সাভার, ২২ এপ্রিল ।। সাভারের ব্যাংক কলোনি এলাকার বাসিন্দা সাথী বেগম। দুই সন্তানসহ দুই দিন ধরে অভুক্ত ছিলেন তিনি। কোথাও একটু ত্রাণ মেলেনি। ১৮ মাস বয়সী ছোট সন্তানের জন্য দুধ কেনার টাকাও হাতে ছিল না। মাথার চুল বিক্রি করে বাচ্চার জন্য দুধ কিনেছেন ওই মা।
অভাবের তাড়নায় ময়মনসিংহ থেকে চার মাস আগে রাজধানীর মিরপুরে আসে সাথী বেগমের পরিবার। সেখান থেকে দেড় মাস আগে সাভারে আসেন তারা।
সাথী বেগম জানান, স্বামী-সন্তানসহ সাভারের ব্যাংক কলোনি এলাকায় টিনশেডের ভাড়া বাড়িতে থাকেন তিনি। স্বামী মানিক দিনমজুর। তিনিও বিভিন্ন বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করতেন। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের পর থেকে তার কাজ বন্ধ। স্বামীও বেকার হয়ে বাড়িতে বসে আছেন। দুই দিন ধরে ঘরে খাবার ছিল না। এ এলাকায় নতুন এসেছেন, তাই কাউকে তেমন চেনেন না। কোথায় ত্রাণ দেওয়া হয়, সেটাও জানা নেই। প্রতিবেশীর কাছ থেকে খবর পেয়ে দুই জায়গায় ত্রাণের জন্য গিয়েছিলেন। তবে অচেনা হওয়ায় তাকে কেউ ত্রাণ দেননি। আজ হকারের (চুল ক্রেতা) কাছে মাথার চুল বিক্রি করে পাওয়া ১৮০ টাকায় শিশু সন্তানের জন্য দুধ ও চাল কিনেছেন সাথী বেগম।
সাথী বেগমের প্রতিবেশী রিকশাচালক সুমন বলেন, ‘সড়কে যাত্রী নেই। আমরাও কোনো রকমে বেঁচে আছি। সাথী বেগমকে সহযোগিতা করার মতো সামর্থ আমাদের নেই।’
বিষয়টি সাভার উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভুমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল মাহফুজকে জানালে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তাকে নগদ ছয় হাজার টাকা আর্থিক সাহায্য এবং ১৫ দিনের খাদ্যসামগ্রী উপহার দেন।
তিনি বলেন, গণমাধ্যমকর্মীদের মাধ্যমে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে খাবারসহ আর্থিক সহয়তা দেওয়া হয়েছে।