সিসি ডেস্ক: টাঙ্গাইলে মর্টারসেল বিস্ফোরণে নিহত বিজিবি সদস্য আবু সুফিয়ানের কুড়িগ্রামের গ্রামের বাড়িতে শোকের মাতম চলছে। পরিবারের সদস্যদের বুকফাটা আর্তনাদে ভারি হয়ে উঠছে আকাশ বাতাস। নিহত বিজিবির সিপাহী আবু সুফিয়ানের গ্রামের বাড়ি কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ভোগডাঙ্গা ইউনিয়নের মালিপাড়া গ্রামে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সুফিয়ানের পিতা আব্দুর রাজ্জাক যাকে পাচ্ছে তাকে জড়িয়ে ধরে কান্না কাটি করছে। আর বলছে ‘পিতার ঘারে সন্তানের লাশ’-এ কোন পরীক্ষায় ফেললে আল্লাহ। আমার জীবনের বিনিময়ে হলেও আমার সন্তানকে ফিরিয়ে দাও। মা মনোয়ারা বেগম ছেলের কথা বলতে বলতে মূর্ছা যাচ্ছেন বারবার। ৫ ভাইয়ের মধ্যে সুফিয়ান বড়। নিহত আবু সুফিয়ান জয়পুরহাটের ৩বিজিবি ব্যাটালিয়নে কর্মরত ছিলেন।
মায়ের কান্না দেখে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকে ৬মাস বয়সী সন্তান ফাদিয়া। অন্য সন্তান ৫বছর বয়সী ফারজানা’র কান্না কেউ থামাতে পারছে না। ফারজানা কফিনের পাশে বসে বাবাকে ডাকছে। বাবা ওঠো- আমাকে কোলে নাও। বাবার নিথর শরীর সাড়া দেয়না। শিশু ফারজানার আকুতি ভারি করে তোলে মালিপাড়া গ্রামের বাতাস। এ করুন আকুতি শুনে জড়ো হওয়া শত শত মানুষ কেউ চোখে পানি ধরে রাখতে পারেনি। বাবার আদর বুঝে ওঠার আগেই এতিম হলো দু’ শিশু। গোটা জীবন বইতে হবে তাদের কষ্টের বোঝা।
কুড়িগ্রাম সদর থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল বাতেন জানান, বিজিবি’র একটি দল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে তার লাশ এম্বুলেন্স যোগে কুড়িগ্রামের গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসে। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টায় স্থানীয় পরমালী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে মরহুমের নামাজে জানাযা শেষে পারবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
উল্লেখ্য, গত বুধবার দুপুরে ঘাটাইল সেনা নিবাসে প্রশিক্ষণের সময় মর্টারশেল বিস্ফোরণে ২ সেনা কর্মকর্তা ও ৩ বিজিবি সদস্য নিহত হন। রাত পৌনে ১১টার দিকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজন বিজিবি সদস্য মারা যান।