বিশেষ প্রতিনিধি ।। একটি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের লোগোসহ সাইনবোর্ড লাগানো হয়েছে টয়লেছে। দীর্ঘ দিন থেকে এ অবস্থায় থাকলেও স্কুল কর্তৃপক্ষ বা প্রশাসনের কারোই কোন মাথা ব্যাথা নেই। এমনকি উপজেলা শিক্ষা অফিসারসহ সরকারী বিভিন্ন কর্মকর্তা প্রতিষ্ঠানে আসলেও তারা এ নিয়ে কোন ভ্রুক্ষেপই করেননি। যেমন ভ্রুক্ষেপ নাই ওই প্রতিষ্ঠানটির উন্নয়নের নামে নিম্নমানের কাজ করে সরকারী বরাদ্দের টাকা তসরুপ ও পরিচালনা কমিটিতে একই পরিবারের ৪ সদস্যের অবস্থান সহ প্রধান শিক্ষকের নানামুখী অনিয়ম ও দূর্নীতি নিয়ে। শিক্ষা কর্মকর্তার সাথে কমিটির সভাপতি ও প্রধান শিক্ষকের কমিশন সখ্যতা থাকায় কর্তৃপক্ষ দেখেও না দেখার ভান করে প্রশ্রয় দিয়ে চলেছেন তাদের সকল অপকর্ম।
এসব অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদ করলে এবং সরকারী বরাদ্দ যথাযথভাবে কাজে লাগিয়ে স্কুলের উন্নয়ন সঠিকভাবে করার জন্য দাবি জানালে প্রতিষ্ঠাতা ও জমিদাতার পরিবার ও এলাকার কয়েকজন সহৃদয় ব্যক্তির উপর প্রাণঘাতি হামলা করাসহ নানাভাবে হুমকি দিয়ে চলেছে সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক। ফলে এ ব্যাপারে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষসহ সমাজের সচেতন মহল ও সংবাদকর্মীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন প্রতিষ্ঠানের শুভাকাঙ্খীসহ সচেতন এলাকাবাসী।
এমনই অরাজক ঘটনা ঘটেছে দিনাজপুর জেলার চিরিরবন্দর উপজেলার ৪ নং ইউসুফপুর ইউনিয়নের চকসুদাম চরকডাঙ্গা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়কে ঘিরে।
এ পর্যন্ত প্রায় ৫ লাখ ৬০ হাজার টাকা সরকারী অর্থ ব্যয় হলেও উন্নয়ন হয়নি অর্ধ্যেকও। এমন অনিয়ম ও দূর্নীতি করতেই কমিটির সভাপতি নরেশ চন্দ্র দাস তার পরিবারের ৪ জনকে সদস্য করেছে সম্পূর্ণ অবৈধভাবে। এলাকাবাসী এই কমিটিকে পকেট কমিটি উল্লেখ করে বলেন, ২০০২ সালে স্থানীয় সহৃদ ব্যক্তি অমূল্য সরকার ৩৩ শত জমি দান করলে এলাকার শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিরা মিলে চকসুদাম চরকডাঙ্গা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করা হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এলাকাবাসীর সহায়তায় সামর্থ্য অনুযায়ী উন্নয়ন করার পাশাপাশি ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা পরিষদের জনপ্রতিনিধিসহ প্রশাসনের সহায়তায় বিভিন্ন উন্নয়ন ফান্ড বরাদ্দ আনা হয় প্রতিষ্ঠানের জন্য।
এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরে মোট ৫ লাখ ৬০ হাজার টাকা বিভিন্ন ফান্ডে বরাদ্দপ্রাপ্ত হয়ে কাজ করার সুযোগ সৃষ্টি হয়। কিন্তু পকেট কমিটির সভাপতি নরেশ চন্দ্র রায় ও প্রধান শিক্ষক আজাহার আলী যোগসাজশ করে বরাদ্দ অনুযায়ী যথাযথভাবে কাজ না করে ভাউচার সর্বস্ব কাজ দেখিয়ে অর্থ লোপাট করে। যা উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মিজানুর রহমানের সাথে যোগ সাজশেই করেছে ওই পকেট কমিটি।
এ ব্যাপারে মুঠোফোনে কথা হয় সভাপতি নরেশ চন্দ্র দাসের সাথে। তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানে কি আমি চাকরি করি। কোথাও কোন অনিয়ম দূর্নীতি হলে সেটা তো আমার দেখার বিষয় নয়। সেটা দেখবে প্রধান শিক্ষকসহ অন্যান্য শিক্ষকরা। আর তা তদারকি করছেন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা। স্কুলের যেটুকু বরাদ্দ এসেছে এবং কাজ হয়েছে তা সম্পূর্ণভাবে প্রধান শিক্ষক করেছে। এব্যাপারে আমি কিছুই জানিনা।
প্রধান শিক্ষক আজাহারুল ইসলাম মুঠোফোনে বলেন, আমি দায়িত্ব থাকাকালিন যা বরাদ্দ পেয়েছি তা সম্পূর্ণ কাজে লাগিয়েছি। যার প্রমাণ এর বিপরিতে যথাযথ ভাউচার। কোন অনিয়ম দূর্নীতি করিনি। করলে কি আর শিক্ষা অফিস নিশ্চুপ থাকতো। সাইন বোর্ড টয়লেটে থাকলে কি সমস্যা?
উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার মিজানুর রহমান মুঠোফোনে কথা হলে জানান, এ বিষয়ে রাতে আপনার সাথে কথা বলবো। এ মূহুর্তে কোন কিছু বলতে আমি রাজি নই।
প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শিলা রানী জানান, আমাকে কাগজে কলমে দায়িত্ব দেয়া হলেও সার্বিক কাগজপত্র ও অন্যান্য বিষয় যথানিয়মে বুঝিয়ে দেয়া হয়নি।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার আয়েশা সিদ্দিকা কে এ ব্যাপারে মুঠোফোনে জানানো হলে তিনি বলেন, আমি এ ব্যাপারে কিছুই জানিনা। বিষয়টি আমি দেখছি।