• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৪৪ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

খানসামায় লতিরাজ কচু চাষে সাফল্য

এস.এম.রকি, খানসামা (দিনাজপুর) : গরীবের সবজি হিসেবে পরিচিত কচু একটি আয়রন ও ভিটামিন সি সমৃদ্ধ সবজী জাতীয় ফসল। যে সব কচু দাড়ানো পানিতে চাষ করা হয় সেগুলোকে পানি কচু বলে। বাংলাদেশে পানি কচুর উল্লেখযোগ্য জাতগুলোর মধ্যে লতিরাজ কচু অন্যতম। এই কচু প্রচুর পরিমাণে পুষ্টি সমৃদ্ধ।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কন্দাল ফসল উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় নিরাপদ সবজী লতিরাজ কচু চাষ করে প্রথম বছরেই সাফল্য পেয়েছে দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার দক্ষিণ বাসুলী প্রামের কৃষক হামিদুল ইসলাম।

কৃষক হামিদুল ইসলাম জানান, কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় ও পরামর্শে এবছরের এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি সময়ে ২০ শতক জমিতে জয়পুরহাট থেকে কৃষি বিভাগের মাধ্যমে সংগৃহীত উন্নত জাতের ২৫০০ লতিরাজ কচু চারা রোপণ করা হয়। কচু চারা রোপণের প্রায় ২৫দিন পরেই তিনি ১৮-২০টাকা কেজি দরে কচুর লতি বিক্রি শুরু করেন। প্রতি সপ্তাহে প্রায় এক মণ কচুর লতি উত্তোলন করে এখন পর্যন্ত বাজারে প্রায় ৬মন লতি বিক্রি করেন।

তিনি আরো জানান, সব মিলিয়ে প্রায় ২০মণ লতি বিক্রি করতে পারবেন এবং ফসল সংগ্রহ শেষে কচু চারা হতে আরো প্রায় ৪৫হাজার টাকা আয় করা যাবে। এতে অন্যান্য ফসলের উৎপাদন খরচের চেয়ে লতিরাজ কচুতে অল্প পুঁজিতে ভালো লাভ পাওয়া হয়।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, খানসামা উপজেলায় প্রকল্পের মাধ্যমে ১৫ জন প্রদর্শনীভুক্ত কৃষক-কৃষাণী উন্নত জাতের মুখী কচু,পানি কচু ও লতিরাজ কচু চাষের আওতায় এসেছেন এবং প্রশিক্ষণ নিয়ে কচু চাষে সাফল্য পেয়েছেন।

কয়েকজন কৃষকের সাথে কথা হলে তারা জানান, আয়রণ সমৃদ্ধ এ সবজির লতি,পাতা এবং কচু কোনটারই অপচয় হয় না। লতিরাজ কচু অনেকের প্রিয় সবজি। কচুপাতা শাক হিসেবে বিক্রি ও জৈব সার তৈরিতে ব্যবহৃত হয় এবং কন্দটি সবজি হিসেব বিক্রি হয়। অনেকে কম্পোস্ট সার তৈরিতে ব্যবহার করছেন কচুপাতা।

উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা গোপাল রায় জানান, অল্প সময়ে ভালো ফলন হওয়ায় আর এটি সুস্বাদু ও অন্যান্য ফসলের উৎপাদন খরচের চেয়ে লতিরাজ কচু চাষে খরচ কম ও লাভ বেশি হওয়ার কচু চাষে সাফল্য পেয়েছে লতিরাজ কচু চাষীরা।

খানসামা উপজেলা কৃষি অফিসার মো:আফজাল হোসেন জানান, কন্দাল ফসল উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় কৃষকদেরকে লতিরাজ কচু চাষে উদ্বুদ্ধ করা হয়। লতিরাজ কচুর ভালো ফলন ও বাজারের চাহিদার কারনে ইতিমধ্যেই অনেক কৃষক চাষ করার ইচ্ছা পোষণ করেছেন। কৃষকরা যদি কৃষি বিভাগের পরামর্শে যথাযথভাবে এ জাতের কচু চাষ করেন,তাহলে দেশের কৃষিতে নতুন দিগন্তের সূচনা উন্মোচিত হতে পারে এবং এটি বিদেশে রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ