।। রেজা মাহমুদ ।। কোভিড-১৯ সংক্রমন প্রতিরোধে সরকারের ঘোষিত বার্তাসহ রেলের ১৭ নির্দেশনা মানা হচ্ছে না নীলফামারীর সৈয়দপুর রেলওয়ে স্টেশনে। অনলাইনে ৫০ শতাংশ টিকিট বিক্রি হলেও ট্রেনে আসনবিহীন যাত্রী উঠছে। এতে বাধা দিলে খারাপ ব্যবহার করা হচ্ছে। ট্রেন থেকে নামিয়ে দেওয়ারর হুমকি দেওয়া হচ্ছে টিকিটধারীদের। নিরুপায় হয়ে চরম স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে গন্তব্যে যেতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন যাত্রীরা।
তাঁদের অভিযোগ, স্টেশনের প্রবেশপথ ও ট্রেনে ওঠার সময় নেই হ্যান্ড স্যানিটাইজার প্রয়োগ কিংবা হ্যান্ড থার্মোমিটারের ব্যবহার। তবে সংশ্লিষ্টরা দুষছেন একে অপরকে। বলছেন লোকবল সংকটসহ নানা প্রতিকুলতার কথা।
মিজানুর রহমান নামের এক যাত্রী বলেন, আমি খুলনা যাব। অনলাইনে টিকিট নিয়েছি। নির্দেশনা অনুযায়ী আমার পাশের আসনটি ফাঁকা থাকার কথা। আমার নির্ধারিত আসনে বসার কিছুক্ষন পরেই ওই বগির দায়িত্বে থাকা রেলওয়ে কর্মচারী (পরিচর্যক) একজনের কাছ থেকে টাকা নিয়ে আমার পাশের আসনে বসিয়ে দিল। আমি বিধিনিষেধের কথা বলায় ওই পরিচর্যক বলেন করোনার ভয় থাকলে আপনাকেই ট্রেন থেকে নামিয়ে দেওয়া হবে। সৈয়দপুর শহরের কয়াইগোলাহাট পশ্চিম পাড়া এলাকার বাসিন্দা জাহাঙ্গীর হোসেন ডাবলু বলেন, নীলসাগর ট্রেনে ঢাকা যাব। অনলাইনে টিকিট কেটে ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করছি। স্টেশনে ব্যাকটেরিয়ারোধী পাপোশ ও হাত ধোয়ার জন্য বেসিন চোখে পড়েনি।
এ প্রসঙ্গে মুঠোফোনে জানতে চাইলে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক মিহির কান্তি গুহ বলেন, শত প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে রেল যাত্রী বহন করছে। সংক্রমণ বাড়ার সঙ্গে আমাদের উদ্বেগও বাড়ছে। এ ক্ষেত্রে যাত্রীদের সবচেয়ে বেশি সচেতন হতে হবে। যাত্রীদের প্রতি আমার পরামর্শ সুরক্ষা সামগ্রী সঙ্গে নিয়ে ট্রেন ভ্রমনের। তিনি বলেন, রেলওয়ে সংশ্লিষ্টদের আরও কঠোর হতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মানাসহ রেলের ১৭টি নির্দেশনা মেনে যাত্রীরা ট্রেনে ভ্রমণ করলে সমস্যা হওয়ার কথা নয়।
রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে ,কোভিড -১৯ সংক্রমন পরিস্থিতিতে দ্বিতীয় দফায় বন্ধ থাকার পর বর্তমানে এ স্টেশন থেকে ৫টি আন্ত:নগর ট্রেন চলাচল করছে। ট্রেনগুলো হচ্ছে খুলনা রুটে সীমান্ত ও রুপসা, ঢাকা রুটে নীলসাগর এবং রাজশাহী রুটে তিতুমির ও বরেন্দ্র। সরেজমিন বৃহস্পতিবার সৈয়দপুর রেলওয়ে স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, স্বাস্থ্যবিধি না মেনে যাত্রীরা স্টেশনে প্রবেশ করছে। কারও মুখে মাস্ক আছে, আবার কারও মুখে নেই। স্টেশনে প্রবেশমুখে হ্যান্ড স্যানিটাইজার, হ্যান্ড থার্মোমিটার, ব্যাকটেরিয়ারোধী পাপোশ ব্যবহার করা হচ্ছে না। বেসিন থাকলেও সাবান নেই, পানিও নেই। ওয়েটিং রুমের ওয়াশরুম ও বাথরুমে টিস্যু কিংবা সাবান নেই। ট্রেনের জন্য অপেক্ষমাণ যাত্রীরা প্ল্যাটফরমে মাস্কবিহীনভাবে ঘুরছে। প্ল্যাটফরমের মাইকে স্বাস্থ্যবিধি মানা, সরকারের বার্তা ও রেলওয়ের ১৭ নির্দেশনা মানতে প্রচার চালানো হলেও অনেকে তা আমলে নিচ্ছে না। স্টেশন ঘিরে থাকা দোকানগুলোয় জটলা করে আছ লোকজন।
এ ব্যাপারে স্টেশন মাস্টার এসএম শওকত আলী বলেন, লোকবল কম থাকায় এসব যাত্রীদের নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিনা টিকিটে যাত্রীদের ট্রেনে ওঠার বিষয়টি দেখার দায়িত্ব ট্রেন পরিচালক ও টিটির।