সিসি নিউজ ।। গরু ক্ষেতের ধান খাওয়ার অভিযোগে কফুরন বিবি (৭২) নামে এক বৃদ্ধাকে বেদম প্রহার করে মাথার চুল কেটে দিয়েছে প্রতিপক্ষরা। প্রতিবেশিরা অসুস্থ্য বৃদ্ধাকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করেছে।
গত সোমবার বিকালে এ ঘটনাটি ঘটেছে নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার বোতলাগাড়ী ইউনিয়নের উত্তর সোনাখুলী গ্রামে জেলেপাড়ায়। নির্যাতনের শিকার ওই বৃদ্ধা একই গ্রামের সমলাপাড়ার মৃত হোসেন আলীর স্ত্রী।
পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় বৃদ্ধার বড় ছেলে কেতাব উদ্দিন নিজে বাদী হয়ে সোমবার রাতেই সৈয়দপুর থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করেছে। এতে জেলেপাড়ার মৃত যোগেশ চন্দ্রের ছেলে সুরেশ চন্দ্র দাস, নরেশ চন্দ্র দাস ও সুরেশের স্ত্রী মুক্তারাণীকে আসামী করা হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ নরেশ চন্দ্র নামে একজনকে গ্রেফতার করেছে।
কেতাব উদ্দিন জানান, মায়ের দুইটি গরু আছে। যেগুলো তিনিই দেখাশোনা করেন। প্রতিদিনের মত ঘটনার দিন সকালে মা তার গরু বাড়ির পাশেই খোলা মাঠে বেঁধে রেখে আসেন। দুপুরে গিয়ে দেখেন গরু দুটো সেখানে নেই। বিকাল পর্যন্ত খোঁজাখুঁজির পর জানতে পারেন ধান খেত নষ্ট করার দায়ে জেলেপাড়ার মুক্তা রাণী গরু ধরে নিয়ে গেছেন।
এ সময় বৃদ্ধা মা গরু আনতে গেলে মুক্তা রানী, সুরেশ ও নরেশের সাথে বাকবিতন্ডা হয়। এক পর্যায়ে তিনজন মিলে বেধরক মারপিট শুরু করে বাড়ির ভিতরে টেনে নিয়ে মাথার চুল কেটে দেয়। পরে গরুসহ বৃদ্ধাকে বাড়ি পাঠিয়ে দেয়। বাড়ি ফেরার পথে বৃদ্ধা অসুস্থ হয়ে মাটিতে পড়ে গেলে প্রতিবেশী আব্দুস সাত্তার, ইয়াকুব আলী, মনোয়ারা বেওয়া, একরামুল হক তাঁকে উদ্ধার করে সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করায়।
সৈয়দপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল হাসনাত খান জানান, ঘটনার পরপরই ৯৯৯ কল পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। অভিযুক্তরা তখন পালিয়ে যায়। পরে রাতে শহরের জসিম বিল্ডিংয়ের পেছন থেকে নরেশ চন্দ্রকে গ্রেফতার করা হয়। অন্য আসামীদের গ্রেফতারে চেষ্টা চলছে।