• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৩৯ অপরাহ্ন |
শিরোনাম :
চলন্ত ট্রাকে আড়াই ঘন্টা ঝুলে ৩২ লাখ টাকার ইয়াবা জব্দ করলেন সিপাহি জয়পুরহাট রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে দুই দিনব্যাপী কর্মশালা শুরু দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে বাসের ধাক্কা, নিহত বেড়ে ৪ ড্রাম ট্রাকের পেছনে যাত্রীবাহি বাসের ধাক্কা, নিহত ৩ সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

সৈয়দপুরে রেললাইনের ওপর ফের বসছে পুরোনো কাপড়ের বাজার

সিসি নিউজ ।। শীতের আগমনে নীলফামারীর সৈয়দপুরে রেললাইনের ওপর ফের বসছে পুরোনো কাপড়ের বাজার। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এসব দোকানে ভিড় করছেন শত শত নারী-পুরুষ। রেললাইনের ওপর কাপড়ের দোকান হওয়ায় ঝুঁকি নিয়ে ট্রেন চলাচল করছে। রেলওয়ে জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের দেয়াল ঘেঁষে ওই বাজার বসলেও অজ্ঞাত কারণে তা উচ্ছেদ করছে না কর্তৃপক্ষ।

একইভাবে সংশ্লিষ্ট এলাকার রেললাইনের উভয় পাশে বসছে হোটেল ও লোহালক্কড়ের কারখানা, স্বর্ণালংকারের দোকান, কামারশালা ইত্যাদি। এতে ট্রেনচলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলে জানায় রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগ।

শহরের আতিয়ার কলোনীর বাসিন্দা কলেজ শিক্ষক শফিকুল ইসলাম জানান, মৌসুমি ব্যবসা হিসেবে রেললাইনের ওপর পুরোনো কাপড়ের দোকানের সাথে যুক্ত হয়ে পড়ে অনেক মানুষ। ক্রেতাসমাগমও ঘটে ব্যাপক। শীতের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই ব্যবসার পরিসর বাড়তে থাকে। বছরের পর বছর ধরে এ অবস্থা চলে আসছে সৈয়দপুরে। রেলচলাচল স্বাভাবিক রাখতে অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নেওয়া উচিত বলে তিনি মনে করেন।

সৈয়দপুর রেলওয়ে স্টেশন সংলগ্ন রেলের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী রোস্তম আলী জানান, রেলওয়ে আইনে রেললাইনের উভয় পাশে অন্তত ২০ ফুট করে জায়গা ফাঁকা রাখার বিধান রয়েছে। সে অনুযায়ী, সৈয়দপুর রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ উভয় পাশে পর্যাপ্ত জায়গা রেখে সীমানা নির্ধারণ করে বেড়া দিয়ে রেখেছে। ওই বেড়া অতিক্রম করে রেলক্রসিং এলাকার উভয় পাশে অর্ধ কিলোমিটার জুড়ে রেলপথ দখল করে গড়ে উঠেছে শতাধিক পুরোনো শীতবস্ত্রের দোকান। এর বেশির ভাগই বসছে রেললাইনের ওপর। এ এলাকায় মানুষের ভিড়ের কারণে ট্রেন চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া ওই স্থানে প্রায়ই ট্রেনে কাটা পড়ে প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। তবে সৈয়দপুর রেলওয়ে স্টেশন কর্তৃপক্ষ এসব দোকান উচ্ছেদে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রেললাইনের ওপর কাপড়ের এক দোকানদার বলেন, রেললাইনের ওপর দোকান সাজানো ঝুঁকিপূর্ণ। এরপরও অনেকে দোকান করছেন। তাই আমি করেছি। বাজারে একটি দোকানের প্রতি মাসের ভাড়া ১৫-২০ হাজার টাকা। আর এখানে রেলওয়ের লোককে দৈনিক ৫০ টাকা হারে চাঁদা দিতে হয়। তবে কারা চাঁদা তোলেন তা প্রকাশ করতে নারাজ তিনিসহ অন্যান্য দোকানদাররা।

রেললাইনের ওই স্থানে ট্রেন চলাচলে ঝুঁকির কথা জানালেন লোকোমাস্টার (ট্রেন চালক) আসাদুজ্জামান খান সবুজ। তিনি জানান, সৈয়দপুর স্টেশনের ৫শ গজ দূরে হোম সিগন্যালের কাছে রেললাইনের ওপর গড়ে উঠেছে অবৈধ কাপড়ের বাজার। ট্রেন এখানে আসা মাত্রই আমাদের সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়। প্রচন্ড ভিড়ের কারনে বাধ্য হয়ে ট্রেনের গতি কমাতে হয়। এতে কিছুটা হলেও সময় নষ্ট হয়ে যায়।

সৈয়দপুর রেল স্টেশনের সহকারী স্টেশনমাস্টার শওকত আলী বলেন, চালকেরা ট্রেন চলাচল নির্বিঘ্ন করতে ওই স্থান থেকে দোকানপাট উচ্ছেদের কথা বলেছেন। ট্রেন চলাচলের সুবিধা নিশ্চিত ও দুর্ঘটনার আশঙ্কার কথা ভেবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তিনি বলেন, অবৈধভাবে গড়ে উঠা দোকান থেকে আমাদের কেউ চাঁদা তোলে না। যদি কেউ জড়িত থাকে তাহলে অবশ্যই আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সৈয়দপুর রেলওয়ে থানার (জিআরপি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুর রহমান বিশ্বাস জানান, রেললাইনের ওপর পুরোনো কাপড়ের বাজার বসায় ট্রেন চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ পেলে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে। চাঁদা নিয়ে অবৈধ দোকান বসানোর ব্যবস্থার সাথে রেলওয়ে পুলিশ জড়িত নেই।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ