সিসি নিউজ ।। দিগন্ত জোড়া মাঠে ধানক্ষেত। কাঁচা পাকা ধানের শীষ বাতাসে দুলছে। চাষীরা ধান কেটে বাড়ির উঠানে তুলবে। ধু ধু মাঠের ওপর সকাল-সন্ধ্যায় ভারী হয়ে জমবে সাদা শুভ্র কুয়াশা। তারপর শীত এসে এই অবসন্ন প্রকৃতিকে নিষ্পেষিত করবে কনকনে ঠান্ডায়। এভাবেই হাজার বছর ধরে প্রকৃতিতে হেমন্তের আসা যাওয়া।
এখন চারটার পর থেকেই ছায়া ঘনিয়ে আসে। পাঁচটায় সন্ধ্যা ছুঁই ছুঁই। হেমন্ত এসেছে। দিন আরো ছোট হয়ে আসবে ক্রমেই। বরাবর এ সময়টায় বৃষ্টি থাকে না। কিন্তু এবার বৃষ্টি যেন থামছেই না। তাই অন্য বছরের মতো এবার হেমন্তের আগমন ভিন্ন।
সন্ধ্যা নামার আগেই কুয়াশার হালকা চাদরে ঢাকা পড়ে সন্ধ্যার প্রকৃতি। বাতাসে হিমেল আমেজ। পাখির কলকাকলীতে মুখরিত ভোর। নাম না জানা হাজার রকমের পরিযায়ী পাখি মুখর করে তোলে বাংলার নদী-মাঠ-জলাশয়। রক্তের রঙ বুকে মেখে হেসে ওঠে উষার আকাশ। কী নির্মল কী সিগ্ধ-হাস্যোজ্জল! ভোরের সোনালী আলোয় দুর্বা ঘাসের ডগায় মুক্তো-দানা হয়ে টলমল করতে থাকে শিশির। কোথাও আবার নিঝুমতা ভেঙে ডেকে ওঠে ডাহুক। আকাশে উড়ে বেড়ায় চেনা-অচেনা পাখির ঝাঁক।
নিকটতম বিল-ঝিল বা জলাশয়ের শোভা বর্ধন করে ফুটন্ত পদ্মফুল। বাহারি কলমিলতাও কম যায় না। কামিনী, গন্ধরাজ ও মল্লিকা ফুলে শোভিত হেমন্ত প্রকৃতি। মেঠো ফুল, বুনোফল ও বনের সবুজতো আছেই।
হেমন্তের শেষভাগে চলে ফসল তোলার তোড়জোড়। ধান কাটা ও ধান মাড়াইয়ে দিনমান ব্যস্ত থাকে গাঁয়ের কিষান-কিষানি। শত ব্যস্ততায়ও অবসন্ন হননা তারা। ক্লান্তিহীন কর্মমুখর জীবনে জড়িয়ে থাকে ফসলের হাসি- নবান্নের হাসি।
খুব ক্ষণস্থায়ী হেমন্ত অল্প সময়ের মধ্যেই বিভিন্ন রূপে নিজকে উপস্থাপন করে। গাঢ় কুয়াশার সাথে ভারি রূপ নেয় শীত। নতুন ধানে ভরে ওঠে আঙিনা। ঘরে ঘরে তৈরি হয় নতুন চালের হরেক রকম পিঠা। আগাম খেজুরের রস পাওয়া যায়। নবান্ন উৎসবের সাথে খেজুরের রস নতুন মাত্রা যোগ করে। গ্রাম বাংলার জলাশয় শুকিয়ে আসে। মাঠ-ঘাট-হাওর-বাওর-বিলে পড়ে যায় মাছ ধরার ধুম। যেগুলো গ্রামবাংলার চিরচেনা ঐতিহ্যের কথা মনে করিয়ে দেয়।
হেমন্তকে বলা হয় অনুভবের ঋতু। ম্লান, ধূসর, অস্পষ্ট। তাকে যেভাবে অনুভব করা যায়, সেভাবে দেখা যায় না। শীত, গ্রীষ্ম কিংবা বর্ষার মতো হেমন্ত তীব্র, প্রখর অথবা উন্মোচিত নয়। বসন্তের মতো তার বর্ণ, গন্ধ, গরিমা নেই। হেমন্ত মৌন, শীতল, বলা যায় অন্তর্মুখী।