• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৩৯ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

বঙ্গমাতা প্রবন্ধ প্রতিযোগিতায় জয়ী ৭০ শতাংশই শিল্পকলার কর্মকর্তাদের সন্তান-বন্ধু-স্বজন

সিসি নিউজ ডেস্ক ।। বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত প্রবন্ধ প্রতিযোগিতায় পুরস্কার পাওয়া ২২ জনের মধ্যে ১৫ জনই শিল্পকলার কর্মকর্তাদের সন্তান, বন্ধু বা স্বজন বলে প্রমাণ মিলেছে। যদিও আয়োজকরা বলছেন, এমন কোনও তথ্য তাদের জানা নেই। যে বিভাগের আয়োজন—সেই গবেষণা ও প্রকাশনা বিভাগের পরিচালক আশরাফুল আলম পপলু বললেন, এমনটা হয়ে থাকলে তা ঠিক হয়নি।

শিল্পকলার অফিস থেকে পাওয়া তথ্যমতে, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে প্রবন্ধ চাওয়া হলে, দুই বিভাগে অংশ নেয় প্রায় আট হাজার জন। প্রাথমিকভাবে বাছাই করা হয় আড়াই হাজার প্রতিযোগীকে। সেখান থেকে দুই বিভাগে ১১ জন করে ২২ জনকে পুরস্কৃত করা হয়। ফল প্রকাশের পর অনুসন্ধানে দেখা গেছে সহস্রাধিক প্রবন্ধ থেকে বেছে নেওয়া ২২ জনের মধ্যে ১৫ জনই শিল্পকলার কর্মকর্তাদের সন্তান, বন্ধু ও স্বজন। জয়ীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আছেন গবেষণা ও প্রকাশনা বিভাগের উপ-পরিচালক শামীম আখতারের স্বজন। তালিকায় আছে তার ভাইয়ের ছেলেমেয়ে ও মামাতো বোন।

প্রকাশিত ফলাফলের তথ্য বিশ্লেষণে জানা যায়, মাধ্যমিকে প্রথম হয়েছে উপপরিচালক শামীম আখতারের আপন বড় ভাই ইলিয়াস আহমেদের ছেলে। দ্বিতীয় হয়েছে কালচারাল অফিসার জান্নাত বেগমের ছেলে। তৃতীয় হয়েছে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা অসীম কুমার দে’র ছেলে। ষষ্ঠ হয়েছে অডিট অধিদফতরের নাসিমা আনোয়ারের ছেলে। দশম হয়েছে কালচারাল অফিসার সাঈদা তিথির ছেলে। একাদশ হয়েছে অ্যাকাউনটেন্ট হারুনের মেয়ে।

দ্বিতীয় ক্যাটাগরিতে (উচ্চ মাধ্যমিক ও স্নাতক) প্রথম হয়েছেন শামীম আখতারের মামাতো বোন। দ্বিতীয় হয়েছেন শামীমের ভাই আবদুল আজিজের ছেলে। তৃতীয় হয়েছেন তারই এক বন্ধুর মেয়ে। চতুর্থ হয়েছেন শামীমের মামা আলতাফ হোসেনের মেয়ে। পঞ্চম হয়েছেন শিল্পকলার বুলেটিন প্রকাশের কাজ তদারককারী বিপাশ আনোয়ারের মেয়ে। ষষ্ঠ হয়েছেন শামীমের ভাই আবদুল আজিজের ছেলে। সূত্র জানায়, অষ্টম হয়েছেন যিনি তার সঙ্গে শামীমের পাতানো আত্মীয়তা রয়েছে। দশম ও একাদশ হয়েছেন যারা তারা শামীম আখতারের ‘ফেসবুক বন্ধু’।

প্রতিযোগিতায় পরিবারের সদস্যরা যুক্ত হতে পারবে না এমন শর্ত ছিল কিনা প্রশ্নে দায়িত্বরত বিভাগের পরিচালক আশরাফুল আলম পপলু বলেন, এমন কিছু বলা ছিল না। তবে যে কোনও প্রতিযোগিতার এটা সাধারণ নিয়ম।

মাধ্যমিক শাখায় তৃতীয় হয়েছে মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব অসীম কুমার দে’র ছেলে। অসীম কুমার দে বলেন, তার ছেলে পুরস্কৃতদের তালিকায় এসেছে বলে তিনি শুনেছেন। পুরস্কার এখনও হাতে তুলে দেওয়া হয়নি। কোন পদ্ধতিতে কী হয়েছে সেটা তিনি জানেন না বলে জানান।

এদিকে শামীম আহমেদের বড় ভাই ইলিয়াস আহমেদ জানান, তার ছেলের নাম পুরস্কারের তালিকায় এসেছে। এর বাইরে কিছু জানতে চাইলে তিনি শামীমের সঙ্গে কথা বলতে বলেন।

সূত্র জানায়, প্রাথমিক বিভাগে দশম স্থান অধিকার করা প্রতিযোগীর মা শিল্পকলার কালচারাল অফিসার সাঈদা তিথী। যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, তার পরিচিত কেউ পুরস্কার পায়নি। বিজয়ীর নাম তাকে জানানো হলে তিনি বলেন, এ নামে তিনি কাউকে চেনেন না। তবে, তার ফেসবুক প্রোফাইলে গিয়ে দেখা যায় তার ছেলের নাম ও বিজয়ীর নামে মিল রয়েছে।

এদিকে যার বিরুদ্ধে এত অভিযোগ সেই উপপরিচালক শামীম আহমেদ বলেন, ২২ জনের মধ্যে তার ভাইয়ের তিন ছেলে ও মামার মেয়ে আছেন। তবে সেখানে কোনও প্রভাব বিস্তারের বিষয় ছিল না। তিনি বলেন, ‘তারা প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছে। নিজেদের লোক হিসেবে তাদের আমি কিছু বই পড়ার পরামর্শ দিয়েছিলাম, যাতে ভালোমতো লিখতে পারে।’

প্রবন্ধগুলোর প্রাথমিক বাছাইয়ের কাজ করতে ২০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী মিলে কমিটি করা হয়। সেখানে শামীম আহমেদও ছিলেন। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বিজ্ঞাপন অনুযায়ী সঠিকতা নিরূপণের দায়িত্ব ছিল এই কমিটির। শব্দসংখ্যা বা অন্যান্য তথ্যাদি ঠিক আছে কিনা সেসব যাচাই বাছাইয়ে জড়িত ছিলাম।’

গবেষণা ও প্রকাশনা বিভাগের পরিচালক আশরাফুল আলম পপলু বলেন, ‘এই প্রতিযোগিতার আইডিয়া আমার ছিল। কিন্তু শুরু থেকেই আমাকে অনেক বাধার মুখে পড়তে হয়েছে। আগস্টে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও দীর্ঘমেয়াদে সময় নিয়ে করা হয়েছে। আমি বুঝতে পারিনি এর মধ্যে অন্য কোনও পরিকল্পনা কেউ বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে কিনা। যদি সত্যিই আত্মীয়-স্বজনরা পুরস্কার পেয়ে থাকে তবে আমি চাই যথাযথ তদন্ত হোক ও জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।’ উৎস: বাংলা ট্রিবিউন


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ