ঢাকা: দল থেকে বহিষ্কারের হুমকিও কাজে আসছে না। উপজেলা নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী ঠেকাতে পারছে না ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। বিদ্রোহী ঠেকানোর সব সব কৌশল ব্যর্থ হয়ে গেছে। কেন্দ্রীয়ভাবে দলটির সাত বিভাগে সাতটি টিম সফর করে তৃণমূলের দ্বন্দ্ব মিটিয়ে একক প্রার্থী নিশ্চিত করতে প্রাণপণ চেষ্টা করেও লাভ হয়নি। ফলে বিরোধী দলবিহীন জাতীয় নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় পেলেও উপজেলা নির্বাচন নিয়ে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে যাচ্ছে ক্ষমতাসীন দলটি।
দলীয় সূত্র জানায়, উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে একক প্রার্থী দিতে দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা ও সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম সব জেলা ও উপজেলায় চিঠি দেন। চিঠিতে বলা হয়, যারা দলের সিদ্ধান্তের বাইরে কেউ বিদ্রোহী হলে দল থেকে বহিষ্কারসহ কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। চিঠিতে কাজ না হওয়ায় কেন্দ্রীয়ভাবে গত ৩০ জানুয়ারি সাত বিভাগে সাতটি টিম পাঠানো হয়। তাতেও কোনো কাজ হচ্ছে না। বিদ্রোহী ঠেকাতে দলটির সব চেষ্টাই ব্যর্থতায় পর্যবসিত হচ্ছে।
উপজেলা চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় নির্বাচনকে ঘিরে এখন দ্বন্দ্ব মেটানো তো দূরের কথা দলাদলি আরো প্রকট হচ্ছে। কেন্দ্র থেকে স্থানীয় এমপিদের চেয়ারম্যান পদে নাক না গলাতে নির্দেশ দেয়া হলেও কোথাও কোথাও তারা নিজের পছন্দের প্রার্থী দেয়ার চেষ্টা করছেন বলেও সূত্রে জানা গেছে।
জেলায় খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, প্রথম দফায় দেশের যে ৪০ জেলার ৯৭ উপজেলায় ভোটগ্রহণ হতে যাচ্ছে তাতে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনে ২৬৯ জন নেতা শুধু চেয়ারম্যান পদেই প্রার্থী হয়েছেন। অন্য দুইটি পদের একই চিত্র। কেউ কাউকে ছাড় দিতে নারাজ। ৯৭টি উপজেলার মধ্যে মাত্র ২১টিতে একক প্রার্থী দিতে সক্ষম হয়েছে দলটি। বাকিগুলোতে গড়ে তিন-চারজন করে প্রার্থী নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন।
নরসিংদী জেলার পলাশ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের সর্বোচ্চ নয়জন প্রার্থী রয়েছেন। আর নড়াইলের কালিয়া উপজেলায়ও দলটির আট প্রার্থী নির্বাচনে মনোনয়ন জমা দিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন। খুলনার দীঘলিয়া উপজেলায় দুজন এবং কয়রা উপজেলায় আওয়ামী লীগের পাঁচ জন দলীয় প্রার্থী রয়েছেন। সিলেট জেলার ছয়টি উপজেলার চারটিতেই আওয়ামী লীগের দুজন করে প্রার্থী রয়েছেন। মাত্র দুটি উপজেলায় একক প্রার্থী রয়েছে। একই চিত্র অধিকাংশ উপজেলায়। এগুলোতে গড়ে তিন থেকে চার জন প্রার্থী রয়েছেন বলেও দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
দলীয় সূত্র জানায়, গত বৃহস্পতি, শুক্র ও শনিবার রাজধানীর ধানমণ্ডিস্থ দলীয় সভাপতির কার্যালয়ে ঢাকা, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট, বরিশাল ও রংপুর বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাতটি টিম আলাদা বৈঠক করেছে। এসব বৈঠকে প্রতিটি পদে একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন কেউ কেউ।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় নেতারা বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করার অনুরোধ জানান। কিন্তু নেতাদের অনুরোধ তারা গ্রাহ্য করেননি।
তবে তৃণমূলে দ্বন্দ্বের কথা অস্বীকার করে রংপুর বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, একক প্রার্থী দেয়ার জন্য দলের পক্ষ থেকে দেয়া চিঠিটি পৌঁছাতে দেরি হয়ে গেছে। এ কারণেই অনেক উপজেলায় দল থেকে একই পদে একাধিক জন প্রার্থী হয়েছেন।
তবে পরে দলীয় সিদ্ধান্তের কথা জেনে অনেকেই মনোনয়ন প্রত্যাহার করার কথা জানিয়েছে বলে জানান তিনি। আর যারা প্রাত্যাহার করবে না তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠকি ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও হুঁশিয়ার করে দেন খালিদ মাহমুদ।
উল্লেখ্য, ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, সোমবার প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন। প্রথম ধাপে দেশের ৪০ জেলার ৯৭টি উপজেলায় ভোটগ্রহণ হবে আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি।
বাংলামেইল২৪ডটকম