সিসি ডেস্ক, ২৪ আগষ্ট ।। কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় শিক্ষকের ধর্ষণের শিকার হয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে মাশফি সুমাইয়া নামে এক কলেজছাত্রীর আত্মহত্যার ঘটনায় মামলা হয়েছে। গতকাল রোববার বিকেলে ওই ছাত্রীর বাবা মো. শামীম মিয়া বাদী হয়ে পাকুন্দিয়া থানায় মামলাটি করেন।
মামলায় অভিযুক্ত শিক্ষক রাসেল আহমেদকে একমাত্র আসামি করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে ওই শিক্ষক পলাতক। রাসেল আহমেদ কিশোরগঞ্জ জেলার করিমগঞ্জ উপজেলার নোয়াবাদ গ্রামের রহমত আলীর ছেলে। বর্তমানে সে ঢাকার একটি কলেজে প্রভাষক হিসেবে কর্মরত।
মামলা হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছেন পাকুন্দিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. শ্যামল মিয়া। জানা যায়, উপজেলার ষাইটকাহন গ্রামের মো. শামীম মিয়ার মেয়ে মাশফি সুমাইয়া বর্তমানে কিশোরগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজের গণিত বিভাগের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।
২০১৭ সালে সে কালিয়াচাপড়া চিনিকল উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করে। সেই স্কুলে পড়ার সময়ে স্কুলের খন্ডকালীন শিক্ষক রাসেল আহমেদ এর কাছে প্রাইভেট পড়তো সে। সে সুবাদে রাসেল আহমেদ এর সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে সুমাইয়ার। দুজন পৃথক স্থানে থাকলেও তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক চলছিল। গত তিন বছর ধরে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সুমাইয়াকে ধর্ষণ করে আসছিল রাসেল।
গত শুক্রবার (২১শে আগস্ট) গোপনে অন্য একটি মেয়েকে বিয়ে করে রাসেল। এমন খবর সইতে না পেরে পরের দিন শনিবার (২২ আগস্ট) সকাল ৭টার দিকে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে নিজ বাড়ির ঘরের আড়ার সঙ্গে বেঁধে আত্মহত্যা করে সুমাইয়া। আত্মহত্যা করার আগে ওই শিক্ষকের ছবিসহ ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেয় সুমাইয়া। পাকুন্দিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো .শ্যামল মিয়া বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষক রাসেল আহমেদকে আসামি করে থানায় মামলা হয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।