।। রেজা মাহমুদ ।। নীলফামারীর সৈয়দপুরে বর্ষায় বেড়েছে ছাতার কদর। বাজারে ছাতার দোকানগুলোতে বেচাবিক্রি হচ্ছে বেশ। পাশাপাশি ত্রুটিযুক্ত ছাতা মেরামত করতে কারিগরদের কাছে ভিড় জমাচ্ছেন লোকজন। ফলে কারিগররা এখন কর্মব্যস্ত। উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বসছেন ভাসমান ছাতা কারিগররা। করোনাকালে অন্য পেশার লোকজন অলস সময় কাটাচ্ছেন। তবে তাঁদের দম ফেলার ফুরসত নেই।
বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, অন্য সময়ের তুলনায় ছাতা ছাতা কারিগরদের ব্যস্ততা চোখে পড়ার মতো। নাওয়া-খাওয়া ভুলে রাত-দিন কাজ করছেন তাঁরা। রাস্তার পাশে যন্ত্রপাতির বাক্স নিয়ে বসেছেন। কেউ আবার অন্যের বারান্দায় বসে ছাতা মেরামত করছেন। কাজের ওপর ভিত্তি করে পারিশ্রমিক নিচ্ছেন।
শহরের হাওয়ালদার পাড়ার কারিগর নাসিম আহমেদ জানান, বাবার হাত ধরে এ পেশায় এসেছি। ২০ বছর ধরে জড়িত। বছরে ৬ মাস এ পেশায় থাকেন। আর বাকি সময় অন্য পেশায় জীবিকা নির্বাহ করেন। দৈনিক ১৫ থেকে ২০টি ছাতা মেরামত করেন। এতে আয় হয় ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা।
আরেক কারিগর রমজান আলী। বসেন শহীদ ডা: জিকরুল হক রোডের নিরিবিলি হোটেলের সামনে। তিনি বলেন,আমি এ পেশায় ৩০ বছর ধরে আছি। আগে এ সময় আয় বেশি হতো। কিন্তু এখন করোনার কারনে কম হচ্ছে। বছরে ছয় মাস এ পেশায় থাকি। বাকি সময় ত্রুটিযুক্ত তালা ভালো করে সংসার চালাই।
রমজান আলীর কাছে আসা ওয়াসিম আলম জানান,তাঁর একটি ছাতা বাড়িতে পড়ে ছিল। সেটি মেরামত করতে এসেছেন। বর্ষায় যা প্রয়োজনীয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। একই কারিগরের কাছে সেবা নিতে আসা নাসরিন সুলতানা বলেন,একটি ছাতা কিনতে ৩০০-৪০০ টাকা প্রয়োজন। তাই পুরোনো ছাতাটি মেরামত করছি। এতে কিছুটা সাশ্রয় হবে।
শহীদ ডা: জিকরুল হক রোডের ছাতা দোকানের মালিক ইসরাইল বলেন,এ সময় তাদের ব্যবসা ভালো হয়। দোকানে হরেক রকম ছাতা আছে। তবে এবছর করোনায় বেচাবিক্রি কম।
সৈয়দপুর পৌরসভার প্যানেল মেয়র শাহিন হোসেন বলেন,বছরের অন্য মৌসুমে ছাতা কারিগরদের তেমন কাজ থাকে না। তাই বর্ষার জন্য অপেক্ষা করেন তাঁরা। এ সময় তারা সড়কের পাশে বসে ছাতা মেরামত করেন।