সিসি নিউজ ডেস্ক ।। রাজধানীর দক্ষিণখান সরদার বাড়ি জামে মসজিদের সেপটিক ট্যাংক থেকে আজহারুল নামে এক গার্মেন্টস কর্মীর অর্ধগলিত ৭ টুকরা লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ওই মসজিদের ইমামের স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়ার কারণেই এ হত্যাকাণ্ড হয়েছে বলে ধারণা করছে পুলিশ।
এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে সরদার বাড়ি জামে মসজিদের ইমাম আব্দুর রহমানকে আটক করেছে র্যাব-১।
মঙ্গলবার ভোর ৫টার দিকে দক্ষিণখানের সরদার বাড়ি জামে মসজিদের সেপটিক ট্যাংকের ভেতর থেকে টুকরা লাশ উদ্ধার শুরু করে দক্ষিণখান থানা পুলিশ।
র্যাব সদর দপ্তরের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের সহকারী পরিচালক এএসপি আ ন ম ইমরান খান আটকের বিষয়টি জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, র্যাব-১ এর অভিযানে রাজধানীর দক্ষিণখানে মসজিদের সেপটিক ট্যাংক থেকে নিখোঁজ যুবকের খণ্ডিত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের মূলহোতা মসজিদের ইমামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এ বিষয়ে কারওয়ানবাজার র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত জানানো হবে।
দক্ষিণখান থানা পুলিশ জানায়, গত শুক্রবার থেকে আজহারুল নিখোঁজ ছিল। পরে অভিযোগ পেয়ে তদন্ত শুরু করে র্যাব। একটি সূত্রে খবর পেয়ে মসজিদের ইমাম আব্দুর রহমানকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকার করেন আজহারুলের লাশ কেটে ৭ টুকরা করে সেপটিক ট্যাংকের মধ্যে রাখা হয়েছে। পরে পুলিশের সহায়তায় মসজিদের সেপটিক ট্যাংক থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, আজহারুল পেশায় একজন গার্মেন্টস কর্মী। তিনি দক্ষিণখানের মধুবাগ এলাকার ইউসুফ গাজীর ৩৯ নম্বর বাসায় ভাড়া থাকতেন। তার বাড়ি টাঙ্গাইল জেলার কালিহাতী থানায়। ইমামের স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়ার কারণে এ হত্যাকাণ্ড হতে পারে।
এ বিষয়ে দক্ষিণখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শিকদার মোহাম্মদ শামীম বলেন, মসজিদের ইমাম আব্দুর রহমান ও আজহারুলের মধ্যে আগে থেকেই ভালো যোগাযোগ ছিল। গত শুক্রবার থেকে আজহারুল নিখোঁজ ছিল। র্যাব একটি সোর্সের মাধ্যমে খবর পায়, ইমাম আব্দুর রহমানকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে আজহারুলের সন্ধান মিলবে। পরে তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে আজহারুলকে ৭ টুকরা করে সেপটিক ট্যাংকের মধ্যে ফেলে সিমেন্ট ঢালাই করে দেয়া হয়েছে বলে জানা যায়। ইমামের তথ্যমতে ভোরে সেপটিক ট্যাংক থেকে তার টুকরা লাশ উদ্ধার শুরু করে পুলিশ। একে একে তার শরীরের বিভিন্ন টুকরা অংশ বের করে আনা হয়। পরে সেগুলো পুরোপুরি মিলে যায়।