সিসি নিউজ ।। নীলফামারী সদরের ১১টি ইউপি নির্বাচনে প্রতীক বরাদ্দের আগেই ভোটারের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ভোট প্রার্থনা করছে প্রার্থীরা। এ উপজেলার চওড়া বড়গাছা ইউনিয়নের স্বতন্ত্র প্রার্থী আবুল খায়ের বিটু চশমা প্রতীক সম্বলিত ব্যানার টানিয়ে রীতিমত অফিস খুলে বসেছে। নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দের আগে প্রচারণা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ বলছেন নির্বাচন অফিস।
স্থানীয়রা জানান, চওড়া বড়গাছা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক আবুল খায়ের লিটু আগামী ১১ নভেম্বর তারিখে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পত্র দাখিল করেন। তিনি চশমা প্রতীক বরাদ্দ চেয়েছেন রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে। আগামী ২৭ অক্টোবর প্রার্থীদের মাঝে প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হবে। কিন্তু তিনি নির্বাচন বিধি উপেক্ষা করে গত এক সপ্তাহ আগে থেকে ইউনিয়নের বিভিন্ন হাটবাজার ও মোড়ে মোড়ে চশমা প্রতীক সম্বলিত ব্যানার টানিয়ে ভোট প্রার্থনা করেছেন। রীতিমত নির্বাচনী অফিস ঘর তৈরী করে প্রচারণা চালাচ্ছেন।
আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান পদের প্রার্থী প্রদীপ কুমার রায় জানান, নিয়ম-নীতি তোয়াক্কা না করে চশমা প্রতীকের প্রার্থী ব্যানার টানিয়ে প্রচারণা অব্যহত রেখেছেন। এ ব্যাপারে নির্বাচন পরিচালনায় দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাগণ আইনি কোন পদক্ষেপ না নেয়ায় এ ইউনিয়নে নির্বাচনের পরিবেশ নেই। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অভিযোগ দিয়ে কি হবে? চোখের সামনেই তো দেখছেন নির্বাচন আচরণ বিধির কি হাল?
চেয়ারম্যান পদের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বর্তমান ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন জানান, নিজের নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ততায় আছি। তবে কর্মীদের কাছে শুনেছি প্রায় এক সপ্তাহ আগে থেকে চশমা প্রতীকের প্রার্থী অফিস করে নির্বাচনী প্রচারণা করছেন। রাস্তার মোড়ে মোড়ে প্রতীক দিয়ে ব্যানার টানানো হয়েছে। তবে অন্যান্য প্রার্থীরা নির্বাচনী আচরণ বিধি মেনে চলছে।
এ ব্যাপারে স্বতন্ত্র প্রার্থী আবুল খায়ের বিটু জানান, আমার আগেই থেকে কিছু ব্যানার তৈরী করা ছিল। আমার অজান্তে অতি উৎসাহী কর্মীরা নির্মাণাধীন নির্বাচনী অফিসে ব্যানার টানিয়ে ছিল। এ খবর পেয়ে আমি দ্রুত তা সরিয়ে নিয়েছি। এ ছাড়া কোন মোড়ে টাঙ্গানো থাকলে তা অবশ্যই তুলে ফেলা হবে। নির্বাচনী আচরণ বিধি মেনে নির্বাচন করার দৃঢ় প্রতিজ্ঞার কথা ব্যক্ত করেন তিনি।
নীলফামারী সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আফতাব উজ্জামান জানান, ‘আমি এখনো কোনো অভিযোগ হাতে পাইনি। পেলে অভিযোগ খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।’ তারপরও সরেজমিনে ওই ইউনিয়নে গিয়ে দেখে আসবো। তবে প্রতীক বরাদ্দের আগে কোন প্রার্থী ব্যানার বা পোষ্টার, এমনকি প্রচারণা চালাতে পারবেন না।
দ্বিতীয় দফায় ঘোষিত সদর উপজেলার ১১টি ইউপিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ১১ নভেম্বর। মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষদিন ছিল ১৭ অক্টোবর । ২০ অক্টোবর মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই এবং আজ ২৬ অক্টোবর মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহার এবং ২৭ অক্টোবর প্রার্থীদের মাঝে প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হবে।