ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধি : নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার স্বাস্থ্য বিভাগে হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন ও ২১তম জাতীয় টিকা দিবসে বিভিন্ন অনিয়ম-দূর্নীতির মাধমে কার্যক্রমটি চালিয়ে স্বাস্থ্য বিভাগ। এ কার্যক্রমে অনিয়মের মাধ্যমে স্বাস্থ্যকর্মীরা হাতিয়ে নিচ্ছে হাজার টাকা। জানা গেছে, উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে ৫৬টি বিশেষ টিকাদান টিমের মাধ্যমে গত ২৫ জানুয়ারী থেকে প্রতিদিন এ ক্যাম্পেইন চালু করা হয়েছে। কার্যক্রমটি চলবে আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত। সূত্রে প্রকাশ, প্রতিটি টিকাদান টিমে ২জন দক্ষ টিকাদানকারী ও ৩ জন স্বেচ্ছাসেবক কাগজ কলমে থাকলেও টিমে ১জন টিকাদান কারী ও ১/২জন স্বেচ্ছাসেবক দিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। উপজেলার ৩০টি সাবেক ওয়ার্ডে প্রতিদিন প্রতি ওয়ার্ডে ১টি, প্রতি ইউনিয়নে অতিরিক্ত ২টি এবং উপজেলার স্থায়ী টিকাদান কেন্দ্রে (স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স) ১টি ও অতিরিক্ত ৫টি টিকাদান টিম কাজ করছে। এসব টিকাদান কেন্দ্র সুপারভিশন করেছে স্বাস্থ্য পরিদর্শক, সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক ও উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প কর্মকর্তা এবং অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ।
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, এসব টিকাদান কেন্দ্র পরিদর্শনকারী স্বাস্থ্য কর্র্মীগণ কৌশলে একই ব্যক্তি প্রতিদিন ৩টি টিমে নাম লিখিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছেন হাজার হাজার টাকা। একজন স্বাস্থ্য কর্মী একই দিনে সুপারভিশন টিম,টিকাদান কারী টিমে টিকাদান কারী ও অতিরিক্ত (মোবাইল) টিমের সদস্য হিসেবে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন। প্রশ্ন হলো কি করে একই ব্যক্তি একই দিনে দুই/তিন টিমে থেকে কাজ করছে। উল্লেখ্য, টিকাদান ক্যাম্পেইনে প্রতি ইউনিয়নের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১ লাখ ১০ হাজার করে ১০ টি ইউনিয়নে ১১ লাখ টাকা। স্বেচ্ছাসেবক প্রতিদিন পাবে ৫০ টাকা, স্বাস্থ্যকর্মী টিকাদানকারী ২০০ টাকা এবং পরিদর্শন টিমের সদস্য পাবে ২০০ টাকা। কিন্তু প্রতি স্বেচ্ছাসেবককে ৩০ টাকা, টিকাদানকারীকে প্রতিদিন ১৫০ টাকা পরিদর্শন টিমের প্রতি সদস্যকে ১৫০ টাকা প্রতিদিন দেয়া হয়েছে। ১৮দিন ব্যপি এ কার্যক্রমে হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে লাখ লাখ টাকা।
১ম ধাপে বিদ্যালয় ক্যাম্পেইনে স্বাস্থ্য পরিদর্শক ও সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক ২ সদস্য বিশিষ্ঠ মাই টিম থাকার কথা থাকলেও মাঠে কাউকেই দেখা যায়নি। এ ক্ষেত্রে তাদের প্রতিদিন ৬’শ টাকা সম্মানী দেখিয়ে কর্তৃপক্ষ পকেটস্ত করে ১২ হাজার টাকা। একই ভাবে এম আর (হাম-রুবেলা) ক্যাম্পেইন পরিদর্শন টিম কগজে কলমে সদস্য দেখিয়ে আত্মসাৎ করা হয় ১২ হাজার টাকা। মাঠ পর্যায়ে উপজেলার ১০ টি ইউনিয়নে ১ দিনের মাইকিং ৩০ হাজার টাকা বরাদ্দ থাকলেও নামে মাত্র ৩ হাজার টাকায় মাইকিং করে বাকী ২৭ হাজার টাকা আত্বসাৎ করা হয়েছে। বিভিন্ন বিদ্যালয়ের ৩০০ শিক্ষককে এক দিনের কর্মশালা করার কথা থাকলেও তা না করেই ৩৯ হাজার টাকার পুরোটাই পকেটস্ত। অন্যদিকে প্রতি ওয়ার্ডে ৪০ জন করে মোট ১২’শ স্চ্ছোসেবককে নিয়ে একদিনের কর্মশালা করার কথা থাকলেও তা না করে তাদের বরাদ্দকৃত ১ লাখ ৫৬ হাজার পুরো টাকাই আলেমুল গায়েব। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ ৮ সদস্য বিশিষ্ট কর্মকর্তা পর্যায়ে একটি উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন মোবাইল টিম মাঠে থাকার কথা থাকলেও তা না থেকেই ৭৬ হাজার টাকা পকেটস্ত করেছে কর্মকর্তা বৃন্দ।
উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের এমটি ইউপিআই টেকনোসিয়ান অজিত কুমার রায় বলেন, বরাদ্দ কম থাকায় উপজেলায় অবহিত করণ সভা সহ বিভিন্ন খাতে ব্যয় হওয়ায় স্বাস্থ্য কর্মীদের টাকা কম দেয়া হয়েছে। তবে স্বাস্থ্য পরিদর্শকগণ টিাকাদাকারী হিসেবে থাকার কথা স্বীকার করে বলেন কিছু ক্ষেত্রে এ রকম হয়েছে। তবে বিভিন্ন খাতে অর্থ আত্মসাতের বিষযটি কৌশলে এড়িয়ে যান তিনি। বিষয়টি নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প কর্মকর্তা ডা. সুলতান মাহবুব বলেন কোন অনিয়ম করা হয়নি। কোথাও হয়ে থাকলে তা তদন্ত করে দেখা হবে।