সিসি নিউজ ।। আগামী ২৮ নভেম্বর নীলফামারী পৌরসভা নির্বাচন। এ নির্বাচনে মেয়র, সংরক্ষিত কাউন্সিলর এবং সাধারণ কাউন্সিল পদে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন ৮৬ প্রার্থী। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী দুপুর ২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত মাইকে প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন প্রার্থীরা। এ নির্ধারিত সময়ে প্রার্থীদের প্রচারনা মাইকের আওয়াজে অতিষ্ঠ এসএসসি পরীক্ষার্থীসহ তাদের অভিভাবকরা।
পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের এমন অবস্থায় নির্বাচনী প্রচারণার মাইকিং সীমিত করার উদ্যোগ নিলেন সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওয়াদুদ রহমান। বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনার মতামতের ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন ওই আওয়ামীলীগ নেতা। এরপর ব্যক্তিগতভাবে তিনি মেয়র প্রার্থীদের সাথে যোগাযোগ করেন। প্রার্থীগণ প্রচারণা সীমিত করার পক্ষে মত দেন। সংরক্ষিত কাউন্সিলর এবং সাধারণ কাউন্সিলর পদের প্রার্থীও একমত হন।
সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওয়াদুদ রহমান জানান, প্রার্থীদের মতামতের বিষয়টি জেলা নির্বাচন কর্মকর্তাকে জানানো হলে তিনিও প্রার্থীদের সাথে কথা বলে একমত পোষণ করেন। এরপর আজ মঙ্গলবার সচেতন নাগরিকের পক্ষে শহরে মাইকিং করে প্রার্থীদের সিদ্ধান্তের বিষয়টি সকলকে জানিয়ে দেওয়া হয়। একই ভাবে উদ্যোগটির প্রশংসা করেছেন কাউন্সিল প্রার্থীরা।
কাউন্সিলর প্রার্থী মীর মোস্তফা আবু হোসেন ও সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর প্রার্থী শিরিণ নূর রিক্তা বলেন, আমরা মানুষের সেবায় নিজেকে নিবেদিত করেছি। সেখানে আমাদের সন্তানদের কোন সমস্যা হবে সেটা মেনে নেওয়া সম্ভব না। একারণে আমরা মাইকিং সীমিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
মেয়র পদে প্রতিদ্বদ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী নীলফামারী জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. জহুরুল আলম বলেন, আগে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গুরুত্ব দিবো, তাদের মঙ্গলের জন্য যা যা প্রয়োজন তাই করতে হবে আমাদের। মাইকে নির্বাচনী প্রচরণা সীমিত করার প্রস্তাবকে আমি স্বাগত জানিয়েছি।
অপর স্বতন্ত্র প্রতিদ্বন্দ্বী মেয়র প্রার্থী জেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. নূরুজ্জামান বুলেট বলেন, আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনায় নিয়ে রাজনীতি করতে হবে। এসএসসি পরীক্ষার কারণে তিন ঘণ্টা মাইকিং সীমিত করার বিষয়ে আমাকে প্রস্তাব দেওয়া হলে আমি ওই প্রস্তাবকে স্বাগত জানাই।
আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী বর্তমান মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি দেওয়ান কামাল আহমেদ বলেন, আমরা মানুষের কল্যাণে রাজনীতি করি। এখন আমাদের সন্তানদের পরীক্ষা চলছে। সন্তানদের ভবিষ্যত উজ্জ্বলে তিন ঘণ্টা কম প্রচারণা চালানোর সিদ্ধান্ত একেবারে যৌক্তিক। এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন জেলা শহরের বিশিষ্ট জনেরা।
মশিউর রহমান ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ, স্বাধীনতা শিক্ষক পরিষদের জেলা সভাপতি মো. সারওয়ার মানিক বলেন, উদ্যোগটি প্রশংসনীয়, শিক্ষক সমাজের পক্ষ থেকে আমি উদ্যোক্তা এবং প্রার্থীদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’
নীলফামারী জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও নীলফামারী পৌরসভা নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, এটা নির্বাচন কমিশনের কোনো সিদ্ধান্ত না। পরীক্ষার্থীদের পড়াশোনার বিষয়টিকে বিবেচনায় নিয়ে প্রার্থীরা নিজেরাই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এটি একটি শুভ উদ্যোগ বলে আমি মনে করি।
উল্লেখ্য, ২৮ নভেম্বর পৌরসভাটির ওই নির্বাচনে মেয়র পদে ৩ জন, সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৬১ জন ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ২২ জন প্রতিদ্বন্দ্বী করছেন।