• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৫১ অপরাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

করোনার মাঝে সৈয়দপুরে ৪’শ রেলওয়ে কোচ মেরামতের কাজ চলছে

।। রেজা মাহমুদ ।। করোনার মাঝেও দেশের বৃহত্তম সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় কোচ মেরামতকাজ চলছে পুরোদমে। নানা সীমাবদ্ধতা সত্বেও চলতি অর্থবছরে ৪’শ কোচ মেরামত হচ্ছে এ কারখানায়।
এরই মধ্যে গত ১১ মাসে  ৩৮০ টি কোচ রেলওয়ে পরিবহন (ট্রাফিক) বিভাগের হাতে হস্তান্তর করা হয়েছে।  জুন মাসের মধ্যে বাকি কোচগুলোও হস্তান্তর শেষ হবে। এসব তথ্য জানা গেছে সৈয়দপুর রেলওয়ে সূত্রে।
সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক (ডিএস) জয়দুল ইসলামের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, এ কারখনায় সারা বছর ধরে চলে মেরামতকাজ। করোনাকালেও মেরামতকাজ থেমে নেই। কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে কারখনায়। সামাজিক দুরুত্ব বজায় রেখে শ্রমিকরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

সরেজমিন সৈয়দপুরের রেলওয়ে কারখানা ঘুরে দেখা যায়, রেলওয়ের কারখানার উপ-কারখানা ক্যারেজ, জেনারেল ওভারহোলিং (জিওএইচ) ও ক্যারেজ হেভি রিপিয়ার (সিএইচআর) শপে শ্রমিক-প্রকৌশলীরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে কাজ করে চলেছেন।
ক্যারেজ শপের শ্রমিক  আমিনুর রহমান  জানান, লকডাউনে সরকারি অন্যান্য প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও তারা কোন ছুটি কাটননি। প্রতি বছরের মত  এ বছরও ক্যারেজ মেরামতের বিশাল লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হয় তাঁদের। সে অনুযায়ী তাঁরা সবাই মিলে কাজ করছেন।
রেলওয়ে সূত্র জানায়, সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখনায় তিন হাজার ২৮৪ জন শ্রমিক থাকার কথা থাকলেও এখন কর্মরত আছেন মাত্র এক হাজার ৭০৪ জন। এছাড়া আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় সৈয়দপুর রেলওয়ে জেলা সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে যথাসময়ে চাহিদামতো কাঁচামাল মেলে না। ওই কার্যালয়ের মজুত থেকে রেলওয়ে কারখানাটিতে কাঁচামাল সরবরাহ করা হয়। কিন্তু চলতি অর্থবছর জেলা সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে কাঁচামালের তীব্র সংকট দেখা দেয়। ফলে মেরামতের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছিল।
কাঁচামাল সংকটের বিষয়টি স্বীকার করে জেলা সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক (ডিসিওএস)  বলেন, কোভিড-১৯ ভাইরাস সংক্রমন রোধে চলমান লকডাউনের কারনে কারখানার সময়মত চাহিদা অনুযায়ী সরঞ্জাম সরবরাহ দেওয়া সম্ভব হয়নি ।

স্বল্পসংখ্যক জনবল দিয়েই চলছে কারখানায় রেলকোচ মেরামতের নিয়মিত কার্যক্রম। আবার বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসবে, বিশেষ করে দুই ঈদে যাত্রীদের পরিবহনসেবা নিশ্চিত করতে দৈনন্দিন কাজের অতিরিক্ত হিসেবে মেরামত করতে হয় অধিকসংখ্যক কোচ। এই অবস্থায় জনবল ও কাঁচামাল সংকট নিরসনে সরকারিভাবে পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলে মনে করেন এখানকার শ্রমিক-কর্মচারীরা।
কারখানার রেলওয়ে শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক উপজেলা পরিষিদের চেয়ারম্যান মোখছেদুল মোমিন অতি শিগগিরি শূন্য পদে নিয়োগ দেওয়ার দাবি জানান। তিনি বলেন, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা নিরসন করে  আমদানি করা রেলওয়ে সরঞ্জাম ও কাঁচামাল চট্টগ্রামের পরিবর্তে সরাসরি সৈয়দপুর স্টোর ডিপোতে সরবরাহ করলে  কারখানায় উৎপাদন বাড়বে। সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখনার কর্মব্যবস্থাপক (ডব্লিউএম) শেখ হাসানুজ্জামান বলেন  সীমাবদ্ধতা থাকা সত্বেও আমরা রেলওয়েকে ৩৮০টি কোচ প্রদান করেছি। এ থেকে বোঝা যায় আমাদের শ্রমিক-প্রকৌশলীরা কতটা আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ