জয়পুরহাট প্রতিনিধি ।। জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক না হয়েও এক অদক্ষ নারী চিকিৎসকের সিজারিয়ান অপারেশনে প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার বিকালে ওই প্রসূতির স্বজনরা এমনটিই অভিযোগ করেন। মৃত প্রসূতি মুনিরা বেগম (২৯) পাঁচবিবি উপজেলার শুকুরময়ী গ্রামের আরিফুল ইসলামের স্ত্রী।
মঙ্গলবার বিকেলে আরিফুল ইসলাম সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগে জানান, তার অন্তঃস্বত্তা স্ত্রী মুনিরাকে গত ১৮ সেপ্টেম্বর পাঁচবিবি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করালে হাসপাতালটির প্রধান স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ সোলায়মান আলী মেহেদী জানান, সন্তান প্রসবের জন্য সিজারিয়ান অপারেশন করতে হবে। সোমবার (২০) দুপুরে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে তার স্ত্রী পুত্র সন্তানের জন্ম দেন। অপারেশন করেন ডাঃ সোলায়মান আলী মেহেদীর স্ত্রী ডাঃ তানবিনা মিনহাজ তিনা।
আরিফ অভিযোগ করেন ‘সিজারিয়ান অপারেশনের কিছু ক্ষন পর থেকে আমার স্ত্রীর অবস্থার অবনতি ঘটতে থাকে। বিকালে জয়পুরহাট জেলা আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করা হলে রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আমার স্ত্রী মারা যান।’ পরে জানতে পারি সংশ্লিষ্ট গাইনী বিষয়ে অদক্ষ ও এই হাসপাতালে কর্মরত না হলেও ডাঃ সোলায়মান আলী মেহেদীর স্ত্রী হওয়ার সুবাদে ডাঃ তানবিনা মিনহাজ তিনা এই অপারেশন করেন।’
এ ব্যাপারে অনেক চেষ্টা করেও ডাঃ তিনাকে পাওয়া না গেলে তার স্বামী পাঁচবিবি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ সোলায়মান আলী মেহেদী অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, “ আমার ২ বছরের কোর্স করা আছে, আমিই অপারেশন করিয়েছি, আমার স্ত্রী নয়।”
এই হাসপাতালের ফেসবুক পেইজে বিভিন্ন সিজারিয়ান অপারেশনে তার স্ত্রী ডাঃ তিনার সংম্লিষ্টতার প্রমান রয়েছে বলে জানতে চাওয়া হলে ডাঃ মেহেদী আর কোন মন্তব্য করতে রাজী হননি।
জয়পুরহাট সিভিল সার্জন ডাঃ ওয়াজেদ আলী জানান, ‘অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে জানতে পারি যে, সন্তান জন্ম নেওয়ার পর ফুল পরার জন্য যে ইনজেকশন দেওয়া হয়েছে, তা কার্যকর হয়নি।’ হাসপাতাল বর্হিভূত চিকিৎসক যদি সিজারিয়ান অপারেশনে অংশ গ্রহন করেন, তার বা ওই হাসপাতাল প্রধানের বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপ নেওয়া হবে কি না, জানতে চাইলে সিভিল সার্জন কোন মন্তব্য করেননি।