রিপোর্ট করনা নেগেটিভ হয়।

সমাজসেবী মৌসুমি সুলতানা শান্ত লিখেছেন, এই তিন স্কাউট সদস্যরা ভালো কাজ করেছে এটা আমরা সবাই মানি। কিন্তু প্রশাসন তাদের দায়িত্ব সঠিক ভাবে পালন করেনি। এদের পিপিই ছারা কেনো কবরে নামতে দেওয়া হলো। এখানে যারা পিপিই পরে ছিলো তারা কেনো নামলো না। যদিও করোনা সনাক্ত হয়নি এখনও। আর যদি হয় তাহলে কি হবে ভেবে দেখেছেন একবার। যাদের দায়িত্ব ছিলো তাদের উদ্দেশ্যে বলছি। আপনারা এতো বড় ঝুকি নিলেন কেনো??? এর দায় ভার কে নিবে। যারা দায়িত্ব অবহেলা করেছে তাদের কি কোন শাস্তি হবে??? তাদের নিরাপত্তার কি কোন ব্যবস্থা করা হয়েছে???? আল্লাহ পাক এর কাছে এখন দোয়া করা ছারা কোন উপায় নাই। মৃত ব্যক্তির রিপোর্ট টা যেনো নেগেটিভ আসে। আল্লাহ পাক সহায় হোন সকলের প্রতি।

কমিটির সাধারন সম্পাদক কারী রমজান আলী বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের নির্দেশনা পাওয়ার পর প্রতি উপজেলায় ইসলামীক ফাউন্ডেশন থেকে করোনা উপলক্ষে নিহতের দাফন-কাফনের জন্য পাঁচ জন করে কমিটি গঠন করা হয়েছে। ডিসি অফিস থেকে অ্যাম্বুলেন্স পেয়েছিলাম। লাশের গোসল, কাপড় পরানো ও পলিথিন জড়ানোর কাজ আমরা করেছিলাম। তবে রোভার স্কাউটের সদস্যরা কোথায় থেকে কিভাবে আসছে জানিনা। তারা আমাদের যথেষ্ট সহযোগীতা করেছে। তাদের নিরাপত্তার অভাব ছিল। তবে অনেক প্রতিবন্ধকতার মধ্য দিয়ে দাফন-কাফনের কাজ সম্পূর্ন হয়েছে।

নওগাঁ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে একটা কমিটি করা হয়েছে। এ কমিটির পক্ষ থেকে দাফন কাফন সম্পূর্ন করা হবে। যেহেতু রোভার-স্কাউটরা এ কাজটি করেছে, তবে তাদের যদি কোন ধরনের সমস্যা হয়ে থাকে আমাকে জানানো হলে পুলিশ পাঠিয়ে বা নিয়ে গিয়ে বিষয়টি দেখবো।

উল্লেখ্য, করোনা উপসর্গ নিয়ে নিহতের বাড়ি শহরের চকদেব জনকল্যাণ মহল্লায় বি-ব্লকে। তিনি নিজ বাড়িতে শুক্রবার ভোরে মারা যান। ঢাকায় একটি বে-সরকারী কোম্পানীতে চাকুরী করতেন। গত ১৫ এপ্রিল তিনি নওগাঁয় আসেন। এরপর থেকেই জ্বর-সর্দিতে ভূগছিলেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে বিষয়টি জানার পর নওগাঁ সদর উপজেলা মেডিকেল টিম তার নমুনা সংগ্রহ করে। কিন্তু শুক্রবার ভোরে তিনি মারা যান।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ