• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৪৪ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

নীলফামারীতে সাড়া মেলেনি অনলাইনে কোরবানির পশু বিক্রি

সিসি নিউজ ।। কোরবানি ঈদ উপলক্ষে নীলফামারীতে চাদিহার চেয়ে ১৯ হাজার বেশি পশু প্রস্তুত রয়েছে। তারপরও পশু বিক্রি এবং ন্যায্যমূল্য নিয়ে শঙ্কায় খামারিরা। কর্তৃপক্ষ অনলাইনে পশু বিক্রিতে উৎসাহিত করলেও জেলার অধিকাংশ খামারি ও ক্রেতার এ সম্পর্কে কোনো ধারণা না থাকায় দুশ্চিন্তা আরো বেড়েছে। ঈদে গরু বিক্রি করতে না-পারলে অনেকেই ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়বেন বলে খামারিরা জানিয়েছেন।

নীলফামারী জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর সূত্র জানায়, জেলার ৬টি উপজেলায় ছোট-বড় ১৮ হাজার ৮৫৭টি গরু মোটাতাজাকরণের খামার রয়েছে। খামারগুলোতে ৭৪ হাজার ৮৫২ কোরবানির পশু প্রস্তুত রয়েছে। সরকারি হিসেবে জেলায় কোরবানির জন্য ৫৫ হাজার ৮২৫টি পশুর চাহিদা রয়েছে। এর মধ্যে ৫৫ হাজার ৩৩৩টি গরু-মহিষ এবং ১৯ হাজার ৫১৯ টি ছাগল-ভেড়া। এই হিসাব অনুযায়ী জেলায় চাহিদার চেয়ে ১৯ হাজার ২৭টি পশু বেশি প্রস্তুত রয়েছে। এ ছাড়াও জেলার কৃষক পর্যায়ে প্রায় ২০ হাজার পশু মোটাতাজা করা হয়েছে বলে জানা গেছে। করোনাভাইরাসের কারণে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ৭টি ‘অনলাইন পশুর হাট’ পেইজ খোলা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেইসবুক পেইজে খোলা হাটগুলোর মধ্যে জেলার ৬টি উপজেলায় ৬টি এবং জেলা প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে একটি অনলাইন পশুর হাট। এসব পেইজে ১৩ জুলাই পর্যন্ত ১১ হাজার ১৮৬টি গরু ও ২ হাজার ২৯টি ছাগলের বিবরণসহ ছবি আপলোড করা হয়েছে। সরকারি এসব অনলাইনে ইতোমধ্যেই ৮৩১টি কোরবানির পশু বিক্রি হয়েছে।

সৈয়দপুরের মেসার্স ইউসুফ হৃষ্টপুষ্ট খামারের মালিক রোটারিয়ান জামিল আশরাফ মিন্টু বলেন, অন্য বছরের মতো এ বছরও ২০১টি ষাঁড় মোটাতাজা করেছি। করোনার মধ্যে খড়, কুড়া, ভুষিসহ অন্য খাবার অতিরিক্ত দামে কিনতে হয়েছে। তবে করোনার মধ্যে কোরবানির পশুর হাট বসবে কিনা এবং ন্যায্যমূল্য পাবো কিনা তা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছি। ঋণ করে ষাঁড়গুলো বড় করলেও ঈদে বিক্রি করতে না পারলে উল্টো আরো ঋণ বেড়ে যাবে। অনলাইনে তিনি এ পর্যন্ত একটি গরুও বিক্রি করতে পারেননি বলে জানান।

ডিমলার খামারি নুরুল আমিন জানান, নিজের খামারে ২৫টি ষাঁড় গরু কোরবানির জন্য প্রস্তুত করেছি। অনলাইন হাট সম্পর্কে আমার ধারণা রয়েছে কিন্তু আমার পরিচিত কয়েকজন খামারি ও ক্রেতাদের সাথে পরামর্শ করেছি তারা অনলাইন হাট সম্পর্কে ধারণা দিতে পারেনি। বাড়িতে খুচরা ক্রেতা ও পাইকাররা আসছে। তবে কেউ নেয়ার মতো দাম বলছে না। এ বছর দাম ভালো না পেলে আগামী বছর থেকে আর খামার করবো না।

তবে অনলাইনে ভালো সাড়া পেয়েছেন নীলফামারী সদরের রামগঞ্জের খামারি রাসেল ইসলাম। তিনি করোনার কারণে এবার অনলাইনে গরু বিক্রির উপর জোর দিয়েছেন। ফেইসবুক পেইজ খুলে গরুর ছবি দিয়ে ক্রেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছেন। তিনি বলেন, ‘প্রতিদিনই অনলাইনে লোকজন যোগাযোগ করছেন, পাইকাররাও ফেইসবুকে গরুর ছবি দেখে স্বশরীরে খামারে আসছেন। ১২টি গরু অনলাইনে বিক্রি করেছেন তিনি।’

নীলফামারী জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. মোনাক্কা আলী বলেন, কঠোর লকডাউনের কারণে পশুর হাট বন্ধ। কোরবানির পশু বেচাকেনা করতে জেলা প্রশাসন ও প্রাণিসম্পদ দপ্তরের উদ্যোগে ফেইসবুক পেইজ খোলা হয়েছে। অনেকেই এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে গরু বিক্রি করছেন। তবে সরকারী নির্দেশনায় হাট বসলে সেখানে প্রাণি সম্পদ বিভাগ সার্বক্ষনিক নজরদারি থাকবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ