• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৫৫ অপরাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে আসছে ভারতীয় পণ্যবাহী ট্রেন

।। এস এম জামান ।। কাল রোববার ভারতের সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে আসছে ভারতীয় পণ্যবাহী ট্রেন। এর মধ্যদিয়ে দীর্ঘ ৫৬ বছর পর চিলাহাটি-হলদিবাড়ি রেলপথে চলাচল করবে পণ্যবাহী ট্রেন। এতে নীলফামারীসহ উত্তরের জেলার আমদানীকারকদের সাশ্রয়ী মূল্যে পণ্য পরিবহনের সুযোগ-সুবিধার পাশাপাশি পরিবহন ব্যয় অনেকাংশ কমে যাবে ।

বাংলাদেশ রেলওয়ের সূত্র মতে, নীলফামারী জেলার সীমান্তবর্তী রেলস্টেশনটির নাম চিলাহাটি। বাংলাদেশ রেলওয়ে ২০২০ সালের ডিসেম্বরে এ স্টেশন থেকে সীমান্ত পর্যন্ত ৬ দশমিক ৭২৪ কি:মি: রেলপথের নির্মাণ কাজ শেষ করে। অপরদিকে ভারতের হলদিবাড়ী রেলস্টেশন থেকে সীমান্ত পর্যন্ত ৬ দশমিক ৫ কি:মি: রেলপথ স্থাপন করে। এ রেলপথ নির্মাণে সরকারের ব্যয় হচ্ছে ৮০ কোটি ১৬ লাখ ৯৪ হাজার টাকা। রেলপথ নির্মানের কাজ শেষে ১৭ ডিসেম্বর এ রুটে পরীক্ষামূলক চলাচল করে মালবাহি ট্রেন। যা দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে এর উদ্বোধন করেন।

সূত্রটি জানায়, প্রথমবার ভারতীয় পণ্য পাথর ও গম নিয়ে পণ্যবাহী ট্রেনটি সকালে নীলফামারীর চিলাহাটি স্টেশনে পৌছাবে। ভারত থেকে আসা পণ্যবাহী ট্রেনের গন্তব্য হবে বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিম তীর ও খুলনার নওয়াপাড়া পর্যন্ত। সৈয়দপুর ও নওয়াপাড়া পাথর খালাস হতে পারে। তবে ভারতীয় ইঞ্জিন চিলাহাটি পর্যন্ত এসে থেকে যাবে। চিলাহাটি থেকে ভারতীয় পণ্যের ওইসব বগি বাংলাদেশের ইঞ্জিন নিয়ে যাবে নির্দিষ্ট গন্তব্যে। পণ্য খালাস শেষে ফিরে এসে বগি নিয়ে যাবে ভারতীয় ইঞ্জিন।

নীলফামারীর সৈয়দপুরের আমদানিকারক নুর ইসলাম জানান, এ রুটের মাধ্যমে আমরা দ্রুত এলসি দিয়ে পণ্য পরিবহন করতে পারবো। পণ্য খালাস ও পরিবহনে অনেক শ্রমিকের প্রয়োজন হবে, যা এ এলাকার কর্মহীণ শ্রমজীবি মানুষরা এ কাজের মাধ্যমে তাদের রুজি-রোজগারের পথ খুঁজে পাবে। উত্তরাঞ্চলের কৃষিপণ্যগুলো আমরা ভারতে ওইসব অঞ্চলে পাঠাতে পারবো। দীঘদিনের আশা পূরণ হওয়ায় এ অঞ্চলের আমদানিকারকরা ব্যবসা-বাণিজ্যে নতুন এক আলোর মুখ দেখতে পাচ্ছি।

নীলফামারী চেম্বার অব কমার্সের নির্বাহী সদস্য সিদ্দিকুল আলম জানান, সরকারের এমন মহতী উদ্যোগ বাস্তবায়িত হওয়ায় আমরা নীলফামারীর ব্যবসায়ীরা দুই দেশের প্রধানকে জানাই আন্তরিক ধন্যবাদ। এ ছাড়া এলাকার বেকার ও কর্মহীন শ্রমজীবি মানুষ কাজ পাবে। সৃষ্টি হবে উত্তর-পূর্ব ভারতে বাংলাদেশী পণ্যের বাজার।শুধু ব্যবসার দ্বার উন্মোচন হলো তা নয়, ৫৬ বছর পর উভয় দেশের মানুষরা আবারো একে অপরের সাথে মেলবন্ধনে আবদ্ধ হলাম।

প্রকল্পটির পরিচালক, ডিইএন-২, পাকশীর মো. আব্দুর রহিম জানান, বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে বন্ধ থাকা লিংক এই চিলাহাটি-হলদিবাড়ি রেলপথ চালুর মাধ্যমে দুই দেশের আর্থ সামাজিক উন্নয়নের পাশাপাশি পর্যটন শিল্পে নতুনমাত্রা যোগ হলো। দেশের অন্যান্য সীমান্ত দিয়ে উত্তরের জনপদে পণ্য আসতে যে ব্যয় হতো তা থেকে অনেক সাশ্রয়ী হবে এ রুটে পণ্য আনা-নেয়ায়। তাছাড়া মংলা বন্দর থেকে এ রুটে ভারত হয়ে নেপাল ও ভুটানে স্বল্প ব্যয়ে পণ্য পরিবহন করা যাবে।

রেলপথ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন জানান, আমরা এ রুটটাকে একটা গুরুত্বপূর্ন রুট মনে করছি বাণিজ্যের ক্ষেত্রে। যেখানে নেপাল ও ভুটান আরো দুইটি দেশ অথ্যাৎ চার দেশের যোগাযোগের একটা রাস্তা তৈরী হলো। সেজন্য আমাদের ক্যাপাসিটি ৪টি লাইন ছিল, সেখানে আরো ৬টি লাইন বৃদ্ধি করে ১০টি লাইন করা হচ্ছে এবং চিলাহাটি স্টেশনটিকে আধুনিকায়ন কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ