সিসি ডেস্ক, ১৬ মে ।। রংপুরের পীরগঞ্জে এক কলেজ শিক্ষকের (প্রভাষক) বিরুদ্ধে নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগ উঠেছে। এ কারণে পীরগঞ্জ সরকারি শাহ আব্দুর রউফ কলেজের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের ওই শিক্ষক শহীদুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। অভিযুক্ত শিক্ষক পীরগঞ্জ উপজেলার বাজিতপুর গ্রামের মৃত মহর উদ্দিন সরকারের ছেলে। ১৯৯৬ সালের ২৮ জুন প্রভাষক হিসেবে চাকরিতে যোগদান করেন তিনি।
অভিযোগে জানা যায়, কলেজ মোড়ের সাবেক এক প্রভাষকের বিধবা স্ত্রীকে বিভিন্নভাবে উত্ত্যক্ত করতেন ওই শিক্ষক। গত ৬ মে রাতে ওই তিনি প্রাচীর টপকে ওই বিধবার কক্ষে ঢুকে মোবাইল রিসিভ না করার কারণে তাকে মারপিট করতে থাকে। একপর্যায়ে বিধবার চিৎকারে তার দুই ছেলেসহ আশপাশের লোকজন ছুটে এসে তাকে উদ্ধারসহ শিক্ষককে গণধোলাই দেয়। পরদিন এ ব্যাপারে কলেজের অধ্যক্ষ বরাবরে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। এর প্রেক্ষিতে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন অধ্যক্ষ। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে প্রাথমিকভাবে বিষয়টি সত্য প্রমাণিত হওয়ায় বিধি অনুয়ায়ী ওই শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
অভিযুক্ত শহীদুল ইসলামের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, ঘটনার সাথে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। কোনো একটি মহল আমার বিরুদ্ধে মিথ্যে ষড়যন্ত্র করে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে।
তদন্ত কমিটির প্রধান ভাইস প্রিন্সিপাল শহিদুল ইসলাম বলেন, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আমরা অভিযুক্ত শিক্ষক শহীদুল ইসলামকে নোটিশ করলে তিনি তিন দিন পর তা গ্রহণ করেন। কৌশলে এড়িয়ে যাবার চেষ্টাসহ কলেজে ডাকমারফত ১৫ দিনের ছুটির আবেদন পাঠান। ঘটনার সরেজমিন তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেছে। লিখিতভাবে তদন্ত প্রতিবেদন কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
কলেজের অধ্যক্ষ রাশেদুন্নবী জানান, অভিযুক্ত শিক্ষক অদ্যাবধি কলেজ কর্তৃপক্ষের সাথে সাক্ষাৎ করেননি। তদন্ত প্রতিবেদনে ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
কলেজ পরিচালনা পর্ষদ সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা টি এম এ মমিন জানান, তদন্ত কমিটির রিপোর্ট অনুযায়ী ওই শিক্ষকের নারী নির্যাতন বিষয়ে আনীত অভিযোগটি সন্দেহাতীতভাবে সত্য প্রমাণিত হওয়ায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি মোতাবেক (১৬ ধারার ‘ছ’ অনুচ্ছেদে বর্ণিত নির্দেশনাবলি, চাকরিবিধি) এবং কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মোতাবেক গত ১১ মে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
উৎস: কালেরকন্ঠ