• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৪৬ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

ফলোআপ: সাব-ডিলারের দোকানে সারের মূল্য তালিকা

সিসি নিউজ ।। অবশেষে বিসিআইসি’র ডিলারের অধীনে সার বিক্রির দোকানগুলোতে মূল্য তালিকা টাঙ্গানো হয়েছে। বিভিন্ন জাতীয় ও অনলাইন নিউজ পোর্টালে সংবাদ প্রকাশের পর টনক নড়ে জেলা ও উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির। যার ফলে তড়িঘড়ি করে এ মূল্য তালিকা টাঙ্গানোর পাশাপাশি ডিলার পয়েন্টগুলোতে সার পৌছে গেছে। বৃহস্পতিবার সরেজমিনে জেলার সৈয়দপুর উপজেলার কাশিরাম বেলপুকুর ইউনিয়নের দুটি পয়েন্টে গিয়ে এ দৃশ্য চোখে পড়ে।

এসব পয়েন্টের মধ্যে চওড়া বাজারের মূল্য তালিকা টাঙ্গানো হয়েছে মেসার্স লিশা ট্রেডার্স নামে একটি সারের দোকানে। এ দোকানের মালিক জিল্লুর রহমান জানান, সৈয়দপুর শহরের মেসার্স এ এম ট্রেডার্স বিসিআইসি’র ডিলার। তিনি গত এক বছর পর আমার গোডাউনে আজ সার এনেছে। এখান থেকে তিনি কৃষকদের মাঝে সার বিক্রয় করবেন।

ওই পয়েন্টের পাশে সাতপাই গ্রামের কৃষক শরীফুল ইসলাম জানান, তিনি কোনদিনই শোনেননি চওড়া বাজারে সরকারী বরাদ্দের সার বিক্রয়ের কেন্দ্র রয়েছে। নিশাদ ট্রেডার্স তার নিজের দোকানের সার বিক্রি করে। তিনিই কি তাহলে মেসার্স এ এম ট্রেডার্সের সাব ডিলার? তাহলে কেমনে জানবো কোনটা সরকারী বরাদ্দের সার, আর কোনটি তার নিজের দোকানের সার।

একই অবস্থা সিপাইগঞ্জ বাজারের পয়েন্টে। এখানে বিসিআইসির ডিলার হলেন মেসার্স নুর ইসলাম। এর স্বত্ত্বাধিকারী নুর ইসলাম জানান, ওই বাজারের মেসার্স সাগরিকা ট্রেডার্সের মালিক আজিজুল ইসলামকে সাব-ডিলার দেয়া হয়েছে। এতোদিন ওই পয়েন্টের কৃষকদের সারের চাহিদা তেমন ছিলনা। তাই কিছুদিন সার ওই পয়েন্টে যায়নি। এখন চাহিদা বেড়েছে, তাই সার পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, আমি নিজেই পয়েন্টে গিয়ে কৃষকদের সাথে কথা বলে সারের চাহিদা অনুযায়ী সার বিক্রি করবো।

বিসিআইসির ডিলারগণ সাব-ডিলার নিয়োগ দিয়ে তাদের মাধ্যমে সার বিক্রি করতে পারেন কিনা- এ ব্যাপারে সৈয়দপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও উপজেলা সার ও বীজ কমিটির সদস্য সচিব শাহিনা বেগমের কাছে জানতে চাইলে তিনি জরুরী মিটিংয়ে আছেন এবং পরে কথা বলবেন বলে জানান।

নীলফামারী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক ও জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সদস্য সচিব আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, বিসিআইসি’র ডিলারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তদন্ত করে দেখা হয়েছে। তদন্তে তাদের অনিয়ম প্রমানিত হলে অবশ্যই আনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

উল্লেখ্য যে, নীলফামারীতে সরকারী বরাদ্দকৃর্ত সার কাগজে-কলমে উত্তোলন করে কৃষকদের মাঝে বিক্রি করছে না বিসিআইসির ডিলাররা। কৃষি বিভাগের এক শ্রেনীর কর্মকর্তার যোগসাজশে তা কালোবাজারে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘ ৭/৮ বছর ধরে এ কার্যক্রম চলমান থাকলেও কৃষকরা জানেনা ডিলার পয়েন্টের সার বিক্রির অবস্থান। অথচ এসব দেখভালের জন্য রয়েছে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে রয়েছে মনিটরিং কমিটি। ফলে সরকারের দেয়া সুযো-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে নীলফামারী জেলার কৃষক।

জেলার ৭৫টি পয়েন্টে প্রতি মাসে নির্দ্দিষ্ট মূল্যে সার বিক্রয়ের জন্য অনুমোদিত ৭৫জন ডিলার রয়েছেন। এসব ডিলার ইউরিয়া, টিএসপি, এমওপি ও ডিএপি সার উত্তোলন করে কৃষকদের মাঝে তা বিতরণ করেন। জেলা ও উপজেলা শহর এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে একাধিক ডিলার এসব সার বিতরণ করছেন। চলতি আগষ্ট মাসে ডিলারদের জন্য বরাদ্দকৃত সারের মধ্যে রয়েছে ৫ হাজার ২৬২ মে. টন ইউরিয়া, টিএসপি ৩২৫ মে. টন, এমওপি ১ হাজার ৫৭১ মে. টন ও ডিএপি ৮৩৮ মে. টন। যা আগামী ৩১ আগস্টের মধ্যে উত্তোলন করে কৃষকদের মাঝে বিতরণ করা হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ