।। এস এম জামান ।। কোভিড-১৯ এর কারনে বন্ধ রয়েছে নীলফামারীর সৈয়দপুরে ব্যাক্তি মালিকানায় গড়ে ওঠা বিনোদন পার্কগুলো। দীর্ঘ দেড় বছর ধরে বন্ধ থাকায় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে পার্কের মূল্যবান রাইডস-এর যন্ত্রাংশগুলো। এতে বিপুল অঙ্কের আর্থিক ক্ষতির কারনে বিনোদন পার্কের মালিকরা পুঁজি হারিয়ে বিপাকে পড়েছে।
সূত্র মতে, নীলফামারীর সৈয়দপুরে ব্যাক্তি মালিকানায় ৩টি বিনোদন কেন্দ্র গড়ে উঠেছে। দীর্ঘ দেড় বছর করোনা ভাইরাসের জন্য সরকারি বিধি নিষেধের কারনে বন্ধ রয়েছে এসব বিনোদন কেন্দ্রগুলো। আয়-রোজগার না থাকায় কর্তৃপক্ষ ছাঁটাই করেছে কর্মচারীদের। ফলে রক্ষনাবেক্ষনের অভাবে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে বিনোদনের বিভিন্ন রাইডসগুলো। এসবের মধ্যে রয়েছে প্যাডেল ও ইলেকট্রোনিক্স বোট, ব্যালেরিনা, স্লাইডার, পাইরেট শিপ, জ্যাম্পকিং ক্যাসেল, কিডস রাইটস, কিডস ট্রেন, রেসিং কার সহ নানা ধরনের সরঞ্জাম। পার্কের ভেতরে চলাচলের ছোট রাস্তাগুলো ঘাস গজিয়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
সৈয়দপুর থিম পার্কের ম্যানেজিং ডিরেক্টর আবু বাশার মোঃ সাঈদ জানান, হতাশা নিয়ে কোন রকমে বিনোদন কেন্দ্রের ব্যবসাটি ধরে রেখেছি। ইতিমধ্যে ৩০ শতাংশ রাইডসের যন্ত্রাংশ বিকল হয়ে গেছে। যা মেরামত করতে ৩০ থেকে ৪০ লাখ টাকার প্রয়োজন। সরকারের আর্থিক সহায়তা না পেলে এসব মেরামত করে পূনঃরায় চালু করা কঠিন হয়ে পড়বে বলে তিনি জানান।বিনোদন পার্ক বন্ধ থাকায় শিশুদের বিষয়ে দিনাজপুর এম এ রহিম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের শিশু বিভাগের প্রধান ডা. মো. এনামুল হক বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে স্কুল ও বিনোদন পার্ক বন্ধ থাকায় শিশুরা একটানা বাসা-বাড়িতে অবস্থান করছে। ফলে তাদের শারীরিক মুভমেন্ট এবং মানসিক বৃদ্ধির বিভিন্ন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। তাই পরিস্থিতি বিবেচনায় বাড়িতেই কোমলমতি শিশুদের পাশে থেকে বিনোদনের ব্যবস্থা করার জন্য পরিবারের সদস্যদের প্রতি পরামর্শ দেন তিনি।
নীলফামারী জেলা প্রশাসক মো. হাফিজুর রহমান চৌধুরী জানান, লকডাউনের জন্য সরকার কঠোর বিধি নিষেধ জারি করায় বন্ধ রয়েছে এসব বিনোদন কেন্দ্র। বিনোদন পার্ক খোলা ও সরকারের আর্থিক সহায়তার বিষয়ে আমাদের কাছে নির্দেশনা এলে তা জানিয়ে দেয়া হবে।